ছোট বেলা থেকেই নিজেকে আত্মকর্মসংস্থানের সাফল্যে হওয়ার ছিলো লক্ষ্য সে আজ বারোমাসি কাটিমন আম চাষে বাজিমাত করলেন এলাকাজুড়ে এ সফল চাষি বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জের খালকুলা গ্রামের কৃষক হালদার রুহুল মমিন মুকুল। অনলাইনের মাধ্যমে বিষমুক্ত এ আম যাচ্ছে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার শহর থেকে প্রান্তে।
সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে উপজেলার দৈবজ্ঞহাটী ইউনিয়নের খালকুলা গ্রামের কৃষক হালদার রুহুল মমিন মুকুল ছাত্রজীবন শেষ করে নিজ উদ্যোগে আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি অন্যকেও স্বাবলম্বী করার লক্ষে ২০২০ সালে পিতার দুই একর জমিতে আম বাগান গড়ে তোলেন। প্রথমে ১শ’ কাটিমন আম চারা চুয়াডাঙ্গা থেকে এনে রোপন করেন।
প্রথম বছরে খরচ মিটিয়ে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ঘরে তুলতে পেরেছেন এ কৃষক। ওখান থেকে তার বাগানের যাত্রা শুরু পরবর্তীতে আরও ২শ’ কাটিমন চারা বৃদ্ধি করে এখন দাড়িয়েছে ৩শ’ চারা। বিগত কয়েক বছরে আশানুরূপ ফলন হওয়ায় চাহিদা অনুযায়ী কার্তি থাকায় আড়াই লাখ টাকা পর্যন্ত আম বিক্রি করেছেন।
এ বছরে তার এ বাগানে প্রতিটি গাছের ডালে থোকায় ঝুলছে আম। এ যেনো অপরুপ দৃশ্য। আর মাত্র ২ সপ্তাহ পরে গাছ থেকে পাকা আম তুলে নিবে ক্রেতারা। বারো মাসি এ কাটিমন আমের বৈশিষ্ট সুস্বাদু, মিষ্টি ও আটি পাতল হওয়ায় বাজারে এর প্রচুর চাহিদা রয়েছে। বাগান থেকে প্রতি কেজি আম বিক্রি হচ্ছে একশ’ থেকে দেড়শ’ টাকায়।
এ বাগানের আম ক্রয়ের জন্য অন্য জেলা ও উপজেলা থেকে অনলাইন কুরিয়ারের মাধ্যমে আম বাজারজাত করছেন এ সফল কৃষক।
সাফল্যের দ্বারপ্রান্তে এসে এ সফল আম চাষি হালদার রুহুল মমিন মুকুল বলেন, আমাদের এ প্রত্যন্ত অঞ্চলে আমের চাষ তেমন একটা হয়না। লবণাক্ততার কারনে এখন একটু মিষ্টি পানি পাওয়ায় কাটিমন আম চাষ করে ভালো ফলন পেয়েছি। ছাত্রজীবন থেকেই ইচ্ছা জেগেছিলো আত্মকর্মসংস্থান সৃষ্টি করে নিজে কিছু একটা করে সাফল্য অর্জণ করা।
মাছ চাষ থেকে শুরু করে অনেক চাষাবাদ করেছি। সর্বশেষ এসে সফলতা পেয়েছি কাটিমন আম চাষে। দুই একরের আম বাগানে এ বছরে ৩ শ’ গাছে শ্রমীক মজুরি ওষুধ পরিচর্যা খরচ ব্যায় হয়েছে ১ লাখ টাকা। দুই সপ্তাহ পরেই প্রতিদিনই আম বিক্রি হবে মনকে মন। আশা করছি ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা কাটিমন আম বিক্রিতে নামবে।
তিনি সাধারণ মানুষের হাতে বিষমুক্ত এ কাটিমন আম হাতে তুলে দিতে পারায় আত্মতৃপ্তি পাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, সবচেয়ে মজার ব্যাপার ক্রেতারা বাগানে এসে নিজ হাতে আম তুলে নিচ্ছেন প্রতিকেজি ১শ’ টাকায়। অনলাইনের মাধ্যমে ০১৭১৪৫০৯৩৩৭ নম্বরে ফোন করে কুরিয়ারের মাধ্যমে আমন নিতে পারবেন সাধারণ ক্রেতারা।
এ বিষয়ে মোরেলগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, কাটিমন আমের বাজারে প্রচুর চাহিদা থাকায় দামও সাধারণ আমের চেয়ে বেশী। এ উপজেলায় খাউলিয়া, বনগ্রামসহ কয়েকটি ইউনিয়নে ছোট ছোট বাগান করেছে চাষিরা। তবে দৈবজ্ঞহাটীর খালকুলায় কৃষক হালদার রুহুল মমিন মুকুল ব্যাপক চাষাবাদ করে কাটিমন আমের বাম্পার ফলন সাড়া ফেলেছেন গোটা উপজেলায়।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

