গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নে শিমু বেগম(৪০) নামের এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।। শুক্রবার (২২ মে) বিকালে উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের পালানপাড়া গ্রামের হাড়িপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাস্থল থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।মৃত্যুর এঘটনায় গোটা এলাকাজুড়ে নানা গুজ্ঞন চলছে।
নিহত শিমু বেগম পলাশবাড়ী উপজেলার সুলতানপুর বাড়াই এলাকার খাদেম মেম্বারের মেয়ে এবং হাসানপাড়া গ্রামের আনারুল ইসলামের দ্বিতীয় স্ত্রী। শিমু বেগমের পরিবারের দাবি তাকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, কয়েক মাস আগে শিমু বেগম ও তার স্বামী আনারুল ইসলাম যৌথ ভাবে দুই শতাংশ জমি ক্রয় করে সেখানে বসবাস করে আসছিলেন।ক্রয়কৃত ওই জমি নিজের নামে কবলা করা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে স্বামী - স্ত্রীর মধ্যে বিরোধে সৃষ্টি হয়।
ঘটনার দিনও স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে তুমুল বাগবিতণ্ডা হয় একপর্যায়ে স্বামী আনারুল স্ত্রী শিমু বেগমকে বেধড়ক ভাবে মারপিট করা হয়েছে বলে নিহত শিমু বেগমের মা ও মেয়ে জানান।
বিদ্যমান এপরিস্থিতিতে অনেকেই বলছেন,স্বামী- স্ত্রীর কলহের জেরে সরবামী আনারুলের নির্যাতনে স্ত্রী শিমু বেগমের মৃত্যু হয়েছে।
আবার কেউ কেউ বলছেন দাম্পত্যে কলহে স্বামীর সাথে অভিমান করে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন শিমু বেগম । তবে প্রকৃত ঘটনা এখনও স্পষ্ট নয়।
নিহতের মা কান্নাজড়িত কণ্ঠে অভিযোগ করে বলেন, “আমার মেয়েকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। নতুন জমি কিনে নতুন স্বপ্ন দেখছিল, সে এভাবে নিজে থেকে চলে যেতে পারে না।”
এখবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে শিমুর মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করে তা ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়।
ঘটনার বিষয়ে পুলিশের ভাষ্য, মরদেহে কিছু আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে ।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ধাপেরহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মতিউর রহমান ও তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সুপদ হালদার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।তিনি বলেন, এব্যাপারে থানায় একটি মামলা রুজু করা হয়েছে।মৃত্যুর এঘটনায় অধিকতর তদন্ত চলছে।তদন্তেই রহস্যজনক মৃত্যুর প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা যাবে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

