মৌলভীবাজার জেলাজুড়ে শীতের দাপট দেখা যাচ্ছে। বৃহস্পতিবার সকাল থেকে কনকনে হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন মৌলভীবাজারের আকাশ। বেলা গড়িয়ে গেলেও এখনো দেখা মেলেনি সূর্যের। পুরো জেলায় জেঁকে বসেছে শীত। শীত থেকে বাঁচতে সকালে ভারী শীতবস্ত্র পরে কর্মস্থল ও অফিসমুখী হয়েছেন শহরের মানুষ। সবচেয়ে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের শ্রমজীবি মানুষ।
জেলার শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার চায়ের রাজ্যে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৫দশমিক ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে ,আকাশ ঘন কুয়াশায় ঢেকে থাকায় সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত জেলার কোথায়ও দেখা মেলেনি সূর্যের। হিমেল হাওয়া আর ঘন কুয়াশায় শীতের তীব্রতায় কাবু হয়ে পড়েছে হাওর-পাহাড়, টিলা ও চা বাগান বেষ্টিত
জেলার জনজীবন। শীতের তীব্রতায় খুব প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছেন না সাধারণ মানুষ। এতে চরম বিপাকে পড়েছেন নিম্ন আয়ের মানুষজন। ঘন কুয়াশায় দুর্ঘটনা এড়াতে দিনের বেলাতেও সড়কে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করছে যানবাহনগুলো।
শ্রীমঙ্গল ভাড়াউড়া চা বাগানের চা শ্রমিক সুুকেন তাঁতী বলেন, সকাল থেকে ঘন কুয়াশা এবং কনকনে বাতাসে কাজ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকারিভাবে এখনো গরীব-দুঃখী মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়নি।
শহরতলীর মুসলামবাগ এলাকার রিকশাচালক মনির মিয়া বলেন, ঘন কুয়াশা আর ঠান্ডা বাতাস। মানুষ বের হতে পারছেন না। আজ সকালে অটোরিকশা নিয়ে বের হয়ে একটা ভাড়াও পাইনি। শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ার কারণে মানুষের চলাচল কমে গেছে। এখন আমাদেরও আয় কমে যাবে। শীতকাল আমাদের জন্য খুবই কষ্টের।
কমলগঞ্জ এলাকার দিনমজুর শাহিন মিয়া বলেন, কাজ পাব সেই আশায় শীতের মধ্যেই ভোরবেলায় শহরে আসতে হয়। কখনো কাজ পাই, কোনোদিন শীতের কারণে কাজ জোটে না। কাজ না করলে তো সংসার চলবে না।
এদিকে শীতের প্রকোপে জেলা সদর হাসপাতালসহ উপজেলার প্রতিটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বেড়েছে রোগ। হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সর্দি-কাশি, ঠান্ডা, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, হাঁপানিসহ শীতজনিত নানা রোগ নিয়ে শিশু এবং বয়স্করা ভর্তি হয়েছেন।
শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মুজিবুর জানান, আজ সকাল ৯টায় শ্রীমঙ্গলে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১৫ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাপমাত্রা নিচে নামার কারণে চলতি সপ্তাহ থেকে জেলায় শীত পুরোপুরি শুরু হয়েছে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

