পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় যে কয়েকজন প্রবীণ আলেম রয়েছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম হাফেজ আলহাজ মাওলানা আশরাফ আলী (৬৩)। তিনি দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে ভাঙ্গুড়া উপজেলার সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ জামে মসজিদের ইমাম ও খতিবের দায়িত্ব পালন করছেন। শুধু পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পরিচালনাই নয়, এলাকার ধর্মীয় শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে ইমামতির এই বিরল দৃষ্টান্ত এলাকায় গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার জায়গা তৈরি করেছে।
মাত্র ২০ বছর বয়সে ১৯৮৩ সালে ভাঙ্গুড়া উপজেলার হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ জামে মসজিদের ইমামতি শুরু করেন বর্ষীয়ান এই আলেম। এরপর কেটে গেছে দীর্ঘ প্রায় চার যুগ। ইমামতির পাশাপাশি সুবক্তা হিসেবেও তার বেশ পরিচিতি রয়েছে। বিভিন্ন মসজিদে ইমামতির প্রস্তাব পেলেও মুসল্লিদের ভালোবাসা ও মসজিদের প্রতি তার মহব্বতের কারণে তিনি তা গ্রহণ করেননি। ফলে দীর্ঘ ৪৩ বছর ধরে একই মসজিদে ইমামতি করে মুসল্লিদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে নিয়েছেন তিনি।
ইমাম হাফেজ মাওলানা আশরাফ আলী ভাঙ্গুড়া পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের উত্তর মেন্দা এলাকার বাসিন্দা। তিনি বিশিষ্ট আলেম ও সরকারি হাজী জামাল উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ জামে মসজিদের সাবেক ইমাম মরহুম ক্বারী ছানাউল্লাহর ছেলে। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক কন্যা সন্তানের জনক।
স্থানীয় মুসল্লিদের কাছে তিনি একাধারে ইমাম, অভিভাবক এবং আস্থার প্রতীক। অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র এই মানুষটি ছোট-বড় সবার সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলেন। দীর্ঘদিন ধরে একই মসজিদে নিষ্ঠা ও আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করায় তার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা প্রকাশ করছেন মুসল্লিরা। তার খুতবা, নীতি, প্রজ্ঞা ও নিষ্ঠা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে উঠেছে।
ভাঙ্গুড়া পৌরসভার চৌবাড়ীয়া মাস্টারপাড়া এলাকার বাসিন্দা অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণ শিক্ষক আলহাজ শেখ আব্দুস সামাদ মাস্টার বলেন, এই মসজিদে একাধারে ৪৩ বছর ইমামতি করে একটি বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মাওলানা আশরাফ আলী। তিনি মুসল্লিদের সুন্নাহ অনুযায়ী আমলের শিক্ষা দিয়ে আসছেন। তার বয়ানে হালাল-হারাম, সুদ, ঘুষসহ ইসলামের বিভিন্ন বিষয় উঠে আসে। মুসল্লি হিসেবে আমরা তার বয়ান শুনে আমল করার চেষ্টা করি।
হাফেজ আলহাজ মাওলানা আশরাফ আলী একুশে সংবাদ ডটকমকে বলেন, মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমতে কয়েক যুগ ধরে এই মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করে আসছি। এখানকার মানুষজন ও মাটির সঙ্গে গভীর মায়া-মহব্বতের কারণে মসজিদ ছেড়ে যেতে পারিনি। মুসল্লিদের ভালোবাসা ও সম্মান পেয়ে আমি মুগ্ধ। ইমানের সঙ্গে বাকি জীবন এ মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করে যেতে চাই।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

