AB Bank
  • ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

ইবি শিক্ষিকা হত্যার এক সপ্তাহেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে তিন আসামি


Ekushey Sangbad
ইবি প্রতিনিধি
১১:৫৬ এএম, ১০ মার্চ, ২০২৬

ইবি শিক্ষিকা হত্যার এক সপ্তাহেও ধরা ছোঁয়ার বাইরে তিন আসামি

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার ৭ম দিন আজ। গত বুধবার (৪ মার্চ) বিকেলে নিজ কক্ষে বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমানের ছুরিকাঘাতে হত্যার শিকার হন তিনি।

ঘটনার পরদিন বৃহস্পতিবার ইবি থানায় অভিযুক্ত কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে ৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান।

মামলার ৫দিন পার হলেও হাসপাতালে ভর্তি প্রধান আসামি ফজলুর রহমান ছাড়া বাকি তিনজন ধরাছোঁয়ার বাইরে। অন্য তিন আসামি হলেন- সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার, সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমান ও বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনীন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস।

এ বিষয়ে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাসুদ রানা সাংবাদিকদের জানান, ঘটনা পরবর্তী আমরা শিক্ষিকা ও প্রধান আসামি ফজলুকে অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাই। শিক্ষিকা মারা গেলে পরদিন ইবি থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নিহতের স্বামী। পরবর্তীতে প্রধান আসামি ফজলুকে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়। তথ্য সংগ্রহের জন্য তার মোবাইল নম্বর আমরা পেয়েছি কিন্তু ব্যক্তিগত মোবাইল পাওয়া যায়নি। হত্যার ঘটনায় ব্যবহৃত ছুরি কেনার উৎসও এখনো জানা সম্ভব হয়নি।

বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের বিষয় তিনি জানান, মামলায় আসামি গ্রেপ্তার একটা অংশ। কিন্তু এর ভিতরে অনেকগুলো পার্ট আছে। যেমন ঘটনার আসামিদের সিসিটিভি সংগ্রহ করে ভিকটিমের সিসিটিভির সাথে তাদের যোগসূত্র খোঁজা। এর পরে যে ২য় আসামি, তার সাথে ১ম আসামির মোবাইল নাম্বারগুলোকে অ্যানালাইসিস করে তার সাথে ব্যাকগ্রাউন্ডে আরো কারা কারা জড়িত আছে সেগুলো নিয়ে কাজ করা। আর গ্রেপ্তারের জন্য আমাদের টিম কাজ করছে।

দুই আসামির দেশত্যাগের আশঙ্কার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই শঙ্কার প্রেক্ষিতে আমরা দ্রুত ব্যবস্থা নেব। আমরাও জানতে পেরেছি যে এরকমটা হতে পারে। তার জন্য আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবো।

আসামি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও কর্মকর্তা হওয়ায় তাদের গ্রেপ্তারে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন থেকে বাধা নিষেধ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, ক্রিমিনাল অফেন্সের ক্ষেত্রে কারো কোন বাধা দেওয়ার সুযোগ নেই, সে যেই হোক না কেন।

তিনি আরো বলেন, এটা একটা বৃহৎ আকারের তদন্তের বিষয়। একটা আসামি গ্রেপ্তার করছি তদন্ত শেষ হয়ে গেছে এরকম না। আমরা চাই না কোন নিরপরাধ মানুষ হয়রানি হোক বা কোন অপরাধী পার পেয়ে যাক। এই তদন্তের সেক্টরটা হলো ব্যাপক বড়। এখানে নিহতের যে মোবাইল নম্বরের সাথে আসামিদের মোবাইল নাম্বারগুলোর কোন যোগ সম্পর্ক আছে কিনা না তার পর্যালোচনা নিয়ে আমরা কাজ করছি।

জানা যায়, সভাপতি হওয়ার পর থেকেই নানামুখী অসহযোগিতার শিকার হয়েছেন নিহত শিক্ষিকা আসমা সাদিয়া। আর্থিক অনিয়ম মেনে না নেওয়ার কারণেই তাকে খুন করা ও খুনি ফজলুর সাথে কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ ও বিভাগীয় দুই শিক্ষক জড়িত আছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়।

এদিকে, খুনি ও ষড়যন্ত্রকারীদের শাস্তির দাবিতে আন্দোলন গড়ে উঠছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস, কুষ্টিয়া শহর, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিশ্ববিদ্যালয় ও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এই হত্যার বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (৪ মার্চ) ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদ ভবনে নিজ অফিস কক্ষে ছুরিকাঘাতে নিহত হন সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি ও সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) ইবি থানায় বিভাগের সাবেক কর্মচারী ফজলুর রহমানকে প্রধান আসামি করে চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন নিহতের স্বামী ইমতিয়াজুর সুলতান। পরে পুলিশ অভিযুক্ত ফজলুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে সমাজকল্যাণ বিভাগের সাবেক কর্মচারী ও উম্মুল মু’মিনিন আয়েশা সিদ্দিকা হলের সহকারী রেজিস্ট্রার বিশ্বজিৎ কুমার বিশ্বাস, সমাজকল্যাণ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শ্যাম সুন্দর সরকার এবং একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হাবিবুর রহমানকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

 


একুশে সংবাদ/এ.জে

সর্বোচ্চ পঠিত - ক্যাম্পাস

Link copied!