টানা দুই দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার প্রধান সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়াও নদীর তীরবর্তী এলাকার ঘরবাড়ী ও ফসলী জমি পানির নিচে তলিয়ে যায়।
গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বান্দরবান আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের অফিসার ইনচার্জ সনাতন কুমার মণ্ডল।
সরজমিনে দেখা যায়, অবিরাম বৃষ্টিতে লামা আলীকদম-ফাঁসিয়াখালী সড়কের রেপারপাড়া, শিবাতলীসহ একাধিক স্থানে সড়ক পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে যান চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। রেপারপাড়া এলাকায় মানুষকে ভ্যানগাড়িতে এবং শিবাতলী এলাকায় নৌকায় পারাপার হয়ে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আলীকদম সদর ইউনিয়ন ও চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল । নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় নদীতীরবর্তী নয়াপাড়া,রোয়াম্ভু, খুল্লাইমিয়া,আলিমুদ্দিন পাড়া,সাবের মিয়ার এলাকার বসতঘর প্লাবিত হয়েছে। একই সঙ্গে শত শত একর কৃষিজমি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় আমন ধানের চারা, সবজি ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পেঁপে চাষি মো. কায়সার উদ্দিন বাপ্পি বলেন, টানা বৃষ্টিতে আমার পেঁপের বাগানসহ বিভিন্ন ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছি আমরা সাধারণ কৃষকরা।
চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন বলেন,টানা বৃষ্টি হলেই আলীকদম চকরিয়া প্রধান সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যায়। বর্তমানে আলীকদমের সঙ্গে লামা ও চকরিয়ার সড়ক যোগাযোগ প্রায় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন। এতে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলম জানান, সম্ভাব্য দুর্যোগ মোকাবিলায় জনগণকে সতর্ক করতে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করা হচ্ছে। ১৫টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এছাড়া শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেটসহ প্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী মজুত রয়েছে।
এদিকে, টানা তিন দিন ধরে আলীকদমে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ এলেও কয়েক মিনিটের বেশি স্থায়ী হচ্ছে না। এতে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চলমান এইচএসসি পরীক্ষার্থীরাও চরম ভোগান্তিতে পড়েছে বলে জানিয়েছে অভিভাবকরা।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

