বড় লক্ষ্য তাড়ায় নেমে আত্মবিশ্বাসী শুরু এনে দেন ওপেনার জাওয়াদ আবরার ও রিফাত বেগ। এই দুই ব্যাটারের দৃঢ় ও আগ্রাসী জুটিতেই জয়ের ভিত্তি পায় বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯ দল। মাঝের ওভারগুলোতে কিছুটা চাপে পড়লেও শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করে লাল-সবুজ যুবারা। এই জয়ে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ইতিহাসে নতুন এক রেকর্ডও গড়েছে বাংলাদেশ।
শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুবাইয়ে অনুষ্ঠিত এশিয়া কাপের প্রথম ম্যাচে আফগানিস্তানের দেওয়া ২৮৪ রানের লক্ষ্য ৭ বল হাতে রেখে ৩ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৯৬ রান করেন ওপেনার জাওয়াদ আবরার।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে আবরার ও রিফাত শুরু থেকেই দাপট দেখান। ২৭তম ওভারে রিফাত আউট হওয়ার আগে এই জুটিতে আসে ১৫১ রান। ৬৮ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৬২ রান করে আউট হন রিফাত। কিছুক্ষণ পরই সাজঘরে ফেরেন আবরার। ১১২ বল মোকাবিলায় ৯ চার ও ৬ ছক্কায় তার ইনিংস থামে ৯৬ রানে—সেঞ্চুরি থেকে মাত্র চার রান দূরে।
দুজনের বিদায়ের পর অধিনায়ক আজিজুল হাকিম তামিম ও কালাম সিদ্দিকী ধৈর্যের সঙ্গে ইনিংস এগিয়ে নেন। চতুর্থ উইকেটে তাদের জুটিতে আসে ৬৬ রান। ৩৬ বলে ২৯ রান করে কালাম আউট হলে ভাঙে এই জুটি। তামিম খেলেন ৪৭ রানের কার্যকর ইনিংস, যেখানে ছিল ৩ ছক্কা ও ২ চার।
শেষ দিকে দ্রুত কয়েকটি উইকেট হারিয়ে খানিকটা চাপ তৈরি হলেও রিজান হোসেন ও শেখ পারভেজ জীবন দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন। রিজান ১৩ বলে ১৭ রানে অপরাজিত থাকেন। জীবন ৭ বলে ১৩ রান করে আউট হন জয়ের এক রান আগে।
আফগানিস্তানের পক্ষে সর্বোচ্চ ২ উইকেট নেন রুহউল্লাহ আরব, তিনি খরচ করেন ৪৮ রান।
এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে আফগানিস্তান অনূর্ধ্ব-১৯ দল নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে তোলে ২৮৩ রান। ফয়সাল শিনোজাদা খেলেন ১০৩ রানের দৃষ্টিনন্দন ইনিংস। এছাড়া উজাইরউল্লাহ নিয়াজাই করেন ৪৪ এবং ওসমান সাদাত যোগ করেন ৩৪ রান। শেষ দিকে আজিজউল্লাহ মিয়াখিল ও আব্দুল আজিজ দ্রুত রান তুলে দলীয় সংগ্রহ বাড়ান।
বাংলাদেশের হয়ে দুই উইকেট করে নেন ইকবাল হোসেন ইমন ও শাহরিয়ার ইমন। একটি করে উইকেট পান সাদ ইসলাম, সামিউন বশির ও রিজান হোসেন।
এই জয়ের মাধ্যমে অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান তাড়া করে জয়ের রেকর্ড গড়ে বাংলাদেশ। এর আগে ২০১৮ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ২৬৮ রান তাড়া করে জিতেছিল নেপাল।
৮ দলের টুর্নামেন্টে ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের পরবর্তী ম্যাচ ১৫ ডিসেম্বর নেপালের বিপক্ষে। ১৭ ডিসেম্বর গ্রুপপর্বের শেষ ম্যাচে লাল-সবুজ যুবারা মুখোমুখি হবে শ্রীলঙ্কার।
এশিয়া কাপ শেষ করে আগামী জানুয়ারিতে জিম্বাবুয়েতে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে অংশ নেবে আজিজুল হাকিম তামিমের দল।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

