মাগুরার শ্রীপুর উপজেলার হাটদ্বারিয়াপুর সম্মিলনী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামাজিক বিজ্ঞান শাখার সহকারী শিক্ষক মহসিন আলী বিশ্বাসের বিরুদ্ধে অত্র প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ শ্রেণির এক স্কুল ছাত্রছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে উক্ত লম্পট শিক্ষকের বহিষ্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্কুল গেটে তালা দিয়ে ক্লাস বর্জন করেছে শিক্ষার্থীরা। অপরদিকে ঘটনার পর থেকেই শিক্ষার্থী, অভিভাবকবৃন্দ ও এলাকার সচেতনমহল শিক্ষকের বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদসভা অব্যাহত রেখেছেন।
বিক্ষোভ সমাবেশে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের তোপের মূখে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি এবং তিন কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
ভূক্তভোগি পরিবার ও বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়,গত ১৫ জুন দুপুরে পাঠ নিরীক্ষার কথা বলে ষষ্ঠ শ্রেণির জনৈক শিক্ষার্থীকে শ্রেণিকক্ষে ডেকে নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত বুলিয়ে শ্লীলতাহানির ঘটনা ঘটায়।
এ ঘটনার পরপরই ভূক্তভোগি শিক্ষার্থী উক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে এহেন কর্মকান্ডের বিষয়টি প্রধান শিক্ষককে এবং স্কুল থেকে বাড়ি ফিরে অভিভাবককে অবগত করে।
প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক কাজী ইমাম হোসেন ছাত্রীর নিজমূখে বিষয়টি শুনতে পেয়ে তিনি তৎক্ষনাৎ শিক্ষক কাউন্সিলের মিটিং ডেকে অভিযুক্ত লম্পট শিক্ষককে স্কুল থেকে বের করে দেন।
পরবর্তীতে বিষয়টি আরো বেশী জানাজানি হলে শিক্ষার্থীর পরিবার পরিজন, অভিভাবকবৃন্দ ও এলাকার সচেতনমহল ঐক্যবদ্ধ হয়ে ঘটনার সাথে জড়িত শিক্ষকের বহিস্কার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদসভা অব্যাহত রেখেছেন। ঘটনার পর থেকেই লম্পট শিক্ষক পালতক রয়েছেন। এই ধরণের ঘটনা উক্ত শিক্ষকের জীবনে এই প্রথম নয়।
ইতিপূর্বেও তিনি একাধিকবার এই ধরণের ঘটনা স্কুল ছাত্রীর সাথে করে জেল খেটেছেন এবং চাকুরী হারিয়েছেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতে শরণাপন্ন হয়ে চাকুরী ফিরে পেয়ে আবার অনৈতিক কাজে জড়িত হয়ে পড়েছেন। শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকাবাসীর এখন একটাই দাবি উক্ত চরিত্রহীন শিক্ষকের অপসারণ। সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ সমাবেশ চলমান থাকবে বলেও জানান এলাকাবাসী।
এবিষয়ে উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজী ইমাম হোসেন বলেন, ঘটনার বিষয়টি তিনি শিক্ষার্থীর নিজমূখে শুনেছেন এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকেও একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। অভিযোগের ভিত্তিতে উক্ত শিক্ষককে তিন কর্মদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব দিতে শোকজ নোটিশ জারি করা হয়েছে। শোকজ নোটিশের জবাবের উপর নির্ভর করে শিক্ষকের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ ওলি মিয়া বলেন,বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে, ভিকটিমের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেল অবশ্যই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

