AB Bank
  • ঢাকা
  • রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

শ্রীমঙ্গলে হারমোনি ফেস্টিভ্যাল উদ্বোধন করেন মন্ত্রী



শ্রীমঙ্গলে হারমোনি ফেস্টিভ্যাল উদ্বোধন করেন মন্ত্রী

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম বলেছেন, তারেক রহমানের সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে পর্যটন খাত অংশে কমিনিউটি ট্যুরিজম, এথনিক ও ওয়াটার ট্যুরিজম বিকাশের বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’  সেই অঙ্গীকারের একটি অংশ। হারমোনি ফেস্টিভ্যাল দেশের বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি-সম্প্রীতি এবং পর্যটন শিল্পকে তুলে ধরার এক অনন্য আয়োজন। পাহাড়, চা-বাগান এবং ২৭ জাতিগোষ্ঠীর মেলবন্ধনে আজকে এই উৎসবটি জীবন্ত রূপ পায়। সতাশটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অংশগ্রহণে আয়োজিত এই বর্ণাঢ্য উৎসবটি পর্যটন শিল্পের বিকাশে যেমন ভূমিকা রাখছে, তেমনি স্থানীয় ও আর্ন্তজাতিক পর্যটকদের কাছে বাংলাদেশের সম্প্রীতি এবং দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে তুলে ধরছে।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বিদেশি ট্যুরিস্টদের নিকট অব্যহতভাবে হারমোনি ফেস্টিভ্যাল আয়োজনের মাধ্যমে বৈচিত্রময় সংস্কৃতি ও উৎসব তুলে ধরতে চায়। প্রতিবছর এই উৎসব আয়োজন করা হবে। শুক্রবার (১৯ জুন) মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে তিন দিনব্যাপী হারমোনি ফেস্টিভ্যাল সিজন-২ এর শুভ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

পর্যটন শিল্পের বিকাশ, বহুজাতিক সংস্কৃতির সংরক্ষণ এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর ঐতিহ্য তুলে ধরার লক্ষ্যে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের আয়োজনে ও উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় গতকাল বেলা ৪টায় উপজেলার ফুলছড়া চা বাগান মাঠে শুরু হয়েছে ৩ দিনব্যাপী ‘হারমোনি ফেস্টিভ্যাল’ সিজন-২।  

উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম। তিনি বলেন, মৌলভীবাজার জেলার পর্যটন শিল্পের বিকাশে এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জীবন মান উন্নয়নে সরকার নানা উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

আজকের অনুষ্ঠানে বক্তব্যে সংসদ সদস্য ও উপকারভোগীরা যেসব দাবি তুলেছেন আমি প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করব। আশা করছি মৌলভীবাজারের শমসেরনগর বিমানবন্দর চালু, পর্যটন এলাকায় শিল্পকলা একাডেমিসহ অন্যান্য দাবিগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করা হবে।

মন্ত্রী মিজ আফরোজা খানম আরো বলেন, পর্যটন ও সেবা খাতভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি পর্যটন ও সেবা খাতভিত্তিক দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির লক্ষ্যে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অধীন সংস্থা বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড থেকে ন্যাশনাল ট্যুরিজম হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট স্ট্র্যাটেজি নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া দেশের পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশে-বিদেশে প্রচার দেশের পর্যটন আকর্ষণ ও সম্ভাবনাকে দেশে-বিদেশে তুলে ধরতে বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড বিপণন কৌশল অনুসারে স্টেকহোল্ডারদের সমন্বয়ে নানাবিধ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, মৌলভীবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস নাসের রহমান, মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য মো: মুজিবুর রহমান চৌধুরী, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ কানিজ মওলা।

বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব মিজ ফাহমিদা আক্তারের সভাপতিত্বে  অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো: আব্দুর রউফ।

আরো বক্তব্য দেন, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. মশিউর রহমান, ট্যুরিস্ট পুলিশ বাংলাদেশের অতিরিক্ত আইজিপি মো. মাইনুল হাসান, সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি ড. মো. জিল্লুর রহমান, মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক তৌহিদুজ্জামান পাভেল, মৌলভীবাজার পুলিশ সুপার মো. মনিরুল ইসলাম প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের পরিচালক (যুগ্মসচিব) সালেহা বিনতে সিরাজ, ট্যুরিজম বোর্ডের উপ-পরিচালক মহিবুল ইসলাম, শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জিয়াউর রহমান, শ্রীমঙ্গল উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ মহিবুল্লাহ আকনমহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা এবং বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।

আয়োজক সুত্রে জানা যায়, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর বর্ণিল জীবন ও সংস্কৃতির মেলবন্ধন এই হারমোনি ফেস্টিভ্যালে শ্রীমঙ্গল ও কমলগঞ্জ উপজেলার ২৭টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী অংশগ্রহণ করেছে । তারা তাদের নিজস্ব সংস্কৃতি, জীবনধারা, ঐতিহ্যবাহী পোশাক, হস্তশিল্প, খাদ্য ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে দর্শনার্থীদের সামনে নিজেদের কৃষ্টি-কালচার ঐতিহ্য ও বৈচিত্র্য উপস্থান করবে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ জিয়াউর রহমান জানান, এবার বর্ষাকে কেন্দ্র করে আয়োজিত এ উৎসব স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যটকদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে। আগামী ২১ জুন রোববার পর্যন্ত উৎসব চলবে।

উৎসবে নৃ-গোষ্ঠীগুলোর বৈচিত্রময় জীবনাচার, ঐতিহ্যবাহী পণ্য, লোকজ সংস্কৃতি, শৈল্পিক কারুকাজ ও ভিন্নধর্মী সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় স্থান পাবে। এই আয়োজন  দেশের পর্যটন শিল্পের বিকাশে নতুন মাত্রা যোগ করবে এবং ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!