AB Bank
  • ঢাকা
  • শনিবার, ০৬ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী
গৌরবোজ্জ্বল অতীত ম্লান

হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী চুঙ্গাপোড়া পিঠা



হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী চুঙ্গাপোড়া পিঠা

শীত মৌসুমে চুঙ্গাপোড়া পিঠা খাওয়া ছিল মৌলভীবাজার অঞ্চলের মানুষের একটি অনন্য ঐতিহ্য। কয়েক বছর আগেও শীত মৌসুমে মৌলভীবাজার অঞ্চলের মানুষের ঘরে ঘরে চলত ঐতিহ্যবাহী চুঙ্গাপোড়া তৈরির ব্যস্ততা।

শীতের রাতে গ্রামীণ এলাকায় খড়কুটো জ্বালিয়ে এ পিঠা তৈরির সেই দৃশ্য এখন আর চোখে পড়ে না। প্রস্তুত প্রক্রিয়ার জটিলতা, অনাগ্রহ, ঢলু বাঁশ ও  বিন্নি ধানের চাল (বিরই ধানের চাল) সংকটে কালের পরিক্রমায় চুঙ্গা পিঠার গৌরবোজ্জ্বল অতীত এখন অনেকটাই ম্লান। 

মৌলভীবাজারের বড়লেখার পাথরিয়া পাহাড়, জুড়ীর লাঠিটিলা, রাজনগর, কমলগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলার উঁচু-নিচু টিলা, চা-বাগান ও জুড়ী উপজেলার চুঙ্গাবাড়ীতে প্রচুর ঢলু বাঁশ পাওয়া যেত। বনদস্যু, ভূমিদস্যু ও পাহাড়খেকোদের কারণে বনাঞ্চল উজাড় হয়ে যাওয়ায় হারিয়ে গেছে ঢলু বাঁশ। তবে জেলার কিছু কিছু টিলায় সীমিত পরিমাণে ঢলু বাঁশ পাওয়া যায়। পাহাড়ে আগের মতো বাঁশ নেই বলে বাজারে ঢলু বাঁশের দামও বেশ চড়া। ঢলু বাঁশ ছাড়া চুঙ্গাপিঠা তৈরি করা যায় না কারণ এই বাঁশে এক ধরনের তৈলাক্ত রাসায়নিক পদার্থ থাকে, যা আগুনে বাঁশের চুঙ্গাকে না পোড়াতে সাহায্য করে। ঢলু বাঁশে অত্যধিক রস থাকায় আগুনে না পুড়ে ভিতরের পিঠা আগুনের তাপে আগে সিদ্ধ হয়ে যায়। কোনো কোনো অঞ্চলে চুঙ্গার ভেতরে বিন্নি চাল, দুধ, চিনি, নারিকেল ও চালের গুঁড়া দিয়ে পিঠা তৈরি করা হয়। পিঠা তৈরি হয়ে গেলে মোমবাতির মতো চুঙ্গা থেকে পিঠা আলাদা হয়ে যায়। চুঙ্গা পিঠা পোড়াতে প্রচুর পরিমাণে খড়ের (নেরা) দরকার পড়ে। 

