সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় একজন প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাই ৮৪টি বিদ্যালয় করছেন তদারকি। সহকারী শিক্ষা অফিসার এটিও পদগুলো রয়েছে শূন্য। ভাটি অঞ্চলের হাওর বেষ্টিত উপজেলা, যার নাম মধ্যনগর। হাওরের রাজধানী খ্যাত অবহেলিত মধ্যনগর উপজেলায় জনবলের অভাবে শিক্ষা ব্যবস্হা খুবই পিছিয়ে গেছে।
এরমধ্যে নেই কেনো উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্হা, নেই কেনো সড়ক পথ, হাওরাঞ্চলের একটি প্রবাদ প্রচলিত আছে যে, "বর্ষায় নাও হেমন্তে পাও" এরপরেও যুগের পর যুগ এভাবেই চলছে তো চলছেই। এরমাঝে একজন শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়ে চলছে শিক্ষার কার্যক্রম,পাঁচবছরেও এই উপজেলায় কতৃপক্ষের লোকবল ভাঁড়ানোর কোনো উদ্যোগ নেই।
সরকারের শিক্ষা দপ্তর কতৃপক্ষের গড়িমসি আর গাফিলতির ধুমড়া জালে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্হা প্রশাসনিক কাঠামো এখন নড়বড়ে অবস্থায় চলছে। গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দপ্তরের মধ্যনগর উপজেলায় প্রাথমিক শিক্ষার অস্থায়ী কার্যালয়টি চলছে একজন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়ে। এতে শিক্ষার মানোন্নয়নের নেই কেনো অগ্রগতি। নড়বড়ে প্রশাসনিক একাডেমির কারণে দিনদিন শিক্ষাঙ্গণগুলো নাজুক অবস্থায় ডলে পরতে শুরু হয়েছে।
বিদ্যালয়গুলি তদারকির দায়িত্ব পালনে চরম সংকটে পরেছেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার। বিদ্যালয়গুলি তদারকির কার্যক্রম খুবই বিঘ্নিত হচ্ছে জনবলের অভাবে। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সহকারী শিক্ষা অফিসার (এটিও) না থাকায় বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে একেবারেই নিমজ্জিত হয়ার পথে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, বিদ্যালয়ের প্রতিটি ক্লাস্টারে একজন সহকারী শিক্ষা অফিসার (এটিও) থাকার কথা। মাসে অন্তত ১০ টি বিদ্যালয় পরিদর্শনের নির্দেশ থাকলেও,পরিদর্শনের এমন কোনো দৃশ্য কয়েক মাসেও দেখা যায় না।
তাছাড়া শিক্ষক উপস্থিতি ও মানসম্মত শ্রেণিকক্ষের পরিবেশ, শিক্ষার মানোন্নয়ন, পাঠদানের পদ্ধতি মূল্যায়ন করা, শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া, দুর্বল শিক্ষার্থীদের শিক্ষার উন্নয়নে নির্দেশনা প্রদান করা,শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করা, নতুন শিক্ষাকার্যক্রম বাস্তবায়নে সহযোগিতা করা, বিভিন্ন রেজিস্টার ও উপস্থিতি খাতা দেখা,ফলাফল পর্যালোচনা করা, সরকার বা শিক্ষা অফিস থেকে আসা নির্দেশনা বাস্তবায়ন করা, পরিদর্শনের পর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে রিপোর্ট জমা দেওয়া সহ অন্যান্য সমস্যা ও উন্নয়নের জন্য সংশ্লিষ্টদের কাছে সুপারিশ করার কাজগুলো গুরুত্ব দেওয়া। সেখানে এধরনের কোনো কাজেই এলাকার মানুষের চোখে পরে না।
মধ্যনগর উপজেলায় ৪টি ইউনিয়নে দুটি ক্লাস্টারে ভাগ করা হয়েছে, এরমধ্যে মধ্যনগর ও চামরদানী একটি ক্লাস্টার, এবং দক্ষিণ বংশিকুন্ডা ও উত্তর বংশিকুন্ডায় একটি ক্লাস্টার করা হয়েছে।
উপজেলা কার্যালয়ে কর্মরত আছেন একজন শিক্ষা কর্মকর্তা, একজন কাম কম্পিউটার,একজন হিসাব রক্ষক। তাছাড়া উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার (UAPEO) এর দুটি পদ শূন্য এবং একজন অফিস সহকারীর পদ শূন্য রয়েছে। এতে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাই দুটি ক্লাস্টারের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এছাড়াও ৮৪ টি বিদ্যালয়ের খুঁজ খবর নিয়ে বিদ্যালয়গুলি নজরে রাখতে একেবারেই অসম্ভব হয়ে গেছে।
কালিশাকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রাশেদ আলম বলেন, সহকারী শিক্ষা অফিসার না থাকায় শিক্ষার মানোন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হচ্ছে। ক্লাস্টার ভিত্তিক তদারকি থাকলে শিক্ষা কার্যক্রমে গতিশীলতা আসতো। এবং সামগ্রিকভাবে শিক্ষার মান উন্নত হতো,নির্দিষ্ট বিদ্যালয় নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় থাকতো, যা প্রাথমিক শিক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতো।
সাউদপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ রফিকুল ইসলাম রফিক বলেন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী শূন্যতায় প্রশাসনিক নানা কাজ ব্যাহত হচ্ছে। একজন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা দিয়ে বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন ও ক্লাস্টার পরিচালনার কাজ চালিয়ে নেওয়াও খুব কঠিন ও দুরবস্থা দেখা দিয়েছে।
মধ্যনগর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন বলেন, কার্যালয়ে আমিই একমাত্র ব্যক্তি,যেখানে সব কাজই আমাকে করতে হয়। ক্লাস্টারের দায়িত্ব পালন করা সহ বিভিন্ন ধরনের দায়িত্ব পালন করা অত্যন্ত কঠিন। বিদ্যালয়ের সংখ্যা বেশি হওয়ায় নিয়মিত তদারকি সম্ভব হয় না।
কর্মকর্তা কর্মচারী সংকটের কারণে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন বিষয়ক ক্লাস্টার প্রশিক্ষণ পরিচালনাসহ যাবতীয় কাজকর্ম একা করতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছি। ফলে শিক্ষা কার্যালয়ের কার্যক্রম ও বিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থা প্রায় স্থবিরের পথে। তাছাড়াও প্রাথমিকের শিক্ষা কার্যক্রম ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আমি আমার উর্ধতন কতৃপক্ষকে লিখিত ভাবে জানিয়েছি সহকারী শিক্ষা অফিসার( এটিও) সহ বাকি শুন্য পদগুলোর নিয়োগ দেওয়া জন্য।
সুনামগঞ্জ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ডিপিও মোহন লাল দাস বলেন, পুরো জেলাতেই জনবলের অভাব, মিনিস্ট্রি থেকে নিয়োগ দিলেই মধ্যনগর উপজেলায় সহকারী শিক্ষা অফিসার পদায়ন করা হবে। আশাকরি কিছু দিনের মধ্যে মধ্যনগর সহ প্রত্যেক উপজেলায় শূন্য পদের সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

