সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলায় ঢাকা–বগুড়া মহাসড়কসংলগ্ন চান্দাইকোনা পশুর হাট এলাকায় থ্রি-হুইলারের দখলে চরম বিশৃঙ্খলা দেখা দিয়েছে। এতে হাটে আসা ক্রেতা-বিক্রেতা, পথচারী এবং পশু নিয়ে চলাচলকারীরা প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হচ্ছেন। একই সঙ্গে দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং বাড়ছে দুর্ঘটনার আশঙ্কা।
উত্তরবঙ্গের অন্যতম বড় এই গরু-ছাগলের হাট সপ্তাহে দুই দিন—শনিবার ও মঙ্গলবার—বসে। হাটবারে মহাসড়ক ও এর দুই পাশজুড়ে পশুবাহী থ্রি-হুইলার সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে পড়ে। ফলে পশু নামানো-ওঠানো এবং মানুষের পারাপার মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য, ছোটখাটো দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। এ অবস্থা চলতে থাকলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
মঙ্গলবার ও শনিবার হাটের সময় সরেজমিনে দেখা যায়, গরু-ছাগল নামানো ও ওঠানোর সময় মহাসড়কের একটি বড় অংশ কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের চাপের মধ্যে মানুষ ও পশু নিয়ে চলাচলকারী ক্রেতা-বিক্রেতারা ঝুঁকি নিয়েই রাস্তা পার হচ্ছেন। অনেক সময় নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে এই পারাপার আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও হাট-সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা জানান, পশুর হাট এলাকায় নিরাপদ পারাপারের জন্য কোনো ফুটওভার ব্রিজ বা আন্ডারপাস নেই। পর্যাপ্ত ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার অভাব পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। হাটের দিন শ্যালো ও ইঞ্জিনচালিত স্থানীয়ভাবে তৈরি অননুমোদিত থ্রি-হুইলারগুলো রাস্তার ওপর ও দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকায় চলাচলের পথ সংকুচিত হয়ে যায়।
চান্দাইকোনা বাজার এলাকার গরু ব্যবসায়ী নূরুল হক বলেন, “হাটের দিন রাস্তা পার হওয়াই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। শিশু ও নারীরা তো প্রায় পারই হতে পারে না।”
হোটেল ব্যবসায়ী হজরত আলী বলেন, “চান্দাইকোনা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় একটি ফুটওভার ব্রিজ আছে। কিন্তু হাটের দিনে তার চেয়ে চার গুণ বেশি মানুষ এই জায়গা দিয়ে পার হয়। এখানে অনেক আগেই একটি ফুটওভার ব্রিজ হওয়া দরকার ছিল।”
হাট কমিটির সেক্রেটারি মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, “এই স্থানে ফ্লাইওভার হলে সবচেয়ে ভালো হতো। তবে আপাতত জরুরি ভিত্তিতে একটি ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণই নিরাপদ পারাপারের একমাত্র সমাধান।”
তিনি আরও জানান, হাট উন্নয়নের জন্য কিছু বরাদ্দ পাওয়া গেলেও তা অভ্যন্তরীণ উন্নয়নকাজের জন্য পর্যাপ্ত নয়। পশুবাহী গাড়ির জন্য আলাদা পার্কিং শেড নির্মাণে জায়গা কেনার সক্ষমতা হাট কমিটির নেই। সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে হাটের বিপুল রাজস্ব আয় থেকে জনস্বার্থে এ উদ্যোগ নিতে পারে।
হাটিকুমরুল হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন বলেন, “মহাসড়কে যানবাহনের গতি নিয়ন্ত্রণ ও ঝুঁকিপূর্ণ পার্কিং বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। হাটের দিন জনসমাগম বেশি থাকায় মানুষ ও পশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত সতর্কতা নেওয়া হয়।”
তিনি আরও বলেন, “থ্রি-হুইলার পার্কিং বিষয়ে হাট কমিটির সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। শিগগিরই নির্ধারিত স্থানে পার্কিং নিশ্চিত করা হবে। প্রয়োজনে ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হবে।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

