জমকালো আয়োজনে বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক্স বিজনেস এসোসিয়েশন (বিইবিএ)`র কেন্দ্রীয় কমিটির বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) ২০২৫ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ীদের এক সাথে, একটি প্লাটফর্মে অধিকার আদায়ে, অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক বছর আগে এই সংগঠনটির আত্মপ্রকাশ ঘটে।
শনিবার (৩০ আগষ্ট) রাজধানীর নয়াপল্টন জোনাকি কনভেনশন হলে এই সভার আয়োজন করে সংগঠনটি। সভায় সারাদেশ থেকে আগত কেন্দ্রীয় কমিটি, জেলা কমিটির প্রায় তিন শতাধিক বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক্স বিজনেস এসোসিয়েশন (বিইবিএ)`র সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দেশের ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ীদের অধিকার ও স্বার্থ সংরক্ষণ, সদস্যদের মধ্যে পারস্পরিক সহমর্মিতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধি, ন্যায্য বাণিজ্যিক পরিবেশ প্রতিষ্ঠা এবং সংগঠনের মাধ্যমে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠ গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়। সংগঠনের মূলমন্ত্র হিসেবে ঘোষণা করা হয়— “ঐক্যই শক্তি; সৎ ব্যবসা, ন্যায্য অধিকার ও পারস্পরিক বিশ্বাসের মাধ্যমে এক শক্তিশালী ইলেকট্রনিক্স ব্যবসায়ী সমাজ গড়ে তোলা।”

সভায় সভাপতির বক্তব্যে আবুল কাশেম খোকন বলেন, “বিগত এক বছরেরও বেশি সময় আগে কিছু সদস্যকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সকল সভায় নিমন্ত্রণ জানানো হলেও তারা উপস্থিত হননি। তাদের কর্মকাণ্ডে কোনো স্বচ্ছতা আমরা পাইনি। সংগঠনকে শক্তিশালী করতে আজকের এজিএম অনুষ্ঠিত হচ্ছে। অতি দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন সম্পন্ন করে যোগ্য নেতৃত্বের মাধ্যমে সংগঠনকে সংস্কার করা হবে। আমরা চাই, সংগঠন সুষ্ঠু ও শক্তিশালীভাবে পরিচালিত হোক।”
তিনি অভিযোগ করে বলেন, “বহিষ্কৃতদের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযোগ রয়েছে। তারা অনুমতিবিহীন সভা বা মিটিং আয়োজন করেছে, কার্যকরী ও কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমতি ছাড়াই জেলা কমিটি উপেক্ষা করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছে। তারা সংগঠনকে বিভ্রান্ত ও দুর্বল করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা প্রচার চালিয়েছে এবং সদস্যদের ভুল পথে প্ররোচিত করে সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িয়েছে।
এছাড়াও তারা কার্যকরী কমিটির সিদ্ধান্ত ও গঠনতন্ত্র অস্বীকার করে সংগঠনের ঐক্য নষ্টের চেষ্টা করেছে এবং সাধারণ সদস্যপদ বাতিল সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ লঙ্ঘন করেছে। তারা সংগঠনের নাম ব্যবহার করে অনুমতিবিহীনভাবে নতুন সদস্যপদ বা চাঁদা আদায়ও করেছে। যা আমাদের সংগঠন বহির্ভূত।
এ সময় সাধারণ সম্পাদক মোঃ একরামুল হক পাটোয়ারী বলেন, “যেসব ব্যক্তিকে বহিষ্কার করা হয়েছে তাদের নানা রকম অভিযোগ রয়েছে। আমরা চাই, সদস্যরা সংগঠনকে বিভ্রান্ত না করে ন্যায্য পথে চলুক। এ কারণে উক্ত সদস্যদের সমস্ত সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি এবং সাধারণ সদস্যপদ স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তাদের যেকোনো ধরনের সাংগঠনিক কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।”
তিনি আরও জানিয়েছেন, “এই সময়ে বহিষ্কৃতরা সংগঠনের নাম, সাংগঠনিক পদবী, সাধারণ সদস্যপদ বা ব্যানার কোনোভাবেই ব্যবহার করতে পারবেন না। কেউ যদি এই নির্দেশ অমান্য করে সংগঠনের নামে কার্যক্রম চালান, তবে তা সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপ হিসেবে গণ্য হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
সদস্য পথ থেকে অব্যাহতি দেওয়া সদস্যরা হলেন- মো. শামীম হোসেন, সিনিয়র সহ-সভাপতি (কেন্দ্রীয় কমিটি), আরফান উদ্দিন চৌধুরী (শিমুল), যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক (কেন্দ্রীয় কমিটি), গোলাম মোস্তফা, সহ-সভাপতি (কেন্দ্রীয় কমিটি), মো. আশরাফ হোসেন, সহ-সভাপতি (কেন্দ্রীয় কমিটি), মো. ফয়সাল ভূঁইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (কেন্দ্রীয় কমিটি), ইমাম হোসেন উজ্জ্বল, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (কেন্দ্রীয় কমিটি), মো. আবু সায়েম, সাধারণ সম্পাদক (টাঙ্গাইল জেলা), মো. মামুনুর রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক (টাঙ্গাইল জেলা), মো. ওয়াহিদুজ্জামান, সদস্য, জনাব তাজ হোসেন তারেক, সদস্য।
সভা শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এজিএমের মাধ্যমে পুরনো দ্বন্দ্ব নিরসন, নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন এবং নীতিগত স্বচ্ছতার ভিত্তিতে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী দিনে সকলের প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ ইলেকট্রনিক্স বিজনেস এসোসিয়েশন (বিইবিএ) এর শক্তিশালী নেতৃত্ব গঠন হবে।
একুশে সংবাদ/রাফি/বাবু/এ.জে