AB Bank
  • ঢাকা
  • বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে মৌলভীবাজারে বেড়েছে তালশাঁসের কদর



জ্যৈষ্ঠের দাবদাহে মৌলভীবাজারে বেড়েছে তালশাঁসের কদর

জ্যৈষ্ঠের তীব্র দাবদাহে মৌলভীবাজারজুড়ে বেড়েছে তালশাঁসের চাহিদা। শ্রীমঙ্গল, কমলগঞ্জসহ জেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও সড়কের মোড়ে মোড়ে গড়ে উঠেছে তালশাঁসের অস্থায়ী দোকান। প্রচণ্ড গরমে স্বস্তির খোঁজে এসব দোকানে ভিড় করছেন নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ। সুস্বাদু এই মৌসুমি ফল যেমন দিচ্ছে শীতল প্রশান্তি, তেমনি পুষ্টিগুণেও সমৃদ্ধ। অন্যদিকে তালশাঁস বিক্রি করে বাড়তি আয় করছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, জেলার বিভিন্ন ব্যস্ত এলাকা ও বাজারে ভ্রাম্যমাণ ভ্যানগাড়িতে তালশাঁস বিক্রি করছেন বিক্রেতারা। কেউ কেউ আবার রাস্তার পাশে ছাতা টাঙিয়ে বসেছেন। তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তালশাঁসের চাহিদাও বাড়ছে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে জমজমাট বেচাকেনা। গরমে ক্লান্ত পথচারীদের কাছে কচি তালের শাঁস হয়ে উঠেছে স্বস্তির অন্যতম উৎস। অনেকেই পরিবারের সদস্যদের জন্য বাড়িতেও নিয়ে যাচ্ছেন এই ফল।

শ্রীমঙ্গল শহরের কালিঘাট রোডের তালশাঁস বিক্রেতা মুহাম্মদ কালু গাজী জানান, গরম বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তালশাঁসের বিক্রিও বেড়ে যায়। প্রতি বছর আম-লিচুর মৌসুমে তিনি তালশাঁস বিক্রি করেন। একটি তালে সাধারণত তিনটি, কখনো চারটি শাঁস পাওয়া যায়। আকারভেদে প্রতিটি শাঁস ২০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন।

শহরতলীর মুসলিমবাগ আবাসিক এলাকার সড়কে তালশাঁস বিক্রি করা উবায়দুল্লাহ জানান, বৈশাখের মাঝামাঝি থেকে আষাঢ়ের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত প্রায় দুই মাস তিনি এ ব্যবসা করেন। প্রতিদিন প্রায় ২০০ থেকে ২৫০টি তাল বিক্রি হয়। আকার অনুযায়ী প্রতিটি শাঁস ২০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি করছেন।

কমলগঞ্জ উপজেলার লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় তালশাঁস বিক্রি করা লতিব মিয়া বলেন, এবার গরম বেশি হওয়ায় চাহিদাও বেড়েছে। প্রতিটি তালে দুই থেকে তিনটি শাঁস পাওয়া যায়। বড় তাল ৫০ টাকা এবং ছোট তাল ৩০ টাকায় বিক্রি করছেন। বিক্রি ভালো হওয়ায় লাভও সন্তোষজনক।

মৌলভীবাজার শহরের সিলেট রোডের বিক্রেতা রুহুল ইসলাম জানান, তিনি গ্রামের বিভিন্ন এলাকা থেকে কচি তাল সংগ্রহ করেন। একটি গাছের ফলের আকার ও সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকায় কিনে আনেন। প্রতিটি তাল পাইকারিতে ১০ থেকে ২০ টাকা এবং খুচরায় ৩০ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হয়। প্রতিদিন তার বিক্রি ২ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকার মধ্যে থাকে।

ক্রেতা জহিরুল মিয়া বলেন, “তালের শাঁস সুস্বাদু ও প্রশান্তিদায়ক। গরমের সময় প্রায় প্রতিদিনই খাই, আবার পরিবারের জন্যও নিয়ে যাই।”

রিকশাচালক মনির হোসেন বলেন, “দুপুরের তীব্র গরমে তালশাঁস খেলে শরীরে অনেক আরাম লাগে। এটি তৃষ্ণা মেটানোর পাশাপাশি ক্ষুধাও কমিয়ে দেয়।”

গৃহিণী সায়মা নাসরিন বলেন, “বাচ্চারা তালশাঁস খুব পছন্দ করে। গরমে এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং তৃষ্ণা দূর করে।”

স্কুলশিক্ষিকা তাসলিমা জান্নাতের ভাষ্য, “প্রাকৃতিক এই ফলটি যেমন সুস্বাদু, তেমনি শরীর ঠান্ডা রাখতেও কার্যকর। তাজা ও ফরমালিনমুক্ত হওয়ায় এটি নিরাপদ খাদ্য হিসেবেও জনপ্রিয়।”

তালশাঁসের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে শ্রীমঙ্গলের মেডিসিন, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. মো. নাজেম আল কোরেশী রাফাত বলেন, “তালের শাঁসে প্রচুর জলীয় অংশ ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান রয়েছে, যা গ্রীষ্মকালে শরীরের পানিশূন্যতা দূর করতে সহায়তা করে। এতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন সি, এ এবং বি-কমপ্লেক্সসহ নানা পুষ্টি উপাদান রয়েছে। পাশাপাশি অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে, রক্তশূন্যতা কমাতে এবং দৃষ্টিশক্তি ও রুচি বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।”

গ্রীষ্মের এই সময়ে তালশাঁস একদিকে যেমন মানুষের তৃষ্ণা ও ক্লান্তি দূর করছে, অন্যদিকে বহু ক্ষুদ্র ও মৌসুমি ব্যবসায়ীর জীবিকায়ও নতুন গতি এনেছে। স্থানীয় বিক্রেতাদের আশা, তাপদাহ অব্যাহত থাকলে তালশাঁসের চাহিদা ও বিক্রি আরও বাড়বে।

 

একুশে সংবাদ/এ.জে

সর্বোচ্চ পঠিত - সারাবাংলা

Link copied!