টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলের কারণে দেশের উত্তরাঞ্চলের নীলফামারী, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও রংপুর জেলায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্বল্পমেয়াদি বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে সতর্ক করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
শনিবার (২০ জুন) কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী নুসরাত জাহান জেরিন গণমাধ্যমকে জানান, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ প্রবণতা অব্যাহত থাকলে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এসব নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে এবং নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি সমতল বেড়েছে। আগামী তিন দিন এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে চার জেলার নিম্নাঞ্চলে অন্তত তিন দিনের জন্য স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের প্রধান নদ-নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচে রয়েছে। তবে রংপুর, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগে এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, মেঘালয় ও অরুণাচল প্রদেশে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকায় নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।
পূর্বাভাসে আরও বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীর পানি আগামী পাঁচ দিন বাড়লেও তা বিপৎসীমার নিচেই থাকতে পারে। অন্যদিকে গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানিও আপাতত স্থিতিশীল থাকলেও সপ্তাহের শেষভাগে কিছুটা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
এ ছাড়া সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের কিছু নিম্নাঞ্চল এবং সোমেশ্বরী, জিঞ্জিরাম, কংস ও ভুগাই নদীর পানি বাড়তে থাকায় নেত্রকোনা, ময়মনসিংহ ও শেরপুর জেলার নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলেও সাময়িক প্লাবনের আশঙ্কা রয়েছে।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশনা অনুসরণ করার পরামর্শ দিয়েছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

