চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার চৌরাঙ্গী বাজারে সরকারি খাল দখল করে অবৈধ দোকানপাট ও পাকা স্থাপনা নির্মাণের ঘটনায় কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন আদালত।
গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ আমলে নিয়ে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা দায়ের করেছেন ফরিদগঞ্জ আমলি আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট পলাশ বর্ধন। মঙ্গলবার বিকেলে চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের নাজির ফখরুদ্দিন আহমেদ স্বপন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮-এর ১৯০(১)(গ) ধারার বিশেষ ক্ষমতাবলে আদালত এ মামলাটি রুজু করেছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাবশালী মহল সরকারি খাল দখল করে সেখানে অবৈধভাবে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করেছে এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। খালের স্বাভাবিক পানিপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ায় স্থানীয় কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, যা জনস্বার্থ ও সরকারি সম্পদের পরিপন্থী।
আদালতের পর্যবেক্ষণে ‘ভূমি অপরাধ প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৩’-এর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে উল্লেখ করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী, সরকারি জায়গা বা জনস্বার্থে ব্যবহৃত কোনো জমি অবৈধভাবে দখল করে স্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা একটি আমলযোগ্য অপরাধ। জনস্বার্থে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা করা এবং দখলদারদের আইনের আওতায় আনার লক্ষ্যে আদালত এই কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছেন।
ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দায়ীদের শনাক্ত করার লক্ষ্যে আদালত ফৌজদারি কার্যবিধির ২০২ ধারার অধীনে ফরিদগঞ্জের সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরেজমিনে তদন্ত করে খালের ওপর অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণকারী এবং সেখানে ব্যবসা পরিচালনাকারীদের নাম ও পূর্ণাঙ্গ ঠিকানা সংগ্রহ করে যাচাই করতে হবে। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে আদালতে বিস্তারিত প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
আদালতের এমন উদ্যোগে স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহলে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা আশা করছেন, আদালতের এই নির্দেশনার মাধ্যমে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং দ্রুত খালটি দখলমুক্ত হয়ে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক হবে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

