AB Bank
  • ঢাকা
  • শুক্রবার, ০৫ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে কঠোর বার্তা-শিক্ষামন্ত্রীর


Ekushey Sangbad
রফিকুল ইসলাম রাফি
১১:৫০ পিএম, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

এসএসসি পরীক্ষা নিয়ে কঠোর বার্তা-শিক্ষামন্ত্রীর

আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা ২০২৬ সামনে রেখে শিক্ষাব্যবস্থার মান, নকল, পাশের হার, খাতা মূল্যায়ন এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা—সবকিছু নিয়ে বিস্তৃত ও কড়া বার্তা দিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকাল ১১টায় আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজ অডিটরিয়ামে ঢাকা অঞ্চলের অধীন মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের কেন্দ্র সচিবদের সঙ্গে আসন্ন এসএসসি ও সমমান পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত পরিবেশে আয়োজনের লক্ষ্যে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, তিনি বর্তমানে সারাদেশ ঘুরে বেড়াচ্ছেন পরীক্ষা কেন্দ্রিক প্রস্তুতি তদারকিতে। তবে এবারের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ও সময়সূচি পূর্ববর্তী সরকার নির্ধারণ করে গেছে এবং এতে তার কোনো কাজ ছিল না। তাই এবারের ফলাফল কেমন হবে, তা নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন।

পাশের হার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, হঠাৎ করে অস্বাভাবিক বৃদ্ধি বিশ্বাসযোগ্য নয়। তার মতে, ২০০৬ সালের রেখে যাওয়া শিক্ষা পদ্ধতি সঠিকভাবে অনুসরণ করা হলে শতভাগ শিক্ষার্থী পাশ করার মতো অবস্থায় থাকার কথা ছিল, কারণ কোনো শিক্ষার্থী ফেল করার জন্য পড়াশোনা করে না।

তিনি অতীতের ফলাফল তুলে ধরে বলেন, ২০০২ সালে এসএসসি পরীক্ষায় পাশের হার ছিল ৪০.৬৬ শতাংশ, ২০০৩ সালে ৪০.০৪ শতাংশ, ২০০৪ সালে ৪৩.৩০ শতাংশ, ২০০৫ সালে ৫২.৮৫ শতাংশ এবং ২০০৬ সালে ৬১.৩৫ শতাংশ—যা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিন্তু পরবর্তীতে নতুন সরকার আসার পর পাশের হার দ্রুত বাড়তে থাকে এবং ২০২১ সালে ৯৩.১৫ শতাংশে পৌঁছায়। এরপর ২০২২ সালে ৯০ শতাংশ, ২০২৩ সালে করোনাকালীন সময়ে ৭৭ শতাংশ, ২০২৪ সালে ৮৪.৯২ শতাংশ এবং ২০২৫ সালে কমে ৬৭ শতাংশে নেমে আসে। তিনি প্রশ্ন রাখেন, “৯০ শতাংশ থেকে ৬৭ শতাংশে নামলো কেন—কোন শিক্ষক আমাকে বলতে পারবেন?”

তিনি অভিযোগ করেন, বিগত সরকারের আমলে পাশের হার বাড়ানোর জন্য খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন না করেই শিক্ষার্থীদের পাশ করানো হয়েছে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীরা কী লিখেছে তা যাচাই না করেই নম্বর দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, এবারে খাতা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা হবে এবং শিক্ষার্থীরা যত নম্বর পাওয়ার যোগ্য, ততটাই দেওয়া হবে।

তবে তিনি বলেন, বর্তমান আইনে সরকারের পক্ষে পরীক্ষার খাতা সরাসরি যাচাই করার সুযোগ নেই। ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইনে এ ধরনের তদারকির বিধান নেই। পরীক্ষক খাতা নিজে দেখছেন নাকি অন্য কাউকে দিয়ে দেখাচ্ছেন—তা যাচাই করারও সুযোগ নেই।

একটি বাস্তব উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, চাঁদপুরের কচুয়ার এক শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পাওয়ার যোগ্য হওয়া সত্ত্বেও তাকে ফেল করানো হয়েছিল। পরে বিচারিক ক্ষমতা ব্যবহার করে খাতা বের করে দেখা যায়, খাতার উপরে ওয়ারশিট থাকলেও ভেতরের অংশ পরিবর্তন করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী বর্তমানে পিজি হাসপাতালের একজন হার্ট বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, এ ধরনের কারণে অতীতে অনেক শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে।

এই সমস্যা সমাধানে ১৯৮০ সালের পাবলিক পরীক্ষা আইন সংশোধনের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি। তিনি উল্লেখ করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময়ে প্রণীত এই আইন বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

