. ফুলে সজ্জিত হলুদ শিমুল গাছটি নজর কাড়ছে প্রকৃতিপ্রেমী ও দর্শনার্থীদের
বসন্তের একটু ছোঁয়া পেলেই শিমুল গাছে রাশি রাশি ফুল ফুটতে শুরু করে। শিমুল ফুলের রঙ গাঢ় লাল। কখনও ফিকে লাল রঙের ফুলও দেখা যায়। বেশিরভাগ জায়গায় শুধু লাল রঙের শিমুল দেখা গেলেও এবার মৌলভীবাজারে দুষ্প্রাপ্য হলুদ শিমুলের দেখা মিলেছে।
সরজমিন দেখা গেছে, সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের আজমেরু গ্রামে অবস্থিত বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজের কাছে যেতেই চোখে পড়ে হলুদ শিমুল গাছটি। প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার পাতাঝরা গাছটির ডালে ডালে ফুটে আছে অসংখ্য ফুল। কোথাও একটি, কোথাও দু-তিনটি, আবার কোনো ডালে একসঙ্গে অনেকগুলো। ডালজুড়ে রয়েছে সবুজ ও আধফোটা অসংখ্য কলিও। দূর থেকেই ফুলে সজ্জিত গাছটি নজর কাড়ে যে কারও।
এসময় দেখা যায়, বার্ড পার্কের মসজিদ প্রাঙ্গণে নানা প্রজাতির ফুলগাছের সমাহার। বিশেষ করে একটি গোলাপি কাঞ্চনগাছ লাল হয়ে গেছে ফুলে। ডালজুড়ে শুধু ফুল আর ফুল। গাছের কোথাও একটুও ফাঁক নেই, শুধু ফুলে ছাওয়া। এ ফুল সাধারণত শীতের শেষের দিকে বা বসন্তাকলে ফোটে।
যে কাউকে মুগ্ধ করার মতো একসঙ্গে অনেক ফুল ফোটে গাছে। তবে সবার মাঝেই আলাদা হয়ে চোখে পড়ে এক গাছ, যার ডালে ডালে ফুটে আছে বিরল হলুদ শিমুল। দুষ্পাপ্য এই ফুল দেখতে দূর-দূরান্ত থেকে প্রতিদিনই দর্শনার্থী আসছেন ওই পার্কে।
স্থানীয়দের ভাষায়, সাধারণত এ অঞ্চলে লাল বা লাল-হলুদ মিশ্র শিমুল ফুল বেশি দেখা যায়। একেবারে হলুদ শিমুল খুবই দুর্লভ। ফুল দেখতে লাল শিমুলের মতোই। এটি উজ্জ্বল হলুদ রঙের ফুল। ফুল ফোটার আগে লাল শিমুলের মতো হলুদ শিমুল গাছের পাতাও ঝরে যায়। গাছের গড়ন, ফোটার সময় এবং ফুলের বিন্যাস একই রকম। ব্যতিক্রমী হলো রঙ। হলুদ রঙের শিমুল ফুল সংখ্যায় খুবই কম। এমন ফুল এর আগে এই এলাকায় চোখে পড়েনি।
বিরল এই শিমুল দেখতে প্রতিদিনই পার্কে ভিড় করছেন কৌতূহলী দর্শনার্থীরা। তারা থমকে দাঁড়ান, ছবি তোলেন। অনেকে বিস্ময়ে বলছেন শিমুল তো লালই হয়, হলুদও হয় নাকি! হলুদ শিমুল দেখতে আসা ইমরান হোসাইন বলেন, শিমুল তো সব সময় লাল দেখেছি। এবার খুবই ব্যতিক্রম হলুদ শিমুল ফুল দেখে অসাধারণ সুন্দর লাগছে।
আরেক দর্শনার্থী কলেজ শিক্ষার্থী রাবেয়া জামান বলেন, দূর থেকেই গাছটি আলাদা করে চোখে পড়ে। কাছে গিয়ে দেখি ডালে ডালে হলুদ শিমুল ফুল। এমর চমৎকার ফুল দেখে মুগ্ধ হলাম এবং ক্যামেরাবন্দি হলাম।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) জাতীয় পরিষদ সদস্য আ স ম সালেহ সোহেল বলেন, প্রকৃতির বৈচিত্র্য যে কত সমৃদ্ধ, এই গাছ তারই উদাহরণ। এ ধরণের বিরল প্রজাতি টিকিয়ে রাখতে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি এটি সংরক্ষণ করা জরুরি। বিরল গাছ হিসেবে পরিচর্যা দরকার।
বার্ড পার্ক অ্যান্ড ইকো ভিলেজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও তরুণ উদ্যোক্তা জাহেদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, হলুদ শিমুল খুবই দুষ্প্রাপ্য। দুই বছর আগে সাদা, লাল ও হলুদ শিমুল লাগিয়েছিলাম। প্রায় ১০ ফুট উচ্চতার গাছে গত বুধবার প্রথম হলুদ শিমুল ফুটেছে। দুর দূরান্ত থেকে অনেকেই দেখতে আসেন। নিজের কাছেও ভালো লাগে। কারণ হলুদ শিমুলের দেখা খুব একটা যায়না। প্রায় সবই লাল ফুল।
গাছটিকে বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা আছে। এছাড়া বার্ড পার্কে দুর্লভ ও বিরল আরও ফুলের গাছ লাগানোর ইচ্ছা আছে। উদ্যোক্তা জাহেদ বলেন, হলুদ শিমুল ছাড়াও পার্কে সাদা এবং লাল শিমুল গাছগুলোতেও এবার ফুল ফুটেছে। সাদা শিমুলগাছে সবুজ পাতা রয়েছে।
অন্য শিমুলের মতো ডাল পাতাশূন্য নয়। এই উদ্ভিদের গা ও ডালপালার রং সবুজ। সাদা শিমুল ফুলও অন্য শিমুলের চেয়ে অনেক ছোট। গাছের বিভিন্ন ডালে থোকা থোকা সাদা ফুল ফুটে আছে। এই ফুলও অনেকটাই বিরল। সাধারণত চোখে পড়ে না।
কথাসাহিত্যিক আকমল হোসেন নিপু জানান, এ অঞ্চলে হলুদ শিমুলের দেখা মেলে না বললেই চলে। হলুদ শিমুল একটি দুষ্প্রাপ্য ও বিরল প্রজাতির ফুল। এর উজ্জ্বল হলুদ রঙ সহজেই দৃষ্টি কাড়ে। শীতের শেষে ফালগুন চৈত্রে এই ফুল ফোটে।
ফুল ফোটার আগে লাল শিমুলের মতোই হলুদ শিমুলগাছের পাতাও ঝরে যায়। গড়ন ও আকৃতিতে এটি লাল শিমুলের মতোই, তবে রঙের ভিন্নতায় তৈরি করে আলাদা আবেদন। হলুদ ফুল প্রকৃতিকে দেয় এক অনন্য নান্দনিকতা। মাঘের শেষ আর ফালগুনের শুরুতে প্রকৃতিতে শোভা পায় শিমুল ফুল। চৈত্র মাসের শেষের দিকে ফল পুষ্ট হয়।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

