কিশোরগঞ্জের ভৈরবে যৌথ অভিযানে ডাকাতির প্রস্তুতিকালে ৭ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে গ্রেপ্তারকৃতদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানে হয়।
এরআগে ২৮ জানুয়ারি দিবাগত রাত ২টায় ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের পাক্কারমাথা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এসময় তাদের কাছ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ।
আটককৃত ডাকাত দলের সদস্যরা হলো,উপজেলার শম্ভুপুর শান্তিপাড়া এলাকার লোকমান মিয়ার ছেলে রাজু আহম্মেদ অনিক ওরফে রাজু সরকার (৩২), একই এলাকার রেনু মিয়ার ছেলে সাব্বির হোসেন ওরফে সাদির (২৯), আলী হোসেন মিয়ার ছেলে তানভীর মিয়া (২০), মৃত আক্কেল আলীর ছেলে সাজিজ মিয়া (২৭), পৌর শহরের জগন্নাপুর এলাকার মৃত বরজু মিয়ার ছেলে মনির মিয়ার (৩৮), একই এলাকার লিটন মিয়ার ছেলে রানা (২৫), পঞ্চবটি এলাকার ফায়েজ মিয়ার ছেলে অন্তর মিয়া (২৪)।
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২৯ জানুয়ারি দিবাগত রাত ২টায় উপজেলার কালিকাপ্রসাদের আকবরনগর এলাকায় নিয়মিত ডিউটি পালন করছিলেন ভৈরব থানা এসআই (নিরস্ত্র) আসিবুল হক ভূইয়া। তিনি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কের শম্ভুপুর পাক্কার মাথা এলাকার কররস্থান সংলগ্ন রাজুর অটো গ্যারেজের ভিতর একদল ডাকাত ডাকাতি করার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র শস্ত্রসহ ডাকাতির প্রস্তুতি গ্রহণ করছে। খবর পেয়ে ভৈরব সেনাবাহিনী ক্যাম্পের সদস্যদের সহায়তায় বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে পুলিশ সেনাবাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে অজ্ঞাতনামা ১১/১২ জন ডাকাত দৌঁড়ে পালানোর চেষ্টা করে। এদের মধ্যে থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনী সদস্যরা স্থানীয়দের সহায়তায় ৭ জন ডাকাতকে ধরতে সক্ষম হয়। এসময় রাজুর গ্যারেজ থেকে ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত ১০/১২টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করে।
ভৈরব থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আতাউর রহমান আকন্দ বলেন, শীতের রাতে কুয়াশার আড়ালে সড়ক ও মহাসড়কে ডাকাত সদস্যরা বেশ সক্রীয়।
ভৈরবে বেড়ে যাওয়া ছিনতাই ও ডাকাতি কমাতে থানা পুলিশের বিশেষ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। ২৯ জানুয়ারি দিবাগত রাতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ডাকাত দলের ৭ জন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ ও সেনাবাহিনী। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যাওয়া বাকী ৪/৫ জনকে গ্রেপ্তার অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আসামিরা দীর্ঘদিন যাবত সঙ্গবদ্ধ ভাবে ভৈরব-কিশোরগঞ্জ আঞ্চলিক সড়কে নিয়মিত চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাই করে আসছে। তাদের বিরুদ্ধে ভৈরব থানাসহ আশপাশের বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। চুরি ছিনতাই ও ডাকাতির বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

