মাত্র দুই দিন পরই মাঠে গড়াচ্ছে টি–২০ বিশ্বকাপ ক্রিকেট। সূচি অনুযায়ী এই আসরে বাংলাদেশের অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও নিরাপত্তাজনিত কারণে ভারতের মাটিতে টুর্নামেন্টে খেলছে না টাইগাররা। ভেন্যু শ্রীলঙ্কায় সরানো হলে খেলতে আগ্রহী ছিল বাংলাদেশ, তবে তা না হওয়ায় বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায় দলটি।
বিশ্বকাপ না খেলায় আন্তর্জাতিক টি–২০ সূচিও নেই লিটন দাস, মুস্তাফিজুর রহমানদের সামনে। এতে একদিকে যেমন ম্যাচ খেলার সুযোগ হারাচ্ছেন ক্রিকেটাররা, তেমনি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়। এই বাস্তবতায় খেলোয়াড়দের মাঠে সক্রিয় রাখতে এবং ক্ষতি পুষিয়ে দিতে তিন দলের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয়েছে ‘অদম্য টি–২০ টুর্নামেন্ট’। আজ বুধবার থেকে শুরু হওয়া এই প্রতিযোগিতার মোট প্রাইজমানি আড়াই কোটি টাকা।
টুর্নামেন্টে অংশ নিচ্ছে ধূমকেতু স্কোয়াড, দুরন্ত স্কোয়াড ও দুর্বার স্কোয়াড। চ্যাম্পিয়ন দল পাবে এক কোটি টাকা, রানার্সআপ দল পাবে ৪০ লাখ টাকা। টুর্নামেন্টসেরা ক্রিকেটারের জন্য রয়েছে ৫ লাখ টাকা পুরস্কার। সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ও সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি প্রত্যেকে পাবেন ৩ লাখ টাকা করে। প্রতিটি ম্যাচ জয়ের জন্য নির্ধারিত আছে ১০ লাখ টাকা, আর অংশগ্রহণকারী প্রতিটি ক্রিকেটার ম্যাচপ্রতি পাবেন ৫০ হাজার টাকা।
আজ সন্ধ্যা ৬টায় মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে লিটন দাসের নেতৃত্বাধীন ধূমকেতু স্কোয়াড ও আকবর আলির দুরন্ত স্কোয়াড। অপর দল দুর্বার স্কোয়াডের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত। তিন দলের স্কোয়াডে রয়েছেন দেশের সেরা ৩৯ জন ক্রিকেটার। ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফ মিলিয়ে প্রতিটি স্কোয়াডে সদস্য সংখ্যা ২০ জন।
আগামীকাল ধূমকেতু স্কোয়াডের প্রতিপক্ষ হবে দুর্বার স্কোয়াড। ৭ ফেব্রুয়ারি মাঠে নামবে দুর্বার ও দুরন্ত স্কোয়াড। সব ম্যাচ শেষে ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের ফাইনাল।
টি–২০ বিশ্বকাপ স্কোয়াড, বিপিএলে পারফর্ম করা ক্রিকেটার এবং যুব দল থেকে উঠে আসা খেলোয়াড়দের সমন্বয়ে দলগুলো গঠন করা হয়েছে। লিটনের নেতৃত্বাধীন ধূমকেতু স্কোয়াডে রয়েছেন বিশ্বকাপের জন্য বিবেচিত সব ক্রিকেটার, যার মধ্যে মুস্তাফিজুর রহমানও আছেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, মুস্তাফিজুর রহমানকে কেন্দ্র করেই মূলত বিশ্বকাপ থেকে সরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্স ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে তাকে দলে নিলেও পরে নিরাপত্তাজনিত কারণ দেখিয়ে তাকে বাদ দেওয়া হয়। এর পরদিনই বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতের মাটিতে টি–২০ বিশ্বকাপ না খেলার সিদ্ধান্ত জানায়।
এ বিষয়ে মুস্তাফিজ প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও দলের প্রধান কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিন জানান, মুস্তাফিজ বিষয়টি ইতিবাচকভাবেই নিয়েছেন। কোচের ভাষায়, ‘ও বলেছে— যেটা চলে গেছে, সেটা যেতে দাও।’
৭ ফেব্রুয়ারি টি–২০ বিশ্বকাপ শুরু হলেও তখন অদম্য টি–২০ টুর্নামেন্ট চলমান থাকবে। বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে ৮ মার্চ, আর তার আগেই ৯ ফেব্রুয়ারি শেষ হবে দেশের এই ঘরোয়া টি–২০ প্রতিযোগিতা।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

