AB Bank
  • ঢাকা
  • বুধবার, ১০ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন পাহাড়ি শহর রাঙ্গামাটিতে


Ekushey Sangbad
পর্যটন ডেস্ক
০৯:৩২ পিএম, ৩১ মে, ২০২৬

ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসুন পাহাড়ি শহর রাঙ্গামাটিতে

প্রতিবছর ঈদের ছুটিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজারো পর্যটক ছুটে আসেন পাহাড়ি শহর রাঙ্গামাটিতে। শহরের কোলাহল আর ব্যস্ততা ছেড়ে কিছুটা প্রশান্তির খোঁজে যারা প্রকৃতির সান্নিধ্যে যেতে চান, তাদের জন্য রাঙ্গামাটি এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

এখানে একই সঙ্গে উপভোগ করা যায় নৌভ্রমণ, পাহাড়ি সংস্কৃতি, ঐতিহাসিক নিদর্শন ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য।
এই ফিচারে তুলে ধরা হলো রাঙ্গামাটির এমন পাঁচটি দর্শনীয় স্থান, যেখানে ঈদের ছুটিতে ঘুরে এসে আপনি পেতে পারেন অন্যরকম আনন্দ ও মানসিক প্রশান্তি।

চলুন এই ঈদের ছুটিতে ঘুরে আসা যায় রাঙ্গামাটির এমন কয়েকটি দর্শনীয় স্থানের খোঁজ জানা যাক-

কাপ্তাই হ্রদ: পাহাড় আর জলের মিতালী
রাঙ্গামাটির প্রাণ বলা হয় কাপ্তাই হ্রদকে। বিশাল এই কৃত্রিম হ্রদ বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কৃত্রিম হ্রদ। পাহাড়ের বুকে তৈরি করা এই জলরাশি দূর থেকে দেখলে মনে হয় প্রকৃতির অপার বিস্ময়। ঈদের ছুটিতে কাপ্তাই হ্রদে নৌভ্রমণ, হাউজবোটে রাত্রিযাপন পর্যটকদের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতাগুলোর একটি।

হ্রদের শান্ত জলে নৌকা ভেসে চলার সময় চারপাশের সবুজ পাহাড় আর নীল আকাশের প্রতিচ্ছবি মনকে অন্যরকম প্রশান্তি দেয়। খুব সকালে হ্রদের জলে নৌকা নিয়ে ছোটাছুটিতে ব্যস্ত থাকেন হ্রদের পাড়ের বাসিন্দারা। জেলেরা শুরু করেন নিত্যদিনের কর্মযজ্ঞ। পর্যটকদের নৌভ্রমণে এসব দৃশ্য যেন মন ছুঁয়ে যায়।

ঝুলন্ত সেতু: সিম্বল অব রাঙ্গামাটি

রাঙ্গামাটির সবচেয়ে পরিচিত ও জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে অন্যতম ঝুলন্ত সেতু। কাপ্তাই হ্রদের ওপর নির্মিত এই সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে রাঙ্গামাটির প্রতীক হিসেবে পরিচিত।

সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে চারদিকে তাকালে চোখে পড়ে পাহাড়, হ্রদ আর নৌকার মায়াবী দৃশ্য। ঈদের ছুটিতে এখানে পর্যটকদের ভিড় সবচেয়ে বেশি থাকে। অনেকেই পরিবারের সঙ্গে ছবি তোলেন, কেউবা নীরবে দাঁড়িয়ে উপভোগ করেন প্রকৃতির সৌন্দর্য। সন্ধ্যায় ঝুলন্ত সেতুর চারপাশের পরিবেশ আরও মোহনীয় হয়ে ওঠে। সূর্যাস্তের আলো যখন হ্রদের জলে পড়ে, তখন পুরো এলাকাজুড়ে তৈরি হয় এক অপরুপ আবহ। ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এটি শুধু একটি সেতু নয়, বরং রাঙ্গামাটির সৌন্দর্যের এক প্রতীক।

সেতুর আশপাশে রয়েছে ছোট ছোট দোকান, যেখানে পাহাড়ি হস্তশিল্প ও স্থানীয় খাবার পাওয়া যায়। ফলে ঘোরাঘুরির পাশাপাশি কেনাকাটার সুযোগও মেলে।

কাপ্তাই সড়কের মুগ্ধতা

পাহাড়, হ্রদ আর সবুজের অপূর্ব মিলনে গড়া আসামবস্তী-কাপ্তাই সড়ক যেন প্রকৃতির আঁকা এক জীবন্ত চিত্রপট। রাঙ্গামাটির এই সড়কে পা রাখলেই চোখে পড়ে পাহাড়ের ঢালে ঢালে ছড়িয়ে থাকা গাছপালা, দূরে নীলাভ পাহাড়ের রেখা আর কাপ্তাই হ্রদের শান্ত জলরাশি। আঁকাবাঁকা পথ ধরে এগোতে এগোতে মনে হয় যেন প্রকৃতির বুকের ভেতর দিয়ে চলেছে এক মায়াবী যাত্রা।

