একজন মুমিনের জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল ইবাদত পালন করা। কিন্তু বাস্তবতায় অনেক মুসলিম মুমিন নামাজে অমনোযোগ, অলসতা এবং ইবাদতের প্রতি অনীহায় প্রকাশ পায়। শয়তানের কুমন্ত্রণা, দুনিয়ার ব্যস্ততা এবং হৃদয়ের গাফলত অনেক সময় মানুষকে নামাজ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়।
ইসলাম এ সমস্যার সমাধানও শিখিয়েছে। শুধু চেষ্টা করার নির্দেশই নয়, বরং আল্লাহর কাছে ইবাদতের শক্তি ও আন্তরিকতা প্রার্থনা করার দোয়াও শিক্ষা দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) তার প্রিয় সাহাবি হজরত মু`আয ইবনু জাবাল (রা.)-কে এমন একটি দোয়া শিখিয়েছিলেন, যা একজন মুসলিমের জন্য প্রতিদিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল।
যাদের নামাজ পড়তে ইচ্ছা করে না, তারা নিয়মিত এই দোয়াটি পড়তে পারেন,
اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ وَشُكْرِكَ وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আ`ইন্নি আলা জিকরিকা, ওয়া শুকরিকা, ওয়া হুসনি ইবাদাতিকা। অর্থ: হে আল্লাহ! তোমার স্মরণে, তোমার প্রতি কৃতজ্ঞতায় এবং তোমার সুন্দরভাবে ইবাদত করতে আমাকে সাহায্য করুন।
এই দোয়াটি নিয়মিত পড়লে আল্লাহর রহমতে নামাজের প্রতি ভালোবাসা, মনোযোগ ও ইবাদতের আন্তরিকতা বৃদ্ধি পেতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (সা.)–এর শিক্ষা
হজরত মু`আয ইবনু জাবাল (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) তাঁর হাত ধরে বলেছিলেন,
يَا مُعَاذُ، وَاللَّهِ إِنِّي لَأُحِبُّكَ، فَلَا تَدَعَنَّ فِي دُبُرِ كُلِّ صَلَاةٍ أَنْ تَقُولَ: اللَّهُمَّ أَعِنِّي عَلَى ذِكْرِكَ، وَشُكْرِكَ، وَحُسْنِ عِبَادَتِكَ অর্থ: হে মু`আয! আল্লাহর কসম, আমি তোমাকে ভালোবাসি। তাই তুমি কখনোই প্রত্যেক ফরজ নামাজের পর এই দোয়া পড়া ছেড়ে দেবে না। (আবু দাউদ: ১৫২২, নাসাঈ: ১৩০৩)
কুরআনের নির্দেশ
আল্লাহ তাআলা বলেন,
وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ ۚ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ অর্থ: তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা কর। নিশ্চয়ই তা বিনয়ীদের ছাড়া অন্যদের জন্য কঠিন। (সুরা আল-বাকারা: ৪৫)
আরও ইরশাদ হয়েছে,
قَدْ أَفْلَحَ الْمُؤْمِنُونَ الَّذِينَ هُمْ فِي صَلَاتِهِمْ خَاشِعُونَ অর্থ: নিশ্চয়ই মুমিনরা সফল হয়েছে, যারা তাদের নামাজে বিনয়ী ও একাগ্রচিত্ত। (সুরা আল-মু`মিনুন: ১-২)
এই দোয়াটি কখন পড়বেন?
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর নির্দেশ অনুযায়ী প্রত্যেক ফরজ নামাজের সালাম ফেরানোর পর এই দোয়াটি পড়া সুন্নত। এছাড়া তাহাজ্জুদ, দোয়া কবুলের সময় কিংবা যখনই ইবাদতে দুর্বলতা অনুভব হবে, তখনও এই দোয়াটি পড়া যেতে পারে।
কেন এই দোয়াটি এত গুরুত্বপূর্ণ?
এই দোয়ায় তিনটি মৌলিক বিষয় একসঙ্গে চাওয়া হয়েছে, আল্লাহর স্মরণ (যিকর), তাঁর নিয়ামতের কৃতজ্ঞতা (শুকর) এবং সর্বোত্তমভাবে ইবাদত করার তৌফিক।
ইসলামি পণ্ডিতদের মতে, একজন বান্দার দুনিয়া ও আখিরাতের সফলতার জন্য এই তিনটি গুণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কেউ দীর্ঘদিন ইবাদতের ওপর অটল থাকতে পারে না।
নামাজে মনোযোগ ও খুশু-খুজু অর্জন কেবল ব্যক্তিগত ইচ্ছাশক্তির বিষয় নয়; এটি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ। তাই নামাজে অলসতা বা অনীহা দেখা দিলে হতাশ হওয়ার পরিবর্তে আল্লাহর কাছেই সাহায্য চাইতে হবে।
পাশাপাশি সময়মতো নামাজ আদায়, কুরআন তিলাওয়াত, গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা এবং বেশি বেশি যিকর করার মাধ্যমে হৃদয়কে ইবাদতের উপযোগী করে তুলতে হবে।
রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর শেখানো এই সংক্ষিপ্ত অথচ অর্থবহ দোয়াটি যদি প্রতিদিনের আমলে পরিণত করা যায়, তবে আল্লাহর রহমতে নামাজের প্রতি ভালোবাসা ও একাগ্রতা বৃদ্ধি পাওয়ার আশা করা যায়।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে খুশু-খুজুর সঙ্গে নিয়মিত নামাজ আদায়ের তৌফিক দান করুন। আমিন।
মুফতি আবদুল্লাহ তামিম
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

