ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর দেশের ১১তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন তারেক রহমান। সরকার পরিচালনায় অভিজ্ঞতা ও গতিশীলতার সমন্বয়ে তিনি ৪৯ সদস্যের একটি পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভা গঠন করেছেন। নতুন মন্ত্রিসভায় জ্যেষ্ঠ নেতাদের পাশাপাশি তরুণ নেতৃত্বকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
ইতোমধ্যে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে দপ্তর বণ্টনের প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। এতে দেখা যায়, রাষ্ট্র পরিচালনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচটি মন্ত্রণালয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজের অধীনেই রেখেছেন। এসব মন্ত্রণালয়ের মধ্যে রয়েছে— প্রতিরক্ষা, জনপ্রশাসন, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।
নতুন মন্ত্রিসভার প্রথম আনুষ্ঠানিক বৈঠক আজ বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৩টায় সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব বণ্টন
দলীয় মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন মীর শাহে আলম।
অর্থনীতি ও পরিকল্পনার দায়িত্ব পেয়েছেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তাঁর সঙ্গে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে যুক্ত হয়েছেন জোট শরিক নেতা জুনায়েদ সাকি।
সংবেদনশীল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদকে। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আ ন ম এহসানুল হক মিলন এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে ববি হাজ্জাজকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান। এ মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রী হিসেবে কাজ করবেন শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জহির উদ্দিন স্বপনকে, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন ইয়াসের খান চৌধুরী। বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির এবং প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শরীফুল আলম।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে রয়েছেন এম এ মুহিত।
কৃষি ও মৎস্য খাতের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে আমিন উর রশিদকে, প্রতিমন্ত্রী হিসেবে থাকছেন সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এ ছাড়া পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ে আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে শেখ রবিউল আলম এবং মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে হাফিজ উদ্দিন আহমেদ দায়িত্ব পেয়েছেন।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে রয়েছেন ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নিতাই রায় চৌধুরীকে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ে মিজানুর রহমান মিনু, প্রবাসী কল্যাণে আরিফুল হক চৌধুরী, পানি সম্পদে শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ে আফরোজা খানম রিতা দায়িত্ব পালন করবেন।
এ ছাড়া গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে জাকারিয়া তাহের, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে দীপেন দেওয়ান এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ে আসাদুল হাবিব দুলুকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করবেন যথাক্রমে আব্দুল বারী এবং সাবেক তারকা ফুটবলার আমিনুল হক।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

