উপকূলীয় জেলা বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় এখন জমজমাট মাছ উৎপাদন ও বিপণন কার্যক্রম চলছে। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে প্রতিদিন প্রায় অর্ধকোটি টাকার বিভিন্ন প্রজাতির তাজা মাছ রাজধানী ঢাকা সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হচ্ছে। মাত্র ৩–৪ ঘণ্টার মধ্যে এসব মাছ পৌঁছে যাচ্ছে ভোক্তাদের হাতে।
১৬টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত মোরেলগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৪০ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে মৎস্য পেশার সঙ্গে জড়িত। নদী, খাল, পুকুর ও মৎস্য ঘের ঘিরে গড়ে ওঠা এ জনপদের মাছ উৎপাদন স্থানীয় চাহিদার তুলনায় অনেক বেশি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, পদ্মা সেতু চালুর আগে মাছ ঢাকায় পাঠাতে দীর্ঘ সময় লাগত। তখন বরফজাতকরণ ও ফরমালিন ব্যবহারের অভিযোগও ছিল। এতে মাছের গুণগত মান নষ্ট হতো এবং ব্যবসায়ীরা ন্যায্য মূল্য পেতেন না। তবে ২০২২ সাল থেকে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়। বর্তমানে পুকুর ও ঘের থেকে জীবন্ত মাছ ধরে পানিভর্তি ট্রাক ও বিশেষ পরিবহনের মাধ্যমে সরাসরি ঢাকার বাজারে পাঠানো হচ্ছে। মাত্র ৪–৫ ঘণ্টার মধ্যেই এসব মাছ ঢাকার বাজারে পৌঁছে যাচ্ছে।
মোরেলগঞ্জের নদীতীরবর্তী অন্তত ২০টি গ্রামের প্রায় ২০ হাজার ঘের ও ৪ হাজার পুকুর থেকে প্রতিদিন কয়েক শ’ মেট্রিক টন মাছ স্থানীয় আড়ৎদারের মাধ্যমে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে। ঢাকার ভোক্তারা এখন বাজারে গিয়ে উপকূলীয় এই উপজেলার নদী, নালা ও পুকুরের তাজা মাছ সহজেই কিনতে পারছেন।
তবে স্থানীয় পাইকারি ও খুচরা মাছ ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, তারা মাছের ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না। তাদের দাবি, ঢাকার মাছ ব্যবসায়ীরা এখান থেকে কেনা মাছ কেজি প্রতি ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত লাভে বিক্রি করছেন।
মাছ সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়ভাবে শত শত মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। মোরেলগঞ্জের মৎস্য ব্যবসায়ীরা রুই, কাতলা, মৃগেল, ভেটকি, সিলভার কার্প, তেলাপিয়া, ‘হোয়াইট গোল্ড’ নামে খ্যাত চিংড়ি ও গলদা উৎপাদন ও বিপণনে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা রণজিৎ কুমার বলেন, “প্রতিদিন গড়ে দুই শতাধিক মেট্রিক টন মাছ মোরেলগঞ্জ থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ হচ্ছে। মাছের উৎপাদন বাড়াতে সরকারিভাবে মৎস্যজীবীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে এবং আধুনিক মাছ চাষে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

