ঈদুল আজহার ঈদযাত্রায় উত্তরের যাত্রীদের এবারও দুর্ভোগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠতে পারে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের যানজট। বিশেষ করে আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের চলমান নির্মাণকাজ, সড়কে যত্রতত্র অটোরিকশা চলাচল এবং ভাঙাচোরা ও এবড়ো-থেবড়ো সড়কের কারণে এবারও ঈদযাত্রায় কয়েকগুণ ভোগান্তির আশঙ্কা করছেন যাত্রী ও পরিবহনসংশ্লিষ্টরা।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কের বাইপাইল থেকে শ্রীপুর পর্যন্ত অংশজুড়ে বর্তমানে চলছে আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের নির্মাণকাজ। সড়কের বিভিন্ন অংশে নির্মাণসামগ্রী, রড, কংক্রিট ব্লক ও ভারী যন্ত্রপাতি রাখার কারণে অনেক জায়গায় রাস্তা সংকুচিত হয়ে পড়েছে। এতে স্বাভাবিক যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং সামান্য চাপ বাড়লেই সৃষ্টি হচ্ছে দীর্ঘ যানজট।
স্থানীয় সূত্র জানায়, মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি পয়েন্টে দিনের বেশিরভাগ সময়ই ধীরগতিতে যানবাহন চলাচল করছে। বিশেষ করে শিল্পাঞ্চল হওয়ায় এ পথে ভারী যানবাহনের চাপও অনেক বেশি। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য ধীরগতির যানবাহনের অনিয়ন্ত্রিত চলাচল, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
আলম নামের এক পরিবহন শ্রমিক বলেন, নির্মাণকাজের কারণে অনেক স্থানে সড়ক সরু হয়ে গেছে। ফলে একটি গাড়ি বিকল হলেই পেছনে দীর্ঘ যানজট তৈরি হচ্ছে। পাশাপাশি রাস্তার পাশে নির্মাণসামগ্রী রাখায় অনেক সময় গাড়ি পাশ কাটিয়ে যেতে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
এ পথের যাত্রীরাও আগের বছরের অভিজ্ঞতা থেকে এবারও দীর্ঘ ভোগান্তির শঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তাদের অভিযোগ, ঈদের সময় প্রশাসনের নানা আশ্বাস থাকলেও বাস্তবে যানজট পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয় না। বিশেষ করে ঈদের আগের শেষ কয়েক দিনে মহাসড়কে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।
তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন রাখতে আগাম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যানজট নিয়ন্ত্রণ ও সড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হাইওয়ে পুলিশের পাশাপাশি বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সদস্যরাও মাঠে কাজ করবেন। গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নজরদারি বৃদ্ধি এবং দ্রুত যানবাহন অপসারণের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্রশাসন।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা) আশুলিয়ার সভাপতি জিএম মিন্টু বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। বিশেষ করে ধীরগতির যানবাহন নিয়ন্ত্রণ এবং নির্মাণসামগ্রী দ্রুত সরানো না গেলে যানজট কমানো কঠিন হবে।
হাইওয়ে পুলিশের ওসি শেখ শাহজাহান জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে বাড়তি যানবাহনের চাপ সামাল দিতে পুলিশ সার্বক্ষণিক মাঠে থাকবে। কোথাও যানজট তৈরি হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে।
তবে নানা উদ্যোগ ও আশ্বাসের পরও নির্মাণকাজ, বাড়তি যানবাহনের চাপ এবং সড়কের বিদ্যমান সমস্যার কারণে নবীনগর-চন্দ্রা মহাসড়কে ঈদযাত্রা কতটা স্বস্তিদায়ক হবে, তা নিয়েই এখন উদ্বেগে রয়েছেন উত্তরের যাত্রীরা।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

