AB Bank
  • ঢাকা
  • শনিবার, ২০ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

ইরানের ফাত্তাহ-২ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো অসম্ভব!


Ekushey Sangbad
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
০৬:৫৪ পিএম, ৫ মার্চ, ২০২৬

ইরানের ফাত্তাহ-২ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকানো অসম্ভব!

ইরানের তৈরি নতুন প্রজন্মের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ‘ফাত্তাহ-২’ বর্তমান বিশ্বের প্রচলিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় ধরনের প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, বিদ্যমান প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি দিয়ে এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন।

প্রভাবশালী সামরিক সাময়িকী মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হাতে থাকা বর্তমান ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো ফাত্তাহ-২ ধরনের হাইপারসনিক অস্ত্র মোকাবিলার জন্য যথেষ্ট সক্ষম নয়। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, চলতি মাসের শুরুতে ইসরায়েলের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনায় এই ক্ষেপণাস্ত্রের সফল আঘাত দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা সক্ষমতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফাত্তাহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রটি ‘হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকেল’ (এইচজিভি) প্রযুক্তির ওপর ভিত্তি করে তৈরি। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ক্ষেপণাস্ত্রটি বায়ুমণ্ডলের ঊর্ধ্বস্তরে অত্যন্ত উচ্চ গতিতে চলাচল করতে পারে এবং মাঝপথে হঠাৎ গতিপথ পরিবর্তনের সক্ষমতা রাখে। ফলে প্রচলিত রাডার ব্যবস্থার পক্ষে এর গতি ও অবস্থান নির্ভুলভাবে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।

ইসরায়েলের শীর্ষ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ‘রাফায়েল’-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ইউভাল বাসেস্কির উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত প্রচলিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মোকাবিলার জন্য তৈরি। কিন্তু ম্যাক-১০ বা তার বেশি গতিসম্পন্ন হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে হলে ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্রকে আরও কয়েকগুণ বেশি গতিতে চলতে হবে, যা বর্তমান প্রযুক্তিতে বাস্তবায়ন করা অত্যন্ত কঠিন।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, বায়ুমণ্ডলে অতিমাত্রার ঘর্ষণ ও তাপের কারণে এমন উচ্চগতির ইন্টারসেপ্টর তৈরি করা বৈজ্ঞানিকভাবেই বড় চ্যালেঞ্জ। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যবহৃত ‘অ্যারো’ কিংবা ‘ডেভিডস স্লিং’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাগুলো যেখানে পুরোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সামলাতেই চাপের মুখে পড়ছিল, সেখানে হাইপারসনিক প্রযুক্তি পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এই প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল নতুন ধরনের ‘জোনভিত্তিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা করছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের ধারণা, এমন একটি ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়নে দীর্ঘ সময় ও বিপুল আর্থিক বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ফাত্তাহ-২ ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা সামরিক শক্তির ভারসাম্যে নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, এই প্রযুক্তি কেবল একটি অস্ত্র নয়, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোতে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

Link copied!