AB Bank
  • ঢাকা
  • শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

সরিষা ফুলে ভরে উঠেছে চলনবিল: ভাঙ্গুড়ায় মাঠে মাঠে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষিরা


Ekushey Sangbad
ভাঙ্গুড়া উপজেলা প্রতিনিধি, পাবনা
০৫:৩০ পিএম, ১৭ জানুয়ারি, ২০২৬

সরিষা ফুলে ভরে উঠেছে চলনবিল: ভাঙ্গুড়ায় মাঠে মাঠে মধু সংগ্রহে ব্যস্ত মৌচাষিরা

শীতের সকালে সরিষা ফুলের হলুদ রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে চলনবিল অধ্যুষিত পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিস্তীর্ণ মাঠ। ফুলের রেণু সংগ্রহে মৌমাছির অবিরাম যাতায়াতে যেন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে গ্রামবাংলা। এ সময়টা মৌমাছি আর মৌয়ালদের মধু সংগ্রহের উৎসবেই কেটে যায়। হলুদ ফুলে আকৃষ্ট হয়ে মৌমাছিদের আনাগোনা বেড়ে যাওয়ায় মধু সংগ্রহে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৌচাষিরা।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিকেলে সরেজমিনে ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দিগন্তজোড়া সরিষা ফুলের সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে পথচারী ও দর্শনার্থীদের। কৃষকেরা যেমন মাঠে সরিষা পরিচর্যা করছেন, তেমনি খেতের পাশে মৌমাছির বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করছেন মৌচাষিরা।

ভু ভু শব্দ করে মৌমাছির দল সরিষা ফুলে ঘুরে ঘুরে মধু আহরণ করছে। মুখভর্তি মধু সংগ্রহ করে ফিরে যাচ্ছে মৌ-খামারিদের মৌ-বাক্সে। সেখানে তাদের সংগৃহীত মধু জমা করে আবার ফিরে যাচ্ছে সরিষা খেতে। এভাবে মৌমাছিরা যেমন মধু সংগ্রহ করছে, তেমনি ফুলে ফুলে ঘুরে বেড়াতে গিয়ে ওই জমির সরিষা ফুলে পরাগায়ন করতে সহায়তা করছে মৌমাছির দল। এতে সরিষার উৎপাদন বাড়ে। তাই খেতের মালিকেরাও মৌচাষিদের উৎসাহিত করছেন।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ভাঙ্গুড়া উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভায় ৬ হাজার ৬৩৫ হেক্টর জমিতে সরিষার আবাদ হয়েছে। কৃষকেরা উন্নত জাতের বীজ ব্যবহার করায় ভালো ফলনের আশা করা হচ্ছে। এই সরিষা চাষ ঘিরে অন্যান্য বছরের মতো এবারও বিভিন্ন স্থান থেকে ভাঙ্গুড়ায় এসেছেন মৌচাষিরা। এতে সরিষার পরাগায়ন যেমন ভালো হয়, আবার তেলের উৎপাদনও বাড়ে। ফলে কৃষক ও মৌচাষি উভয়ই লাভবান হচ্ছেন।

ভাঙ্গুড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মধু সংগ্রহকারী মৌচাষিরা জানান, প্রতি বছর চলনবিল অধ্যুষিত ভাঙ্গুড়া উপজেলার সরিষা খেত মৌচাষিদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে আসে। সরিষা ফুলের প্রাচুর্যের কারণে মধুর মান ও পরিমাণ-দুটোই ভালো হবে বলে আশা প্রকাশ করছেন তারা।

এ ব্যাপারে উত্তরবঙ্গ মৌচাষী সমিতির সভাপতি মো. আব্দুর রশিদ জানান, অনেক মৌচাষিদের কৃষি প্রণোদনা হিসেবে মৌ-বাক্স দেওয়া হয়েছে।মাঠপর্যায়ে পরামর্শ এবং মৌ-খামারিদের প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সব মিলিয়ে কৃষি বিভাগ সরাসরি উৎপাদন বৃদ্ধিতে কাজ করছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে লক্ষ্যমাত্রা পুরণ হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ভাঙ্গুড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ শারমিন জাহান একুশে সংবাদ. কমকে জানান, সরিষা খেতের পাশে মৌ-বাক্স বসানোর ফলে পরাগায়ন বৃদ্ধি পায় এবং এতে সরিষার ফলন ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ে। এতে কৃষক, মৌ-খামারি এবং সাধারণ ভোক্তা সবাই লাভবান হন। সরিষা ফুলের হলুদ সৌন্দর্য ও মৌমাছির কর্মব্যস্ততা সব মিলিয়ে উপজেলার মাঠ এখন শুধু ফসলের নয়, সম্ভাবনার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!