বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি তুলনামূলক কম দামে ইউরিয়া সার সরবরাহের আগ্রহ প্রকাশ করেছে রাশিয়া।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের সঙ্গে রাশিয়ার একটি প্রতিনিধি দল সৌজন্য সাক্ষাৎ করে। বৈঠক শেষে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ বর্তমানে যেসব দেশ থেকে ইউরিয়া সার আমদানি করছে, সেসব দেশের তুলনায় প্রতি মেট্রিক টনে ১০ ডলার কম দামে সার সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছে রাশিয়া।
তবে বর্তমানে বাংলাদেশ কোন দামে ইউরিয়া সার কিনছে, সে বিষয়ে তুলনামূলক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে প্রস্তাবিত মূল্য কতটা কম, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
ঢাকায় রাশিয়ার ফেডারেশনের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রদূত ভিয়াচেস্লাভ সেন্টিউরিনের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি বৈঠকে অংশ নেয়। আলোচনায় দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, খাদ্য নিরাপত্তা, কৃষিখাত, সার সরবরাহ এবং সরকার-টু-সরকার (জিটুজি) বাণিজ্য সম্প্রসারণের বিষয় গুরুত্ব পায়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত গম ও মিউরিয়েট অব পটাশ (এমওপি) সার সরবরাহে রাশিয়ার সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ। তিনি রাশিয়াকে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত বন্ধু উল্লেখ করে ভবিষ্যতে দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
চলতি মাসে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি রাশিয়া ও কানাডা থেকে মোট ৭৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার আমদানির অনুমোদন দেয়। এ জন্য মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ৩৫১ কোটি ২৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা।
এর মধ্যে রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান প্রোডিনটর্গের কাছ থেকে ৩৫ হাজার মেট্রিক টন এমওপি সার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়, যার ব্যয় ধরা হয়েছে ১৬৩ কোটি ৯২ লাখ ২৫ হাজার টাকা। সে সময়ের ব্যয় বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাশিয়া ও কানাডা-উভয় দেশ থেকেই সরকার একই দামে এমওপি সার কিনছে।
এদিকে মঙ্গলবারের বৈঠকে রাশিয়ার প্রতিনিধি দল বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)-এর মাধ্যমে সরকার-টু-সরকার ভিত্তিতে প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার সরবরাহের আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের দাবি, রাশিয়ার প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশ একদিকে নির্ভরযোগ্যভাবে ইউরিয়া সার পাবে, অন্যদিকে সার আমদানিতে সরকারের ব্যয়ও কমতে পারে।
বৈঠকে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ-টিসিবি এবং রাশিয়ার প্রোডিনটর্গের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।
রাশিয়ার পক্ষ থেকে বাংলাদেশে সূর্যমুখী তেল, হলুদ মটরশুঁটি, ছোলা, লাল মসুর ডালসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়।
তারা বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়ার কথা বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাণিজ্যমন্ত্রী রাশিয়ার বাণিজ্য সম্প্রসারণের আগ্রহকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক স্বার্থ ও সুবিধার ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধি করা হবে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

