AB Bank
  • ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

পদ্মার ভাঙনে আশ্রয়ণ প্রকল্পও ঝুঁকিতে



পদ্মার ভাঙনে আশ্রয়ণ প্রকল্পও ঝুঁকিতে

ফরিদপুরে পদ্মার ভাঙনে জিও ব্যাগ ফেলেও  রোধ করা যাচ্ছে না  নদীর ভাঙন। এতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পদ্মা পাড়ের বাসিন্দারা, আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ দুই শতাধিক বসতবাড়ি এখনও ঝুঁকিতে। গত অর্থবছরের শেষের দিকে এ ভাঙন রোধে প্রায় আড়াই কোটি টাকার জিও ব্যাগ ফেলা হলেও কোনও কাজে আসেনি তা।

পদ্মার তীরবর্তী বাসিন্দাদের চোখের সামনেই পদ্মায় বিলীন হচ্ছে বসতভিটা ও ফসলি জমি। নিঃস্ব মানুষ এখন মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজতে দিশেহারা।

সদর উপজেলার ডিক্রিরচর ইউনিয়নের চরাঞ্চল পালডাঙ্গি এলাকায় গত ১৫ দিন ধরে চলছে নদী ভাঙন। এরই মধ্যে নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের অনেকে সরিয়ে নিয়েছেন বসতভিটা। কেউ কেউ রাস্তার ধারে বা নদীর পাড়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন খোলা আকাশের নিচে। হুমকিতে রয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্পসহ দুই শতাধিক বসতবাড়ি। গত অর্থবছরের শেষের দিকে ভাঙন রোধে প্রায় আড়াই কোটি টাকার জিও ব্যাগ ফেলেও কাজে হয়নি।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, নদী ভাঙন রোধে ওই এলাকায় ভাঙনকবলিত সাড়ে ৮০০ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছিল। বরাদ্দ কম আসায় ১৯২ মিটার এলাকায় জিও ব্যাগ ও সেন্ট সিমেন্ট ব্যাগ ফেলা হয়। ২ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে ৪১ হাজার ৯৮৬ বস্তা জিও ব্যাগ ও ৪ হাজার ৯৮৯ বস্তা সেন্ট সিমেন্ট ব্যাগ ফেলা হয়। কাজ সম্পন্ন হয় গত ১৫ জুন।

স্থানীয় বাসিন্দা কাশেম শেখ বলেন, জিও ব্যাগ ফেলার এক মাসের মধ্যেই দেখা দেয় ভাঙন। ভাঙনে কিছু অংশ বিলীনও হয়ে গেছে। বর্ষা মৌসুমে জিও ব্যাগ ফেলায় ভাঙনরোধে কোনো কাজে আসেনি। তাছাড়া ভাঙন কবলিত সম্পূর্ণ এলাকায় জিও ব্যাগ না ফেলানোয় এ সমস্যা দেখা দিয়েছে।

আরেক বাসিন্দা শামছু শেখ বলেন, জিও ব্যাগ ফেলার মধ্যেও অনিয়ম ছিল। নামকাওয়াস্তে এগুলো ফেলা হয়। কাজ চলাকালেই বালুর কিছু বস্তা নদীতে বিলীন হয়ে যায়। কেবল স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলেই রক্ষা পাবো আমরা।

নদী পাড়ের বাসিন্দা সাত্তার মল্লিক বলেন, পাশে রয়েছে আশ্রয়ণ প্রকল্প। যেভাবে ভাঙছে তাতে করে আশ্রয়ণ প্রকল্পও ঝুঁকিতে রয়েছে। কয়েকদিন আগে আমার বসতবাড়ি সরিয়ে নিয়েছি। আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর ফাঁকা ছিল, সেখানে আপাতত রয়েছি। ভাঙনরোধ করা না গেলে এখানেও থাকতে পারবো না।

তিনি আরও বলেন, ‘চার বার বাড়ি সরিয়েছি। আর কতবার সরাতে হবে আল্লাহ জানে। জিও ব্যাগ ফেলে ভাঙনরোধ করা সম্ভব নয়। এখানে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হলে আমরা বেঁচে যাবো।’

আরেক বাসিন্দা বজলু শেখ বলেন, গত দুই বছরে প্রায় দেড় কিলোমিটার অংশ নদীতে বিলীন হয়েছে। শতাধিক বসতবাড়ি ও ফসলি জমি বিলীন হয়েছে। বারবার নদী সব কিছু নিয়ে যায়। পরিবার-পরিজন নিয়ে কতবার ঘর বাঁধা যায়!

পাউবোর ফরিদপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতিম সাহা বলেন, বরাদ্দ কম আসায় কিছু অংশের কাজ করা হয় পরীক্ষামূলকভাবে। কিন্তু দেখা গেলো এভাবে ভাঙন রোধ করা সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, কেবল স্থায়ীভাবে বাঁধ নির্মাণ করলে ভাঙন রোধ করা সম্ভব হবে। কাজ করার সময়ও ভাঙনে কিছু অংশ বিলীন হয়ে গেছে। তবে কাজে কোনো অনিয়ম হয়নি। স্থায়ীভাবে বাঁধের বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে।

 

একুশে সংবাদ/সা.আ

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!