AB Bank
  • ঢাকা
  • মঙ্গলবার, ০৯ জুন, ২০২৬,

সরকার নিবন্ধিত নিউজ পোর্টাল

Ekushey Sangbad QR Code
BBS Cables
Janata Bank
  1. জাতীয়
  2. রাজনীতি
  3. সারাবাংলা
  4. আন্তর্জাতিক
  5. অর্থ-বাণিজ্য
  6. খেলাধুলা
  7. বিনোদন
  8. শিক্ষা
  9. তথ্য-প্রযুক্তি
  10. অপরাধ
  11. প্রবাস
  12. রাজধানী

ধামরাইয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ আসামি ২০, গ্রেপ্তার সমন্বয়কারী


Ekushey Sangbad
নাজমুল করিম, সাভার, ঢাকা
০৭:০৯ পিএম, ১২ এপ্রিল, ২০২৬

ধামরাইয়ে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতাসহ আসামি ২০, গ্রেপ্তার সমন্বয়কারী

ঢাকার ধামরাইয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দলীয় নেতাকর্মীদের দুই গ্রুপের সংঘর্ষের ঘটনায় তলের উপজেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী নাজমুল হককে (২৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

এ ঘটনায় এনসিপির এক নেতা বাদি হয়ে দলের এক কেন্দ্রীয় নেতাসহ ২০ জনকে আসামি করে মামলা করেছেন। রবিবার সকালে তাকে ঢাকার আদালতে পাঠানো হয় বলে জানান ধামরাই থানার ওসি মো. নাজমুল হুদা খান।

এর আগে, গতকাল শনিবার রাতে ধামরাই থানায় এস এম শামিউর রহমান নামে এক ব্যক্তি বাদি হয়ে ১৫ জনের নাম উল্লেখসহ ২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। রাতেই অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

গ্রেপ্তার নাজমুল হক জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ধামরাই উপজেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী।

মামলায় অন্য আসামিরা হলেন- ইসরাফিল ইসলাম খোকন (৩৪), নাজমুল হক (২৮), সরোয়ার জাহান সিদ্দিক (২২), সামিউল ইসলাম লিমন (২২), আসাদুল ইসলাম মুকুল (৩২), মেহেদী হাসান হৃদয় (২৬), আ্যাড. শাওন (৩০), আমানউল্লাহ শিব্বির (২৬), রনি আহমেদ (২৬), মুফতি শহীদুল্লাহ্ শুয়াইব (৩৩), জুলকার নাইন (৪২), আশিকুর রহমান (২৫), নাসিরুদ্দিন লিটন (২৫), এস পি জাহিদ (২৪), আরাফাত আমিন বর্ষন (২৪) ও অজ্ঞাত অন্তত পাঁচজনসহ মোট ২০ জন।

এরমধ্যে আসাদুল ইসলাম মুকুল জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও অন্যান্যরা ধামরাই উপজেলার নেতাকর্মী। তারা ধামরাইয়ের বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১০ এপ্রিল বিকেলের দিকে ধামরাইয়ের কালামপুর এলাকায় জাতীয় নাগরিক পার্টির ঢাকা জেলা উত্তর কমিটির আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে প্রেস ব্রিফিং ও অস্থায়ী কার্যালয় উদ্বোধন করা হয়। এতে এনসিপির ঢাকা জেলা উত্তর কমিটির শীর্ষ নেতৃত্বসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী ও চব্বিশের শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত হন।

একপর্যায়ে ৫ নম্বর আসামি আসাদুল ইসলাম মুকুল, ৭ নম্বর আসামি আ্যাড. শাওন ও আরও এক নেতার হুকুমে ১ নম্বর আসামির নেতৃত্বে ১-৪, ৬-৯, ১১ ও ১৩ নম্বর আসামিসহ অন্তত ২০ জন  হাতুড়ি, কাঠের টুকরা, ইট ও রড দিয়ে অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করে হামলা করে। একজন শহীদের মায়ের ওপর হামলা করলে তিনি পড়ে যান, তাকেও মারধর করা হয়।

একপর্যায়ে ২ নম্বর আসামি ব্যানার ছিঁড়ে ফেলেন, অন্যান্যরা টেবিল, চেয়ার, ভাংচুর করে ও নেতাকর্মীদের ওপর হামলা করে। এ সময় এমদাদ নামে একজনকে তুলে নিয়ে মারধর করতে থাকে। তার মুঠোফোন ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া মামলার বাদি এস এম শামিউর রহমানকেও মারধর করে তাকে রক্তাক্ত জখম করে। তার স্বর্ণের আঙটি ও মানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পরবর্তীতে পুলিশ এলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। এ সময় আজাহারুল ইসলাম, মফিদুল ইসলামসহ ১৫ জন আহত হন, এরমধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ আল মামুন বলেন, মামলার পরিপ্রেক্ষিত অভিযান চালিয়ে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

কি ঘটেছিল সেদিন?

