মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার বাছিরপুর (চাক্কাটিলা) গ্রামের শিকলবন্দী দুই মানসিক রোগী বোনের পাশে দাঁড়িয়েছে জুড়ী থানা পুলিশ।
বুধবার (২২জুলাই) দুপুরে জুড়ী থানার ওসি রফিকুল ইসলাম অসহায় পরিবারটির বাড়িতে গিয়ে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন।
জানা যায়, মৃত মরতুজ আলীর স্ত্রী জামিনা খাতুনের দুই মেয়ে আফিয়া খাতুন ও রোবেনা বেগম দীর্ঘদিন ধরে মানসিক রোগে ভুগছেন। দারিদ্রতা, অর্থসংকট এবং যথাযথ চিকিৎসার অভাবে একজন প্রায় ১৫ বছর ও অন্যজন প্রায় ৮ বছর ধরে বাড়িতেই শিকলবন্দী জীবন কাটাচ্ছেন।
স্বামী মারা যাওয়ার পর মানুষের বাড়িতে কাজ ও ভিক্ষা করে তিন মেয়েকে লালন-পালন করেন জামিনা খাতুন। বড় মেয়ে আফিয়া বিয়ের পর মৃত সন্তান প্রসবের ঘটনায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন।
পরে স্বামীর তালাকের পর তার অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। একইভাবে দ্বিতীয় মেয়ে রোবেনাও মৃত সন্তান প্রসবের পর মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেন এবং পরবর্তীতে স্বামীর তালাকের শিকার হন। এরপর থেকে দুই বোন মায়ের আশ্রয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন।
জামিনা খাতুন বলেন, মেয়েদের চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য নেই। কেউ সহযোগিতা করলে হয়তো ওরা আবার সুস্থ হতে পারবে।
বিষয়টি জানার পর ওসি রফিকুল ইসলাম খাদ্যসামগ্রী নিয়ে পরিবারটির পাশে দাঁড়ান। তিনি বলেন, মানবিক দায়িত্ববোধ থেকেই আমরা পরিবারটির পাশে এসেছি। সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এলে দুই বোনের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব হবে।
পশ্চিম জুড়ী ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম জানান, তিনি অসহায় পরিবারটিকে নগদ অর্থ, খাদ্য সহায়তা এবং ঘর তোলার জন্য টিনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। এছাড়া মেয়েদের প্রতিবন্ধী ভাতা এবং তাদের মায়ের বিধবা ভাতার ব্যবস্থা করে দিয়েছেন।
স্থানীয়দের মতে, দীর্ঘদিন চিকিৎসাবঞ্চিত এই দুই নারীর উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা গেলে তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। সমাজের বিত্তবান ও মানবিক ব্যক্তিদের সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

