সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার মহিষখলা বাজারের এবং ভারতের মেঘালয় রাজ্যের সীমান্ত ঘেষা মহিষখলা গ্রামে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তর স্মৃতিসৌধটি অবহেলায় অযত্নে পড়ে আছে,দেখার কেউ নেই।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়,স্মৃতিসৌধের খুব কাছে দিয়ে বয়ে যাওয়া নদীর তীব্র স্রোতে পাড় ভেঙে যাচ্ছে। বর্ষা মৌসুমে পানির চাপ বাড়লে যে কোনো সময় স্মৃতিসৌধটি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নদী ভাঙনের ঝুঁকিতে দাড়িয়ে আছে অপরিষ্কার ময়লার বাগাড়ে স্মৃতিসৌধ। এখনই সরকারের নজরদারিতে না নিলে, নদীর গর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা করছেন এলাকাবাসী। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলের স্রোতে নদীর পাড় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে।
ফলে স্মৃতিসৌধটি আশংকাজনক হলেও দেখার মতো কেউ নেই। একাত্তরের রণাঙ্গনে শহীদের স্বরণীয় স্মৃতিচারণ বর্ণনাতে এক ঐতিহাসিক বাস্তবতার স্বাক্ষী হিসেবে, ১১ নাম্বার সেক্টরের ১ নাম্বার সাব-সেক্টর মহিষখলায়, গত ২০১১ সালে সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসকের অর্থায়নে ১ কোটি ৯ লক্ষ টাকা ব্যায়ে সৌধশিখর নির্মাণ করা হয়।
স্মৃতিসৌধটি নদী ভাঙনের কবল থেকে রক্ষা করতে হলে, সরকারের কার্যকারি উদ্যোগ নেওয়া জরুরী। দেয়াল নির্মাণের পাশাপাশি সার্বক্ষণিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কর্মচারী নিয়োগেরও প্রয়োজন ব`লে মনে করছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের চেয়ারম্যান সোলায়মান মিয়া বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ও শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধার প্রতীক এই স্মৃতিসৌধ। এটি শুধু মধ্যনগরের নয়, এটি একটি দেশের জাতীয় সম্পদ।
অথচ নদী ভাঙন ও অবহেলার কারণে আজ এটি ধ্বংসের মুখে। আমরা সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই, অবিলম্বে স্মৃতিসৌধের চারপাশে স্থায়ী প্রতিরক্ষা দেয়াল নির্মাণ করা হোক।
তিনি আরও বলেন,স্মৃতিসৌধটির সৌন্দর্য রক্ষা ও সার্বক্ষণিক দেখভালের জন্য সরকারিভাবে লোকবল নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি এলাকাটিকে পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে। এবং নতুন প্রজন্মের কাছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তুলে ধরতে হবে।
বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সন্তান সংসদ, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের উপপ্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, স্মৃতিসৌধটি ঝুঁকির মধ্যে আছে। আমরা এলাকাবাসী সরকারের কতৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানাই, দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে এই জাতীয় সম্পদটি রক্ষা করতে। অন্যথায় একদিন এই স্মৃতি নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে সরকার ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি করেছেন।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

