ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ জানুয়ারি, ২০২২, ১৩ মাঘ ১৪২৮

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

সুবর্ণজয়ন্তীতে অর্থনৈতিক উত্থানের অসামান্য গল্প


Ekushey Sangbad
একুশে সংবাদ ডেস্ক
১০:১১ এএম, ১৬ ডিসেম্বর, ২০২১
সুবর্ণজয়ন্তীতে অর্থনৈতিক উত্থানের অসামান্য গল্প

পঞ্চাশে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উত্থানের উপাখ্যান এক কথায় অসামান্য। একেবারে শূন্য হাতে শুরু করে অদম্য বাংলাদেশ যে অর্থনৈতিক উচ্চতায় পৌঁছেছে তার ব্যাখ্যা দেওয়া মোটেও সহজ নয়। তবে এর পেছনে আশাবাদী নেতৃত্বের জোর ভূমিকার কথা মানতেই হবে। আর নেতৃত্বের কথা বলতে গেলেই সবাইকে ছাপিয়ে উঠে আসেন বাংলাদেশের আরেক নাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

রাজনৈতিক অঙ্গনে তার জীবনভর নিরন্তর লেগে থাকা, জনগণের প্রতি তার ‘অক্ষয় ভালোবাসা’ এবং ‘করে করে শেখার’ যে অদম্য বাসনার প্রতিফলন ঘটিয়েছেন সেটিই ছিল জাতি হিসেবে আমাদের এগিয়ে যাওয়ার মূল শক্তি। সর্বক্ষণ ভেবেছেন কী করলে জনগণের মধ্যে লড়াকু এক মনের সঞ্চার করা যায়। আর সেই ভাবনাকে নানা কর্মসূচির মাধ্যমে বাস্তবে রূপায়ানের উদ্যোগ নিয়েছেন। তার এই উদ্যোগী ভূমিকার সন্ধান পাই আমরা ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে চুয়ান্নতে যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন পরিচালনা, ছেষট্টির ছয় দফা কর্মসূচি প্রণয়ন ও তার প্রচারণায়, জেলে বসেও জাতিকে সাহস ও দিশা দেওয়া এবং প্রাদেশিক মন্ত্রী হিসেবে পূর্ব বাংলার কৃষক ও উঠতি শিল্প উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ীদের জন্য নতুন নতুন সুযোগ সৃষ্টি করার মতো নানামুখী কর্মকাণ্ডের মাঝে।

তিনি কেমন বাংলাদেশ চেয়েছিলেন তার ইঙ্গিত রেখে গেছেন তার ভাষণে, ডায়েরিতে, সংবিধানে, প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায়, কুদরত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশনে এবং বিশেষ করে তার দ্বিতীয় বিপ্লবের রূপরেখায়। দুর্নীতিমুক্ত সামাজিক দায়বদ্ধ সাম্যের বাংলাদেশ গড়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা তিনি তার প্রতিটি কথায়, নীতিতে এবং দলিলে রেখে গেছেন। একই সঙ্গে মাত্র সাড়ে তিন বছরের দেশ পরিচালনায় তিনি হাতে-কলমে দেখিয়ে গেছেন কী করে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে ধীরে ধীরে সামনের দিকে এগোতে হয়। জাতির দুর্ভাগ্য তার সেই নান্দনিক নেতৃত্বের স্পর্শ বিশ্বাসঘাতকের দল খুব বেশিদিন তাকে পেতে দেয়নি। তবে তার স্বপ্ন ও কর্মের রূপরেখাকে সম্বল করেই এগিয়ে চলেছে আজকের বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধুকন্যার হাত ধরে।

আছে দুঃখ। আছে কষ্ট। আছে সীমাহীন অপ্রাপ্তি। তবুও বুকে সব কষ্ট চেপে স্বদেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন বঙ্গবন্ধুকন্যা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সীমানায়। মাঝখানে বঙ্গবন্ধু বিহীন বাংলাদেশে নেমে এসেছিল চরম হতাশা, বিভাজন ও স্বাধীনতা-বিরোধী অপচেষ্টা। অনেক ত্যাগ ও তিতিক্ষার বিনিময়ে ফের বাংলাদেশ ফিরে এসেছে মুক্তিযুদ্ধের পথরেখায়। এখনো আছে অন্যায়, অনাচার, অধিকার ও দুর্নীতি। কিন্তু শরতের কালো মেঘের পাশাপাশি রয়েছে কাশবনের উপরিভাগের মতো অনেক সাদা মেঘ।

আজকের বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে, ঐসব কালো মেঘকে সুনীতি ও সুকর্ম দিয়ে কি করে ঢেকে ফেলা যায়। বাংলাদেশের ‘ডিএনএ’-এর মধ্যে আছে বঙ্গবন্ধুর দেওয়া মুক্তির জন্য লড়াই করে এগিয়ে চলার বাসনা। আর সেই সামাজিক পুঁজিকে সম্বল করেই এগিয়ে চলেছে দুর্বার বাংলাদেশ। পঞ্চাশ বছরে বাংলাদেশ অনেক শিখেছে করে করে।

১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের প্রাক্কালে বঙ্গবন্ধু দিল্লিতে বলেছিলেন, তিনি বাংলাদেশকে ‘শান্তি, প্রগতি ও সমৃদ্ধির’ দেশে পরিণত করতে চান। ঐ দিনই বিকেলে স্বাধীন বাংলাদেশে পা রেখেই তিনি রেসকোর্স ময়দানে বলেছিলেন যে, এই স্বাধীনতা ব্যর্থ হয়ে যাবে তিনি যদি সব মানুষকে খাদ্য দিতে না পারেন, তরুণদের কর্মসংস্থান না করতে পারেন। আর বলেছিলেন যে, সমাজ থেকে দুর্নীতি উচ্ছেদ করবেন। যে কথা সেই কাজ। কালমাত্র বিলম্ব না করে তিনি নেমে পড়েছিলেন বাংলাদেশের সব মানুষের উন্নয়নের এক অসামান্য অভিযাত্রায়।