গত শুক্রবার বিকেলে ধামরাইয়ের কালামপুর এলাকায় একটি কার্যালয় উদ্বোধন ও ঢাকা জেলা উত্তর এনসিপির নবগঠিত কমিটির আত্মপ্রকাশ উপলক্ষে প্রেস ব্রিফিং আয়োজন করা হয়। এ সময় সেখানে উপস্থিত হন এনসিপির পদবঞ্চিত একদল নেতাকর্মী।

ধামরাই উপজেলা শাখার নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, গত বৃহস্পতিবার ঢাকা জেলা উত্তরের কমিটির হোয়াটসআপ গ্রুপের মাধ্যমে ধামরাইয়ের কালামপুরে ধামরাই উপজেলার প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন করা হবে বলে জানতে পারেন ধামরাই উপজেলা শাখার নেতা-কর্মীরা। ২০২৪ সালে গণঅভ্যত্থানের পর থেকে উপজেলার ঢুলিভিটা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কার্যালয় থাকা সত্বেও নতুন কার্যালয় উদ্বোধনের উদ্যোগ নেওয়ায় ক্ষিপ্ত হন উপজেলা কমিটির নেতা-কর্মীরা। বিকেল ৪ টার দিকে কালামপুরের এনসিপি ধামরাই উপজেলার প্রধান কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে উপস্থিত এনিসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদের সঙ্গে এবিষয়ে জানতে চাইতে গেলে তাদের উপর হামলার ঘটনা ঘটে।

এই বিষয়ে ওই ঘটনার পর শুক্রবার বিকেলে ধামরাই উপজেলা শাখার প্রধান সমন্বয়কারী ইসরাফিল ইসলাম খোকন বলেন, চলতি মাসের শুরুর দিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ঢাকা জেলা উত্তরের কমিটি গঠন করা হয়। তবে কমিটি গঠনের সময় এনিসিপির সাভার উপজেলা, আশুলিয়া থানা ও ধামরাই উপজেলা শাখার শীর্ষ নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কোন আলোচনা ছাড়াই ঢাকা জেলা উত্তরের কমিটি গঠন করা হয়। এতে ওই সময়েই ক্ষিপ্ত হন এ তিন শাখার নেতা-কর্মীদের অনেকে।

যদিও ঢাকা জেলা উত্তরের কমিটির নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, কার্যালয় উদ্বোধন অনুষ্ঠানে একটি পক্ষ উদ্দেশ্যমূলকভাবে হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা জুলাইকে পুঁজি করে ব্যবসা করে আসছিলেন, কমিটিতে পদ না পেয়ে তারা এ ধরনের ঘটনা ঘটিয়েছেন।

এনিসিপির ঢাকা জেলা উত্তরের আহ্বায়ক নাবিলা তাসনিদ বলেন, কমিটি আত্মপ্রকাশের কারণে অনেকের জুলাই ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে সেই ক্ষোভ থেকে তারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে। জুলাই ব্যবসায়ীদেরকে এনসিপি কোনভাবেই সমর্থন করে না। যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে, সাধারণ মানুষের ওপর এবং যারা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালিয়েছে জুলাই শহীদদের পরিবারের ওপর, তাদেরকে এনসিপি কোনোভাবেই সমর্থন করে না। এছাড়া এ ঘটনায় নবগঠিত কমিটির ১০জন আহত হয়েছে বলে জানান তিনি।

বিবাদ দীর্ঘ দিনের

২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকার পতনের আন্দোলনের সম্মুখসারিতে থাকা কর্মীরা সেপ্টেম্বর মাসের দিকে জাতীয় নাগরিক কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটির নেতাকর্মীরাই পরবর্তীতে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রতিষ্ঠা করেন।

ঢাকা উত্তর সাভার, আশুলিয়া, ধামরাই অঞ্চলে সেই কমিটির নেতৃত্ব দেন স্থানীয় কর্মী ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল কর্মীরা। ঢাকার ধামরাইয়ে শুরুর দিক থেকেই এই নেতাকর্মীদের নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন আসাদুল ইসলাম মুকুল। ২০২৫ সালে এনসিপি প্রতিষ্ঠা করা হলে এতে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য হন তিনি। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-২০ ধামরাই আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতেও প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

তবে শেষ মুহুর্তে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অপরিচিত মুখ নাবিলা তাসনিদকে ঢাকা-২০ আসনে মনোনয়ন দেয় এনসিপি। ওই সময় দলের কোনো পর্যায়ের কমিটিতে কোনো পদবি ছিল না তার।

এর পরপরই ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে সংবাদ সম্মেলন করে এনসিপির ধামরাই শাখার নেতাকর্মীরা অভিযোগ করেন, নাবিলা তাসনিদের সঙ্গে এনসিপির ধামরাইয়ের নেতাকর্মীরা কেউ পরিচিত নন, তিনি আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য। জুলাই আন্দোলন ও পরবর্তী সময়ে সংগঠনের কোনো কার্যক্রমেই তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। এসবের জেরে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়।

এছাড়া পরবর্তীতে দেখা যায়, নাবিলা তাসনিদ ধামরাইয়ের বাসিন্দা নন, তিনি ধামরাইয়ের ভোটারও নন। এছাড়া তার জন্মস্থান খুলনায়। এসব নিয়েও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান এনসিপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা।

ত্রয়োদশ নির্বাচনে বিএনপির তমিজ উদ্দিনের কাছে এক লাখের বেশি ভোটে পরাজিত হন নাবিলা তাসনিদ। নির্বাচনের প্রায় দুই মাস পর রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে এসে এবার নেতাকর্মীদের বাঁধার মুখে পড়তে হলো তাকে।

 

একুশে সংবাদ/ওজি

Link copied!