২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের টিকিটের উচ্চমূল্য নিয়ে যখন বিশ্বজুড়ে আলোচনা চলছে, তখন মেক্সিকোর প্রায় ১৪ হাজার দর্শক পাচ্ছেন এক ব্যতিক্রমী সুযোগ। আদালতের রায়ে তারা বিনা মূল্যে মাঠে বসে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ উপভোগ করতে পারবেন।
আগামী ১২ জুন মেক্সিকো সিটির ঐতিহাসিক আজটেকা স্টেডিয়ামে স্বাগতিক মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের পর্দা উঠবে। তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ আয়োজন করা বিশ্বের প্রথম স্টেডিয়াম হিসেবে নতুন ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে আজটেকা।
এই বিশেষ সুবিধার পেছনে রয়েছে প্রায় ছয় দশক পুরোনো একটি চুক্তি। ১৯৬০-এর দশকে স্টেডিয়াম নির্মাণের সময় অর্থসংকট দেখা দিলে কর্তৃপক্ষ ৬০০টি বক্স ও প্রায় ৮ হাজার গ্যালারি আসন আগাম বিক্রি করে। চুক্তি অনুযায়ী, এসব আসনের মালিকরা ২০৬৫ সাল পর্যন্ত স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত যেকোনো ইভেন্ট অতিরিক্ত টিকিট ছাড়াই উপভোগ করার অধিকার পান।
এই সুবিধার আওতায় অতীতে বিশ্বকাপ, আন্তর্জাতিক ফুটবল ম্যাচ এবং বিভিন্ন কনসার্টও তারা বিনা মূল্যে উপভোগ করেছেন। ১৯৮৬ সালের বিশ্বকাপেও ফিফা এসব আসনের নিয়ন্ত্রণ নিতে পারেনি।
২০২৬ বিশ্বকাপের আগে ফিফা ও স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষ ওই আসনগুলোকে সাধারণ টিকিট ব্যবস্থার আওতায় আনার চেষ্টা করলে আসন মালিকদের সংগঠন আদালতে মামলা করে। শেষ পর্যন্ত আদালত মালিকদের পক্ষেই রায় দেয়।
আসন মালিকদের সংগঠনের মহাসচিব রবার্তো রুয়ানো ওর্তেগা বলেন, “আমাদের অধিকার আদালত স্বীকৃতি দিয়েছে। বিশ্বকাপের ম্যাচ দেখতে আমাদের কোনো অর্থ দিতে হবে না।”
মেক্সিকান গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এসব আসন বিক্রি করতে না পারায় স্টেডিয়াম কর্তৃপক্ষকে প্রায় ৫৪ মিলিয়ন ইউরো ক্ষতিপূরণও গুনতে হয়েছে।
তবে এখনও কিছু প্রশাসনিক জটিলতা রয়েছে। বিশ্বকাপ শুরুর এক সপ্তাহ আগে পর্যন্ত অনেক আসন মালিক ইলেকট্রনিক টিকিট হাতে পাননি। এ কারণে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রবেশে কোনো বাধা সৃষ্টি হলে তারা আবারও আইনি পদক্ষেপ নেবে।
সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে, আজটেকা স্টেডিয়ামের এই ১৪ হাজার দর্শক ইতিহাসের অংশ হয়ে বিনা মূল্যে ২০২৬ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ উপভোগ করবেন।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

