ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যার বিচার এবং মৌলভীবাজারের রাজনগরে জুলাইযোদ্ধা আব্দুর রহমানকে মুন্সিবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাহেল হোসেন কর্তৃক সড়ক থেকে তুলে নিয়ে মারধরের ঘটনার প্রতিবাদে রবিবার (২৮ ডিসেম্বর) দুপুরে মৌলভীবাজার শহরে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জেলার জুলাইযোদ্ধাদের উদ্যোগে আয়োজিত কর্মসূচিতে বিক্ষোভকারীরা জুলাইযোদ্ধাকে মারধরের ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অভিযুক্ত আওয়ামী লীগ নেতা ও চেয়ারম্যান রাহেল হোসেনকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।
এ সময় মানববন্ধনকারীরা শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকারীদের বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। ‘বিচার বিচার চাই, হাদি হত্যার বিচার চাই’, ‘জাস্টিস জাস্টিস, উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘আমরা সবাই হাদি হব, যুগে যুগে লড়ে যাব’—এ ধরনের স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে কর্মসূচি।
প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তারা বলেন, শহীদ শরিফ ওসমান হাদি হত্যার ঘটনার কয়েক সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও এখনো মূল আসামিদের গ্রেপ্তার করতে ব্যর্থ হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যে সরকার একটি হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে পারে না এবং আসামি গ্রেপ্তারে অক্ষম, সেই সরকারের পক্ষে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করাও সম্ভব নয়।
অন্যদিকে জেলার শ্রীমঙ্গলে চৌমুহনা এলাকায় সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন ছাত্র-জনতা। অবরোধের কারণে কিছু সময় যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এতে উভয় লেনে প্রায় এক কিলোমিটার যানজটের সৃষ্টি হয়। খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশের দুটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে যান চলাচল স্বাভাবিক করে দেয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, শতাধিক ছাত্র-জনতা একত্র হয়ে চৌমুহনা সড়কে জড়ো হয়ে হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া কলেজ শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান ও ইসলামী ছাত্র ঐক্য পরিষদের নাঈম হাসান বলেন, ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের ডাকা বিভাগীয় কর্মসূচির সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করে আমরা মাঠে নেমেছি। আমাদের সঙ্গে সর্বস্তরের ছাত্র-জনতাও অংশ নিয়েছেন। হত্যার বিচার না হওয়া পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন চলবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