স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে, একসময় বাজারে বাজারে মাছের মেলা বসত। মেলা থেকে মাছ কিনে কিংবা হাওর-নদী থেকে ধরা হতো রুই, কাতলা, চিতল, বোয়াল, পাবদা, কই ও মাগুর মাছ। তারপর সেই মাছ হালকা মসলা দিয়ে ভেজে (আঞ্চলিক ভাষায় মাছ বিরাণ) চুঙ্গাপুড়া পিঠা খাওয়া ছিল সিলেট ও মৌলভীবাজারের একটি অন্যতম ঐতিহ্য। বাড়িতে মেহমান বা নতুন জামাইকে চুঙ্গাপুড়া পিঠা মাছ বিরাণ আর নারিকেলের পিঠা পরিবেশন না করলে যেন লজ্জায় যেন মাথা কাটা যেত। এখন আর সেই দিন নেই। চুঙ্গাপিঠা তৈরির প্রধান উপকরণ ঢলু বাঁশ ও বিন্নি ধানের চাল (বিরইন ধানের চাল) সরবরাহ অনেক কমে গেছে। অনেক স্থানে আগের মতো তেমন চাষাবাদও হয় না। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, মৌলভীবাজারের বড়লেখার পাথরিয়া পাহাড়, জুড়ীর লাঠিটিলা, রাজনগর, কমলগঞ্জসহ বিভিন্ন উপজেলার উঁচু-নিচু টিলা, চা-বাগান ও জুড়ী উপজেলার চুঙ্গাবাড়ীতে প্রচুর ঢলু বাঁশ পাওয়া যেত। বনদস্যু, ভূমিদস্যু ও পাহাড়খেকোদের কারণে বনাঞ্চল উজাড় হয়ে যাওয়ায় হারিয়ে গেছে ঢলু বাঁশ। তবে জেলার কিছু কিছু টিলায় সীমিত পরিমাণে ঢলু বাঁশ পাওয়া যায়। পাহাড়ে আগের মতো বাঁশ নেই বলে বাজারে ঢলু বাঁশের দামও বেশ চড়া।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ঢলু বাঁশ ছাড়া চুঙ্গাপোড়া পিঠা তৈরি প্রায় অসম্ভব। কারণ এই বাঁশে একধরনের প্রাকৃতিক তৈলাক্ত রাসায়নিক উপাদান থাকে, যা আগুনে বাঁশকে সহজে পুড়ে যেতে বাধা দেয়। ঢলু বাঁশে অতিরিক্ত রস থাকায় আগুনে দেওয়ার পর বাঁশ না পুড়ে ভেতরের পিঠা আগুনের তাপে ধীরে ধীরে সেদ্ধ হয়ে যায়। মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ঢলু বাঁশ বিক্রেতা হীরা দাশ বলেন, ‍‍`আগে দিনে ১০-১৫ আঁটি বাঁশ পাহাড় থেকে সংগ্রহ করা যেত। এখন ঢলু বাঁশ এতটাই কমে গেছে যে সারাদিনে ২ বা ৩ আঁটি বাঁশ সংগ্রহ করা যায়।‍‍` 

পিঠা তৈরি করার জন্য কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজারে ঢলু বাঁশ কিনতে আসা পিন্টু ও প্রনীত দেবনাথ জানান, কমলগঞ্জ উপজেলা একটি পাহাড়বেষ্টিত উপজেলা। একসময় এখানে প্রচুর পরিমাণে ঢলু বাঁশ পাওয়া যেত। আগেকার দিনে ঘরে ঘরে নানান স্বাদের চুঙ্গাপোড়া পিঠা বানানো হতো। আমরা শীতের দিনে আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে চুঙ্গা পিঠার নিমন্ত্রণ পেতাম। কী যে মজা হতো এটা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষেও বাজারে আগের মতো ঢলু বাঁশ পাওয়া যাচ্ছে না। কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসেছে।

জুড়ীর প্রবীণ বাসিন্দা মুজিবুর রহমান জানার, চুঙ্গাপোড়া পিঠা একটু ধৈর্য ধরে বানাতে হয়। চুঙ্গার ভেতরে লুকিয়ে থাকে মনোমুগ্ধকর এক অনন্য স্বাদ। উদ্যোগ ও সংরক্ষণ না হলে সিলেট অঞ্চলের এই প্রাচীন ঐতিহ্য ভবিষ্যৎ প্রজনোর কাছে শুধুই ইতিহাস হয়ে থাকবে। 

স্থানীয় লেখক ও কবি সাজ্জাদুল হক স্বপন জানান, মৌলভীবাকারের প্রাচীন ঐতিহ্য পিঠে-পুলির অন্যতম চুঙ্গাপোড়া পিঠা। পিঠা তৈরির জন্য ঢলু বাঁশ খুব কম পাওয়া যায়। আগের মতো আর নেই। প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

 

 

একুশে সংবাদ/ওজি

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!