সাম্প্রতিক একাধিক আত্মঘাতী হামলার জেরে আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদের দাবি, এসব হামলায় পাকিস্তান তেহরিক-ই-তালেবান (টিটিপি) ও তাদের সহযোগী সশস্ত্র গোষ্ঠীর ঘাঁটি লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
রোববার (২২ ফেব্রুয়ারি) পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আফগান সীমান্তবর্তী এলাকায় সাতটি স্থাপনায় ‘নির্বাচিত অভিযান’ পরিচালনা করা হয়েছে। এসব স্থাপনা থেকে পাকিস্তানের ভেতরে হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয় করা হচ্ছিল বলে দাবি করা হয়। একইসঙ্গে সীমান্ত অঞ্চলে আইএস-সংশ্লিষ্ট একটি গোষ্ঠীকেও লক্ষ্য করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকার এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে আল-জাজিরাকে দেওয়া আফগান সূত্রের তথ্যমতে, হামলাগুলো পাকতিকা ও নানগারহার—এই দুই সীমান্তবর্তী প্রদেশে চালানো হয়েছে। পাকতিকা প্রদেশে একটি ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ড্রোন হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।
পাকিস্তান সরকারের ভাষ্য অনুযায়ী, ইসলামাবাদ, বাজাউর ও বান্নু জেলায় সাম্প্রতিক হামলাগুলো আফগানিস্তানভিত্তিক নেতৃত্বের নির্দেশে সংঘটিত হয়েছে—এমন ‘চূড়ান্ত প্রমাণ’ তাদের হাতে রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরেই ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে, আফগান ভূখণ্ড ব্যবহার করে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো পাকিস্তানে হামলা চালাচ্ছে। তবে তালেবান সরকার এই অভিযোগ বরাবরই প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
উল্লেখ্য, শনিবার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় খাইবার পাখতুনখোয়ার বান্নু জেলায় একটি নিরাপত্তা বহরে আত্মঘাতী হামলায় এক লেফটেন্যান্ট কর্নেলসহ দুই সেনা নিহত হন। ওই ঘটনার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আফগানিস্তানে বিমান হামলা চালায় পাকিস্তান।
এর আগে, গত সোমবার বাজাউর জেলায় একটি নিরাপত্তা চৌকিতে বিস্ফোরকভর্তি গাড়ি হামলায় ১১ জন সেনা সদস্য ও এক শিশু নিহত হয়। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ জানায়, ওই হামলাকারী একজন আফগান নাগরিক।
এছাড়া, গত ৬ ফেব্রুয়ারি ইসলামাবাদের তারলাই কালান এলাকায় একটি মসজিদে জোহরের নামাজ চলাকালে আত্মঘাতী বিস্ফোরণে অন্তত ৩১ জন নিহত এবং ১৭০ জন আহত হন। হামলার দায় স্বীকার করে আইএস। পাকিস্তান সেনাবাহিনীর দাবি, ওই হামলার পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ আফগানিস্তান থেকেই পরিচালিত হয়েছিল।
পাকিস্তান স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ২০২০ সালে কাতারের দোহায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তালেবান যে চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল, তাতে আফগান ভূখণ্ড অন্য দেশের বিরুদ্ধে ব্যবহার না করার অঙ্গীকার ছিল। সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে কাবুলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
পাকিস্তানের মতে, এই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: আল-জাজিরা
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

