মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের সামরিক হামলায় অংশ নেবে না বলে স্পষ্ট অবস্থান জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। একই সঙ্গে দেশটি অভিযোগ করেছে, যুদ্ধে অযৌক্তিকভাবে তাদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, সোমবার (৯ মার্চ) জেনেভায় জাতিসংঘে নিযুক্ত সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রদূত জামাল আল মুশারখ সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
তিনি বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত কোনো ধরনের সংঘাত বা উত্তেজনায় জড়াতে চায় না। যুদ্ধ শুরুর আগেই তারা পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো হামলা চালানো হবে না এবং তারা এমন কোনো সামরিক অভিযানে অংশ নেবে না।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, দেশের সামরিক ঘাঁটিগুলোও ইরানের ওপর হামলার জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে না। তিনি সব পক্ষকে উত্তেজনা কমিয়ে আলোচনার টেবিলে ফিরে আসার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, ওমানের মধ্যস্থতায় গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জেনেভায় ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তৃতীয় দফা পরোক্ষ আলোচনা হয়েছিল। এর দুই দিন পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রথম দফা হামলা চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলের কয়েকটি দেশে হামলা চালায় বলে জানা গেছে।
জামাল আল মুশারখ জানান, সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ১ হাজার ৪০০-র বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মুখে পড়েছে। এর মধ্যে অধিকাংশ হামলাই দেশটির প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, পানি শোধনাগার ও বিদ্যুৎকেন্দ্রের মতো বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা উস্কানিমূলক এবং এটি গ্রহণযোগ্য নয়। এসব হামলায় চারজন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং ১১৪ জন আহত হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ উপসাগরীয় দেশগুলো এই যুদ্ধের কোনো পক্ষ নয়। যারা সংঘাতে জড়িত নয়, তাদের লক্ষ্যবস্তু করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই।
এর আগে শনিবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান যুদ্ধের সময় প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলার ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেন। তবে এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আল মুশারখ বলেন, বাস্তব পরিস্থিতিই প্রমাণ করছে যে তার দেশ হামলার শিকার হচ্ছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