নকলের পরিবর্তিত ধরন নিয়ে মন্ত্রী বলেন, আগে পরীক্ষার হলে নকল করলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যেত, কিন্তু এখন নকলের ধরন পরিবর্তিত হয়েছে। বর্তমানে ডিজিটাল নকল এবং খাতায় উত্তর লিখে দেওয়ার মতো পদ্ধতি চালু হয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষকই শিক্ষার্থীদের খাতায় উত্তর লিখে দেন বা বাড়তি নম্বর দেন। ফলে শিক্ষার্থীরা প্রশ্নপত্রই খাতায় লিখে নম্বর পাচ্ছে—যার সঙ্গে প্রকৃত শিক্ষার কোনো সম্পর্ক নেই।

তিনি বলেন, ২০০১ সালের আগে শিক্ষকরাই নকলের সহযোগিতা করেছেন, আবার ২০০২ থেকে ২০০৬ সালের মধ্যে তারাই নকল বন্ধ করেছেন। ফলে নকলের জন্য সরকার নয়, বরং শিক্ষকদের ভূমিকাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। ২০২৫ সালে শিক্ষকরা খাতা কঠোরভাবে মূল্যায়ন করায় পাশের হার কমে গেছে, যা প্রকৃত চিত্র তুলে ধরেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইউনেস্কো কমিশন, বিশ্বব্যাংক ও এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠকে তারা অর্থায়ন কমিয়ে দিয়েছে। আগে যেখানে ১০০ মিলিয়ন ডলার সহায়তা দেওয়া হতো, এখন তা কমে ৫০ মিলিয়নে নেমে এসেছে। তারা জানতে চেয়েছে, আগে নেওয়া অর্থ কীভাবে ব্যয় হয়েছে এবং তার কী ফলাফল হয়েছে। এ প্রশ্নের সন্তোষজনক জবাব দিতে না পারার কথাও স্বীকার করেন তিনি। গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন থেকে প্রাপ্ত অনুদানও শিক্ষার মানোন্নয়নের ওপর নির্ভর করছে বলে জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, শিক্ষার মান উন্নত না হওয়ায় অভিভাবকরা বাধ্য হয়ে একাধিক প্রাইভেট শিক্ষক নিয়োগ করছেন এবং পরে কোচিং সেন্টারের ওপর নির্ভর করছেন। স্কুলে সঠিকভাবে পড়ানো না হওয়ায় এই প্রবণতা বেড়েছে। কোচিং সেন্টারগুলো নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় এগুলো বিস্তার লাভ করছে।

শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষকদের আরও দক্ষ ও প্রশিক্ষিত করতে হবে। তারা যদি শ্রেণিকক্ষে সঠিকভাবে পাঠদান করেন, তাহলে শিক্ষার্থীরা স্বাভাবিকভাবেই ভালো করবে। এ লক্ষ্যে তিনি আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কাছে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের জন্য অতিরিক্ত অর্থ সহায়তা চেয়েছেন।

তিনি আরও বলেন, খাতা মূল্যায়নে স্বচ্ছতা আনতে র‍্যান্ডম চেকিং ও রি-এক্সামিনেশনের ব্যবস্থা চালু করা হবে। এতে যেসব শিক্ষার্থী অন্যায়ভাবে কম নম্বর পেয়েছে, তারা উপকৃত হবে।

শিক্ষকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমি আপনাদের অভিভাবক। কেউ যেন আপনাদের ঠকাতে না পারে।” সরকারি সরঞ্জাম গ্রহণে সতর্ক থাকতে এবং কোনো অনিয়ম হলে সরাসরি তাকে জানানোর আহ্বান জানান। এ সময় তিনি নিজের ব্যক্তিগত ফোন নম্বরও দেন।

লটারি পদ্ধতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, লটারি মেধা নির্ধারণ করে না এবং ধনী-গরিবের পার্থক্যও করে না। সব এলাকায় ভালো স্কুল রয়েছে, তাই নিজ এলাকার স্কুলেই শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা করা উচিত—এমন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরির আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক যদি নিজের সন্তানের ভর্তি নিশ্চিত করতে না পারেন, তাহলে তার পদত্যাগ করা উচিত।

সভায় এসএসসি পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে কেন্দ্র সচিবদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়। জানানো হয়, সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে পরীক্ষা পর্যবেক্ষণ করা হবে। বিদ্যুৎ বা যান্ত্রিক ত্রুটির কোনো অজুহাত গ্রহণযোগ্য হবে না। তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণ সম্ভব না হলেও আর্কাইভ ফুটেজ দেখে পরে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়াও শিক্ষামন্ত্রী আগামী ছয় মাসের মধ্যে শিক্ষকদের বেতনসহ যৌক্তিক দাবি নিয়ে ইতিবাচক সুসংবাদ দেওয়ার কথা বলেন।

 

একুশে সংবাদ/রাফি/বাবু/যাবিদ

Link copied!