ঘন কুয়াশা আর কনকনে ঠান্ডায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের জনজীবন। শীতের তীব্রতায় জেলার গ্রাম ও শহর—উভয় এলাকাতেই স্বাভাবিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। কুয়াশার ঘনত্ব এতটাই বেশি যে দিনের বেলাতেও সড়কে যানবাহনকে হেডলাইট জ্বালিয়ে চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে।
টানা কয়েক দিনের হাড়কাঁপানো শীতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, নারী ও বয়স্করা। অনেকের কাছে পর্যাপ্ত শীতবস্ত্র না থাকায় কষ্ট আরও বেড়েছে। এর পাশাপাশি জেলায় সর্দি, কাশি, জ্বর ও শ্বাসকষ্টসহ শীতজনিত রোগের প্রকোপ বাড়ছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের ও দুস্থ মানুষ এসব রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগার জানায়, বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় কুড়িগ্রামে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল শতভাগ।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার প্রায় সাড়ে চার শতাধিক চরাঞ্চলে শীতের তীব্রতা দিন দিন বাড়ছে। কুয়াশা এত ঘন যে বৃষ্টির মতো ঝরে পড়ছে, ফলে জীবিকার তাগিদে কাজে বের হওয়া মানুষেরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। কৃষকদের মধ্যেও উদ্বেগ বাড়ছে—তীব্র ঠান্ডায় সবজি ক্ষেত ও বীজতলা ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
কুড়িগ্রাম পৌর শহরের ভেলাকোপা এলাকার হোটেল শ্রমিক আনিছুর রহমান (৪০) বলেন, রাতভর প্রচণ্ড ঠান্ডা থাকে, দিনের বেলাতেও তেমন স্বস্তি নেই। তবুও কাজ না করলে সংসার চালানো সম্ভব নয়, তাই বাধ্য হয়ে বের হতে হচ্ছে।
উলিপুর উপজেলার বজরা ইউনিয়নের কৃষিশ্রমিক আব্দুল জলিল (৫০) জানান, কয়েক দিন ধরে ঠান্ডার কারণে কাজে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। হাত-পা বরফের মতো ঠান্ডা হয়ে যায়, তবুও জীবিকার তাগিদে বের হতে হচ্ছে।
ঘোগাদহ ইউনিয়ন থেকে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে আসা রবিউল ইসলাম (৫৫) বলেন, তার সন্তানের কয়েক দিন ধরে জ্বর ও সর্দি রয়েছে। গ্রাম্য চিকিৎসায় কাজ না হওয়ায় হাসপাতালে এসেছেন।
কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আল-আমিন মাসুদ বলেন, শীতের সময় শিশুদের প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। কুয়াশা ও ঠান্ডা এড়িয়ে চলতে হবে এবং অপ্রয়োজনে শিশুদের বাইরে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।
রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র জানান, চলতি সপ্তাহে জেলায় মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে শীতের তীব্রতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