সকালের কোমল রোদ যখন পাহাড়ের গায়ে পড়ে, তখন পুরো সড়কজুড়ে তৈরি হয় এক স্বর্গীয় আবহ। আবার বিকেলের শেষ আলোয় পাহাড় ও হ্রদের রং বদলে যায় বারবার। বর্ষাকালে এই সড়কের সৌন্দর্য যেন আরও কয়েকগুণ বেড়ে ওঠে। পাহাড়ি সবুজ অরণ্য, কুয়াশায় মোড়া পথ আর বৃষ্টিভেজা সবুজ প্রকৃতি ভ্রমণপিপাসুদের মন ছুঁয়ে যায় সহজেই।

আসামবস্তি থেকে কাপ্তাইয়ের পথে চলতে গেলে মাঝে মাঝে চোখে পড়ে পাহাড়ি জনপদের ছোট ছোট ঘর, জুমচাষের দৃশ্য এবং স্থানীয় মানুষের সরল জীবনযাপন। এসব দৃশ্য এই সড়ককে শুধু একটি যোগাযোগ পথ নয়, বরং একটি সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতায় পরিণত করেছে। পথের ধারে দাঁড়িয়ে হ্রদের দিকে তাকালে মনে হয়, প্রকৃতি যেন নিঃশব্দে তার সৌন্দর্যের গল্প শুনিয়ে যাচ্ছে।

পর্যটকদের কাছে আসামবস্তি-কাপ্তাই সড়ক এখন এক জনপ্রিয় আকর্ষণ। বিশেষ করে যারা প্রকৃতির নীরবতা ও পাহাড়ি সৌন্দর্য উপভোগ করতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য এই পথ এক অনন্য অনুভূতির নাম। দিনশেষে সূর্য যখন পাহাড়ের আড়ালে হারিয়ে যায়, তখন পুরো সড়কজুড়ে নেমে আসে এক শান্ত, মুগ্ধকর আবহ যা দীর্ঘসময় মনে গেঁথে থাকে।

সাজেক ভ্যালি: মেঘ ছোঁয়ার অনুভূতি
যদিও প্রশাসনিকভাবে সাজেক রয়েছে সাজেক ভ্যালি এলাকায়, তবুও রাঙ্গামাটিতে বেড়াতে এলে অনেকেই সাজেক ভ্রমণকে যুক্ত করেন। বর্তমানে এটি বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন গন্তব্য।

সাজেকের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো মেঘ আর পাহাড়ের মিলনমেলা। সকালে ঘুম ভাঙতেই দেখা যায় জানালার পাশে ভেসে থাকা সাদা মেঘ। সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় পাহাড়ের রং বদলে যায় ক্ষণে ক্ষণে।

ঈদের ছুটিতে সাজেক যেন উৎসবের রঙে রঙিন হয়ে ওঠে। দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকরা এখানে আসেন মেঘের রাজ্যে কিছুটা সময় কাটাতে। পাহাড়ি পথ ধরে গাড়ি ভ্রমণও বেশ রোমাঞ্চকর। সাজেকে গেলে স্থানীয় পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও জীবনধারার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাওয়া যায়। পাহাড়ি খাবার, বাঁশের তৈরি ঘর আর প্রকৃতির নীরবতা পর্যটকদের মনে আলাদা অনুভূতি সৃষ্টি করে।

রাজবন বিহার: নীরবতা ও আধ্যাত্মিক প্রশান্তি
প্রকৃতির পাশাপাশি আধ্যাত্মিক শান্তি খুঁজতে চাইলে যেতে পারেন রাজবন বিহারে। এটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৌদ্ধ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। সবুজ পাহাড়ের কোলে অবস্থিত এই বিহারে প্রবেশ করলেই এক ধরনের নীরব প্রশান্তি অনুভূত হয়। বিশাল বুদ্ধমূর্তি, শান্ত পরিবেশ আর পরিচ্ছন্নতা পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

ঈদের ছুটিতে অনেকেই পরিবার নিয়ে এখানে আসেন কিছুটা নিরিবিলি সময় কাটাতে। ধর্মীয় গুরুত্ব ছাড়াও এটি একটি দৃষ্টিনন্দন দর্শনীয় স্থান। বিহারের চারপাশে পাহাড়ি পরিবেশ ও বৃক্ষরাজি পুরো স্থানটিকে আরও মনোরম করে তুলেছে। এখানে গেলে স্থানীয় বৌদ্ধ সংস্কৃতি সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া যায়। পর্যটকদের জন্য এটি শুধু ভ্রমণ নয়, বরং মানসিক প্রশান্তিরও একটি জায়গা।

যা মেনে চলবেন
ঈদের ছুটিতে রাঙ্গামাটিতে পর্যটকদের চাপ অনেক বেড়ে যায়। তাই ভ্রমণের আগে কিছু বিষয় মাথায় রাখা জরুরি- আগে থেকেই হোটেল বুকিং নিশ্চিত করা ভালো।
নৌভ্রমণের সময় লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করা উচিত।
পাহাড়ি এলাকায় পরিবেশ নষ্ট হয় এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
স্থানীয় সংস্কৃতি ও মানুষের প্রতি সম্মান দেখানো জরুরি।
প্লাস্টিক বা ময়লা যেখানে সেখানে না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে ফেলতে হবে।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!