AB Bank
  • ঢাকা
  • বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

"ক্যাম্পাসে পরিবারহীন রমজান: গোবিপ্রবি শিক্ষার্থীদের গল্প"



রমজান মাস এলেই পরিবারের সঙ্গে সেহরি ও ইফতার করার স্মৃতি সবার মনকে নাড়া দেয়। তবে পড়াশোনা, টিউশন বা চাকরির প্রস্তুতির কারণে অনেক শিক্ষার্থীকে পরিবার থেকে দূরে, ক্যাম্পাসেই কাটাতে হয় এই পবিত্র মাস।

পরিবারের উষ্ণ পরিবেশ না থাকলেও বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়া সেহরি ও ইফতার ক্যাম্পাস জীবনে তৈরি করে ভিন্ন এক অভিজ্ঞতা। রমজান মানেই আত্মশুদ্ধি ও সংযমের মাস।
মোঃ রাকিবুল ইসলাম, সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী (শিক্ষাবর্ষ: ২০১৯-২০),, গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, বলেন, “প্রতিবারের মতো এবারও পরিবার থেকে দূরে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে রোজা পালন করছি। ব্যস্ততা, গবেষণা ও দৈনন্দিন কাজের মাঝে ইফতারের সময়টায় সবচেয়ে বেশি মনে পড়ে পরিবারের কথা।

ছোটবেলায় ইফতারের আগে মায়ের ব্যস্ততা, পরিবারের সবাইকে নিয়ে একসাথে খেজুর দিয়ে রোজা ভাঙার মুহূর্তগুলো এখন স্মৃতির মতো মনে হয়। ফোনে পরিবারের কণ্ঠ শুনলে মনে হয় দূরত্বটা যেন কমে যায়। কিন্তু একসাথে বসে ইফতার করার আনন্দ সত্যিই অন্যরকম। ঈদ যত ঘনিয়ে আসে, ততই মনে হয়, কবে আবার পরিবারের সঙ্গে সেই পরিচিত পরিবেশে ফিরে যাবো।”

আল মামুন, উদ্ভিদবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী (শিক্ষাবর্ষ: ২০২০-২১), জানান, “নিজের ক্যারিয়ারে ফোকাস রাখতে বা অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতায় পরিবার ছাড়া রমজান উদযাপন একটি স্পর্শকাতর বিষয়। বন্ধু ও সিনিয়র-জুনিয়রদের সঙ্গে ইফতারের আয়োজন থাকলেও মানসিকভাবে বাবা-মায়ের মায়া এবং সেই সূক্ষ্ম নজরের অভাব অনুভূত হয়।”

মোঃ সোহাগ হোসেন, ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন বায়োসায়েন্স বিভাগের শিক্ষার্থী (শিক্ষাবর্ষ ২০২০-২১), বলেন, “পরিবার থেকে দূরে ক্যাম্পাসে কাটানো রমজান মানেই এক নীরব বাস্তবতা। সাহরির সময় অনেক দিন খাওয়া হয় না, তবু মায়ের ফোন এলে বলা হয়, ‘সাহরি করেছি,’ শুধু তাঁর দুশ্চিন্তা কমানোর জন্য।

দিনের বেলা ক্লাস আর দায়িত্বের ভিড়ে রোজা কেটে যায় ধৈর্যে। ইফতারের সময় বন্ধুদের সঙ্গে ভাগ করে নেওয়া সামান্য খাবারেই তৃপ্তি খুঁজে নিতে হয়। ক্যাম্পাস জীবনের এই রমজান শেখায় সংযম, সহমর্মিতা আর পরিণত হওয়ার মানে।”

তানজিমুর রহমান, বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী (শিক্ষাবর্ষ ২০২১-২২), বলেন, “পরিবার থেকে দূরে থেকে রোজা রাখার সবচেয়ে বড় কষ্ট হলো খাওয়া-দাওয়ার সমস্যা। তবে জীবনে কিছু অর্জন করতে হলে ত্যাগ স্বীকার করতেই হয়। দোয়া করি, সবাই যেখানে থাকুন না কেন ভালো ও সুস্থ থাকুন। রমজানের ইবাদতের চর্চা সারা বছর ধরে চলুক এবং আমাদের জীবন হোক আরও সহজ-সরল ও নিরহংকারময়।”

পরিবার থেকে দূরে থাকলেও ক্যাম্পাসে বন্ধুত্ব, একসঙ্গে ইফতার এবং ধর্মীয় পরিবেশ-সব মিলিয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য রমজান হয়ে ওঠে স্মরণীয় এক অভিজ্ঞতা।
 

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!