কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মানবপাচারের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় উপজেলা শাখার গণ অধিকার পরিষদের নেতা সামসুল মামুন (৩২)কে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিবাগত রাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের সিলেট বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিমন বোস।
গ্রেপ্তার সামসুল মামুন উপজেলার কালিকাপ্রসাদ ইউনিয়নের সিরাজ পাগলা মাজারসংলগ্ন এলাকার মৃত লাল মিয়া ফকিরের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ মে কিশোরগঞ্জের জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইনে একটি মামলা দায়ের করেন অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন। মামলায় সামসুল মামুনসহ তাঁর পরিবারের পাঁচজনকে আসামি করা হয়। পরে আদালত মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করার নির্দেশ দিলে ১ জুন ভৈরব থানা পুলিশ মামলাটি রেকর্ড করে। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে সামসুল মামুনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রায় দুই বছর আগে অভিযোগকারী অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেনের ছোট ভাই মোবারক হোসেনকে আলবেনিয়া হয়ে ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে ১৫ লাখ টাকায় চুক্তি করা হয়। ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারি পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র গ্রহণের সময় ১০ লাখ টাকা এবং একই বছরের ১০ এপ্রিল ভিসা দেখিয়ে আরও ৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে তাঁকে বিদেশে পাঠানো বা টাকা ফেরত—কোনোটিই না করায় আদালতের মাধ্যমে মামলাটি দায়ের করা হয়।
অভিযোগকারী অ্যাডভোকেট মোশারফ হোসেন বলেন, ইতালিতে পাঠানোর কথা বলে তাঁর ছোট ভাইয়ের কাছ থেকে মোট ১৫ লাখ টাকা নেওয়া হয়। পরে দীর্ঘদিন টাকা ফেরত না দেওয়ায় তিনি আদালতের শরণাপন্ন হন। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার এবং অর্থ ফেরত পাওয়ার দাবি জানান।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে সামসুল মামুন বলেন, তিনি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার। একটি চক্র তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়েছে। সুষ্ঠু তদন্ত হলে তিনি নির্দোষ প্রমাণিত হবেন। বিদেশে লোক পাঠানোর অর্থ লেনদেনের সঙ্গে তিনি সরাসরি জড়িত নন বলেও দাবি করেন।
ভৈরব থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) লিমন বোস বলেন, আদালতের নির্দেশে ভৈরব থানায় মামলাটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার সামসুল মামুনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

