প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) গণভবনে জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের চূড়ান্ত পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি পরিদর্শন করেন।
জাদুঘরে পৌঁছে তিনি ভেতরের প্রদর্শনী ঘুরে দেখেন, যেখানে ১৯৭৫ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ইতিহাস, শহীদদের স্মৃতি এবং ওই সময়কার নৃশংসতা তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়া সেখানে শেখ হাসিনার পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দলিল, চিঠিপত্র, ছবি, পোশাক, পত্রিকার কাটিং, অডিও-ভিডিও উপকরণ সংরক্ষিত রয়েছে।

পরিদর্শনকালে প্রধান উপদেষ্টা ১৫ মিনিটের একটি প্রামাণ্যচিত্র দেখেন, যা ফ্যাসিস্ট শাসনামলে সংঘটিত গুম, দমন-পীড়ন, বিরোধীদের ওপর হামলা এবং গণহত্যার চিত্র তুলে ধরে। তিনি বলেন, “এই জাদুঘর জুলাই শহীদদের রক্ত তাজা থাকতেই তৈরি হয়েছে। এটি এক নজিরবিহীন উদাহরণ। ভবিষ্যতে কোনো জাতি যেন এমন নিপীড়নের সম্মুখীন না হয়, তা নিশ্চিত করতে আমাদের সবাইকে সচেতন হতে হবে।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, “শিক্ষার্থীদের দলবদ্ধভাবে এই জাদুঘরে আসা উচিত। এখানে কিছু সময় কাটালে মানুষ বুঝতে পারবে কীভাবে এই জাতি নৃশংসতার মধ্য দিয়ে এসেছে। আয়নাঘরে বসে তারা উপলব্ধি করতে পারবে বন্দির অভিজ্ঞতা এবং মানবিক সাহসিকতার শিক্ষা।”

পরিদর্শনে তার সঙ্গে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ, জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান, জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামসহ অন্যান্য উপদেষ্টা ও মন্ত্রণালয় সচিবরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া গুমের শিকার পরিবার ও জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেয়া ছাত্রনেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী জানান, “অল্প সময়ে জাদুঘরের কাজ এই পর্যায়ে এসেছে। অনেক স্বেচ্ছাসেবী আট মাস ধরে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন। নির্বাচনের আগে এটি সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।”

তিনি আরও বলেন, “জুলাই জাদুঘর বাংলাদেশের অতীত-বর্তমান-ভবিষ্যতের রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ চিহ্ন হয়ে থাকবে এবং শিক্ষা, গবেষণা, শিল্প ও সাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।”
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

