শনিবার (৯ মে) মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (মাভাবিপ্রবি)-এ “Bridging the Theory-Practice Gap in Science Education in Bangladesh” শীর্ষক একটি গবেষণাভিত্তিক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের মাল্টিপারপাস বিল্ডিং-এর ২য় তলায় আয়োজিত এ সেমিনারটি আয়োজন করে Kekuleon Research and Training Center (KRTC)। উক্ত সেমিনারে বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষায় তাত্ত্বিক জ্ঞান ও ব্যবহারিক দক্ষতার মধ্যে বিদ্যমান ব্যবধান কীভাবে কমিয়ে আনা যায় এ বিষয়েই আলোকপাত করেন আলোচকগণ।
আলোচনায় বক্তারা দেশের বিজ্ঞান শিক্ষার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সীমাবদ্ধতা তুলে ধরেন। এর মধ্যে রয়েছে সীমিত ল্যাবরেটরি প্রশিক্ষণ, শ্রেণিকক্ষের জ্ঞান ও বাস্তব প্রয়োগের দুর্বল সংযোগ, স্নাতক পর্যায়ে গবেষণার অভিজ্ঞতার অভাব এবং উচ্চশিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতির ঘাটতি।
বক্তারা বলেন, এসব সমস্যা শুধু শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা জাতীয় উন্নয়ন, দক্ষ জনশক্তি গঠন এবং কর্মসংস্থানের সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পৃক্ত।
সম্ভাব্য সমাধান হিসেবে কেআরটিসি একটি সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক মডেল উপস্থাপন করে, যেখানে একাডেমিক শিক্ষা, ল্যাবভিত্তিক অনুশীলন, গবেষণা কার্যক্রম, মেন্টরিং, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সমাজভিত্তিক বৈজ্ঞানিক উদ্যোগকে একসঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেকুলিয়ন রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মো. জাকারিয়া হোসেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষায় তত্ত্বের ওপর বেশি জোর দেওয়া হলেও ব্যবহারিক দক্ষতার ঘাটতি রয়ে গেছে।
এই ব্যবধান দূর করতে গবেষণা, ল্যাবভিত্তিক শিক্ষা এবং বাস্তবমুখী প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব বাড়াতে হবে। তাত্ত্বিক জ্ঞান এবং ব্যবহারিক দক্ষতার মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করতেই KRTC কাজ করে যাচ্ছে। ”
সেমিনারে কেআরটিসি-এর পরিকল্পিত প্রশিক্ষণ কাঠামোও উপস্থাপন করা হয়। এতে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, পিএইচডি প্রার্থী, নবীন গ্র্যাজুয়েট এবং পেশাজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রস্তাবিত কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে মেধাভিত্তিক বৃত্তি, স্বল্প খরচে প্রশিক্ষণ, সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের সহায়তা, ল্যাব দক্ষতা উন্নয়ন, পরিবেশ সচেতনতা, শিক্ষার্থী স্বেচ্ছাসেবী কার্যক্রম এবং কমিউনিটি হেলথ উদ্যোগ।
সেমিনারটি পরিচালনায় দিকনির্দেশনা দেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. শাহান শাহরিয়ার এবং ড. দিলীপ কুমার সরকার। তারা শিক্ষার্থীদের গবেষণায় আগ্রহী করে তোলার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।এছাড়া অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য দেন মাভাবিপ্রবির স্টুডেন্টস ওয়েলফেয়ার অ্যান্ড কাউন্সেলিং সেন্টারের পরিচালক মো. ফজলুল করিম।
অনুষ্ঠিত সেমিনারের মাধ্যমে দেশে ফলিত বিজ্ঞান শিক্ষা, গবেষণা সংস্কৃতি এবং বিকেন্দ্রীভূত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার সম্ভাবনা নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। শেষে বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সংস্থা এবং শিল্পখাতের অংশগ্রহণে সমন্বিত উদ্যোগ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও গবেষকরা অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবিষ্যতেও এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের জন্য গবেষণা ও উচ্চশিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করা হবে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

