ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৭ জুলাই, ২০২২, ২২ আষাঢ় ১৪২৯

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad
Janata Bank
Rupalibank

১৬ ঘণ্টায়ও নেভেনি আগুন, বাড়ছে মৃত্যের সংখ্যা


Ekushey Sangbad
নিজস্ব প্রতিবেদক
০২:৫৯ পিএম, ৫ জুন, ২০২২
১৬ ঘণ্টায়ও নেভেনি আগুন, বাড়ছে মৃত্যের সংখ্যা

প্রায় ১৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো নিয়ন্ত্রনে আসেনি চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোর আগুন। এরই মধ্যে প্রাণ হারিয়েছে ফায়ার সার্ভিসের ৮ কর্মীসহ ৪২ জন। দগ্ধ ও আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি দুই শতাধিক মানুষ।

 

রোববার (৫ জুন) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, পুরো ডিপো এলাকা যেন ধ্বংসস্তূপ পরিনত হয়েছে। এখানে ওখানে ছড়িয়ে ছটিয়ে রয়েছে বিস্ফোরণে ক্ষত-বিক্ষত ছোট ছোট কনটেইনার। এলো-মেলো অবস্থা পণ্য বোঝাই কনটেইনার। রাতভর ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের আগুন নেভানের যে প্রাণান্তকর চেষ্টা হয়েছে তা ডিপো প্রাঙ্গণে দেখে সহেজেই অনুমেয়।

 

ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরে বলছে, লাশের সারি আরও দীর্ঘ হতে পারে। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

 

শনিবার রাত সাড়ে ৯টা থেকে শুরু হওয়া আগুন এখনো জ্বলছে। আগুন নেভাতে সেনাবাহিনী ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা একযোগে কাজ করছে। এখনো বিভিন্ন কনটেইনারে দেখা যাচ্ছে আগুনের লেলিহান শিখা।

 

সেনাবাহানির ২৪ পদাতিক ডিভিশনের আরবান সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ টিমের প্রধান আরিফুল ইসলাম হিমেল বলেন, সকাল থেকেই আমরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছি। এখনও আগুন পুরোপুরি নেভেনি। কিছু কনটেইনারে এখনও আগুন জ্বলছে।

 

বিএম ডিপো কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে এবং ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে কোঅর্ডিনেট করে রাসায়নিক ও সাধারণ কনটেইনার আলাদা করার চেষ্টা করছি। আর যেন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে সে ব্যবস্থা নিচ্ছি। আর যেন কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটে সেই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সেনাবাহিনীর প্রায় ২০০ জনবল এখানে কাজ করছে।

 

তিনি বলেন, রাসায়নিক পদার্থ যে বের হয়ে গেছে তা বন্ধ করার চেষ্টা করছি। যাতে পরিস্থিতি আর খারাপ না হয়। কিছু সময় দিতে হবে।

শনিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকার বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ দুর্ঘটনায় ৩৭ জন নিহত ও দুই শতাধিক আহত হয়েছেন। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিকেলসহ আশপাশের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

 

ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরবর্তী সময়ে ইউনিট আরও বাড়ানো হয়। ফায়ার সার্ভিসের ২৫টি ইউনিটের ১৮৩ কর্মী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। এছাড়া নোয়াখালী, ফেনী, লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে কাজ করছেন।

 

সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকার বিএম কনটেইনার ২৪ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি মূলত পণ্য রপ্তানিতে কাজ করে। এখান থেকে পণ্য রপ্তানির জন্য কনটেইনারগুলো প্রস্তুত করে চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো হয়। ৩৮ ধরনের পণ্য রপ্তানিতে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। ঘটনার সময় সেখানে ৫০ হাজার কনটেইনার ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অগ্নিকাণ্ডের সময় অন্তত ২০০ শ্রমিক সেখানে কাজ করছিলেন বলেও জানা গেছে। তবে সেখানে ঠিক কত সংখ্যক মানুষ তখন ছিলেন তা এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি।

 

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে কন্টেনার থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

 

একুশে সংবাদকম/ঢ.প.জা.হা