AB Bank
  • ঢাকা
  • বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

বিশ্ব বই দিবস ও রাকিনের বইয়ের জগৎ



বিশ্ব বই দিবস ও রাকিনের বইয়ের জগৎ

বই শুধু জ্ঞানের ভাণ্ডার নয়, এটি মানুষের চিন্তা, অনুভূতি ও কল্পনার এক অনন্ত জগৎ। বিশ্ব বই দিবস সেই জগৎকে নতুনভাবে উপলব্ধি করার একটি বিশেষ উপলক্ষ। এই উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ১০০টিরও বেশি বই সংগ্রহ করে বইপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী মো. সিদরাতুল মুনতাহা রাকিন।

বিশ্ববিদ্যালয়! এই ছোট্ট শব্দটির মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে আবেগ, স্বপ্ন আর নতুন জীবনের গল্প। এই জীবনের শুরুতেই আমার বইয়ের সাথে পথচলা শুরু হয়। বাসা থেকে নিয়ে এসেছিলাম “গর্ভধারিণী” নামে সমরেশ মজুমদারের একটি বই। প্রথমে মাত্র ৪০ পৃষ্ঠা পড়লেও অনেক পরে, ২০২৩ সালে এসে আমি বইটি সম্পূর্ণ শেষ করি। আর সেখান থেকেই শুরু হয় আমার বই সংগ্রহের যাত্রা।

এরপর ধীরে ধীরে সমরেশ মজুমদারের প্রায় ২৫,২৬টি বই আমি পড়েছি এবং ৩০টিরও বেশি বই সংগ্রহ করেছি। তাঁর লেখা পড়ে মনে হয়েছে “একটি জীবন হয়তো খুব ছোট, কিন্তু ভালোবাসা ও বইয়ের জগৎ অশেষ।” বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমি আরও গভীরভাবে প্রবেশ করি বাংলা সাহিত্যের মহারথীদের জগতে।

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা আমার হৃদয়ে গভীর ছাপ ফেলেছে। বিশেষ করে তাঁর “শেষের কবিতা” বইটি। প্রথমবার পড়েছিলাম ক্লাস নাইনে, তখন সবটা বুঝতে পারিনি। কিন্তু পরে প্রায় ১০ বারেরও বেশি পড়ার পর প্রতিবারই মনে হয়েছে যেন নতুন কিছু আবিষ্কার করছি।

লাবণ্য ও অমিতের ভালোবাসার দ্বন্দ্ব আজও আমাকে ভাবায়। তাই বলা যায়, রবীন্দ্রনাথের লেখা শুধু গল্প নয় এটি অনুভূতির এক অদৃশ্য জগৎ। এছাড়াও আমার সংগ্রহে রয়েছে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, কাজী নজরুল ইসলাম, বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়, জীবনানন্দ দাশ, হুমায়ূন আহমেদ, জাফর ইকবাল, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়, তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়, আরিফ আজাদসহ আরও অনেক লেখকের বই।

বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে আমি রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ফজলুল হক পলাশ স্যারের সাথে পরিচিত হই, যিনি নিজেও একজন লেখক এবং ১৫টিরও বেশি বই লিখেছেন। তাঁর লেখা “গাঙচিল ও আমি” আমার খুব প্রিয় একটি বই। তিনি আমাকে বই উপহার দিয়েছেন এবং পড়ার প্রতি অনুপ্রেরণা জুগিয়েছেন। তিনি একবার বলেছিলেন  “মন খারাপ থাকলে বই পড়ো, মন ভালো থাকলেও বই পড়ো বই পড়া কখনো থামানো যাবে না।”

আমি কখনো ভাবিনি বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে ১০০টির বেশি বই সংগ্রহ করতে পারব। কিন্তু আলহামদুলিল্লাহ, তা সম্ভব হয়েছে। বইয়ের জগতে প্রবেশ করা যেমন কঠিন, তার চেয়েও কঠিন হলো সেখান থেকে বের হওয়া কারণ একবার যে বইয়ের প্রেমে পড়ে, সে আর কখনো পুরোপুরি দূরে যেতে পারে না। সাহিত্যের এই জগৎ আমাদের অনুভূতিকে আরও সমৃদ্ধ করে, আমাদের চিন্তাকে আরও বিস্তৃত করে। তাই আসুন, বইকে ভালোবাসি এবং ভালোবাসার মানুষকে বই উপহার দিই।

শেষে একটি ছোট্ট কবিতা
“বইয়ের পাতায় জ্ঞানের মেলা, প্রিয়জনের চোখে স্বপ্ন খেলা।
একটি হাতে প্রজ্ঞা ভাসে, অন্য হাতে হৃদয় হাসে।
অক্ষর আর ভালোবাসায় জীবন আমার ধন্য হয়,
দুই ভুবনের মাঝে আমি খুঁজে ফিরি আশ্রয়।”

সকলকে বিশ্ব বই দিবসের আন্তরিক শুভেচ্ছা। বই শুধু জ্ঞান নয়, এটি জীবনের নীরব পথপ্রদর্শক। প্রতিটি পৃষ্ঠা আমাদের নতুন করে ভাবতে শেখায়, অনুভব করতে শেখায়। তাই আসুন, বইকে জীবনের অবিচ্ছেদ্য সঙ্গী করে তুলি।

 

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!