শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে ডা. শফিকুল ইসলামের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই হাসপাতালজুড়ে ইতিবাচক পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। স্থানীয় এই কৃতি সন্তান দায়িত্ব নিয়েই হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও দীর্ঘদিনের অনিয়ম দূর করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
দায়িত্ব গ্রহণের পর ডা. শফিকুল ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল হাসপাতালের অভ্যন্তরে সক্রিয় একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট ভেঙে দেওয়া। তাঁর এই সাহসী উদ্যোগের ফলে হাসপাতালের সেবায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে সেবার পথে যে প্রতিবন্ধকতা ছিল, তা দূর হওয়ায় সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন।
হাসপাতালের পরিবেশ উন্নয়নে ডা. শফিকের উদ্যোগ ইতোমধ্যে চোখে পড়ার মতো। দালালচক্রের উৎপাত বন্ধে তিনি কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন এবং এ বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের সক্রিয় সহযোগিতা চেয়েছেন। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের নিরাপত্তা ও স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত হচ্ছে।
রোগীদের খাবারের মান নিয়ে পূর্বে ব্যাপক অভিযোগ থাকলেও বর্তমানে ক্যাটারিং সার্ভিসের মাধ্যমে খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়েছে এবং এর গুণগত মানও উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ পরিবর্তন রোগীদের দ্রুত আরোগ্য লাভে সহায়ক ভূমিকা রাখছে।
ডা. শফিকুল ইসলাম একজন সৎ ও নির্ভীক চিকিৎসক হিসেবে পরিচিত। তাঁর নেতৃত্বে হাসপাতাল প্রশাসন দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) অভিযানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করেছে, যা তাদের স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতিকেই তুলে ধরে। এ ধরনের উদ্যোগ ছোটখাটো অনিয়ম সংশোধনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যদিও সরকারি হাসপাতাল হিসেবে চিকিৎসক সংকট এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের সীমিত সরবরাহ একটি বড় চ্যালেঞ্জ, তবুও ডা. শফিক ও তাঁর দল সীমিত সম্পদের মধ্যেই প্রতিদিন প্রায় ১৫০ জন রোগীকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। রোগীদের স্বার্থে চিকিৎসকরা উন্নত ও বিস্তারিত ব্যবস্থাপত্র প্রদান করছেন, যাতে তারা সঠিক চিকিৎসা পান।
হাসপাতালের সার্বিক অবস্থা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. শফিকুল ইসলাম বলেন,“আমরা শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে শুধু একটি চিকিৎসাকেন্দ্র নয়, বরং মানুষের ভরসার ঠিকানায় পরিণত করতে চাই। আমি এখানে কাজ করতে এসেছি, কোনো সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দিতে নয়।”
তিনি আরও বলেন,“চিকিৎসক ও প্রয়োজনীয় ওষুধের ঘাটতি একটি বাস্তবতা। তবে সীমিত সম্পদ দিয়েও সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে আমরা বদ্ধপরিকর। জনগণ আমাদের ওপর যে আস্থা রাখছেন, তার প্রতিদান দেওয়াই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। সবার সহযোগিতা পেলে অচিরেই এই হাসপাতালের চিত্র বদলে যাবে।”
সেবার মান উন্নয়ন নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রোগী ও তাদের স্বজনরাও।
টেংরা গ্রামের বাসিন্দা তাজুল ইসলাম (৫০), বহির্বিভাগের রোগী, বলেন,“আগে ডাক্তারের সিরিয়াল পেতে দালালদের টাকা দিতে হতো, খাবারের মানও ছিল খুব খারাপ। এখন আর সেই ঝামেলা নেই। ডা. শফিক নিজে তদারকি করেন, হাসপাতাল অনেক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন হয়েছে। প্রেসক্রিপশনও আগের চেয়ে ভালোভাবে লেখা হয়।”
তেলিহাটি এলাকার ফরিদা বেগম (৩২), এক ভর্তি রোগীর স্বজন, বলেন,“আমার মায়ের ভর্তির পর থেকে দেখছি খাবার গরম ও মানসম্মত। কর্মচারীরাও এখন অনেক সহযোগিতাপূর্ণ। আগে সরকারি হাসপাতাল মানেই ভোগান্তি মনে হতো, এখন সেই ধারণা বদলে গেছে।”
ডা. শফিকুল ইসলামের আন্তরিক প্রচেষ্টা ও জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে একটি জনবান্ধব ও সেবামুখী প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার পথে এগিয়ে নিচ্ছে। আশা করা যায়, বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে তাঁর নেতৃত্বে এই হাসপাতাল অচিরেই জেলার অন্যতম আদর্শ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে পরিণত হবে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

