সন্ধ্যা নামলেই শুরু হয় মাটিখেকোদের আনাগোনা। রাতের গভীরতার সাথে সাথে বেপরোয়া হয়ে ওঠে মাটিদস্যুরা।
অন্ধকার গাঢ় হলেই মাটিবাহী দানবীয় ট্রাক তীব্র আলো জ্বালিয়ে একে একে জড়ো হয় নির্ধারিত স্থানে। ঘড়ঘড় আওয়াজ করে ভেকু মেশিন চালিয়ে খামচি দিয়ে মাটি তুলে সাজিয়ে দেয় ড্রাম ট্রাকে। এরপর মাটিভর্তি ট্রাকগুলো ছুটে যায় ইটভাটার দিকে। সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে এভাবেই রাতের অন্ধকারে সড়ক ও জনপথের মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রি করছে একটি চক্র। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতেই মাটি ব্যবসায়ীরা রাতের অন্ধকারকে বেছে নিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের বিন্নাদাইর মহাসড়কের নীচে সড়ক ও জনপথের ক্যানেলে ভেকু মেশিন লাগিয়ে মাটি কেটে ভরা হচ্ছে ড্রাম ট্রাকে। একে একে ট্রাক ভর্তি করে তীব্র আলোর হেডলাইট জ্বালিয়ে ছুটে চলে সারি সারি ২৫/৩০টি ট্রাক। এসব ট্রাকের বেশিরভাগ ড্রাইভার ক্যামেরার সামনে কথা বলতে না চাইলেও দু`জন ড্রাইভার জানান, তারা শুধু ট্রাকে করে মাটি নিয়ে সাঁথিয়া উপজেলার সিলন্দা বাবলুর ইটভাটায় দিয়ে আসছে। অপরদিকে ভেকু মেশিনের কাছে চেয়ার-টেবিল নিয়ে বসে থাকা মাটির পয়েন্টের ম্যানেজার পরিচয়দানকারী আকাশ জানান, শাহজাদপুর উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি নিয়ে মাটি কাটছে। সরকারের সব নিয়ম মেনেই কাটি কেটে বিক্রি করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
বিষয়টি নিয়ে কথা হলে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, সড়ক ও জনপথের জায়গা থেকে তিনি মাটি কাটছেন না। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কাছ থেকে টেন্ডারের মাধ্যমে অনুমতি পেয়ে নদী খননের বালু কেটে বিক্রি করছেন বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসফিকা হোসেন জানান, খোঁজ নিয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিরাজগঞ্জের সড়ক ও জনপথের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল জানান, লোক পাঠিয়ে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। #
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

