দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও তৃণমূল মানুষের জীবনমান উন্নয়নের সুস্পষ্ট রূপরেখা নিয়ে বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান পদে লড়ছেন ফারজানা আক্তার (মুন্সি)। সাবেক এই ছাত্রনেত্রী এবং বর্তমান উপজেলা মহিলা জামায়াতের সভানেত্রী তাঁর রাষ্ট্রবিজ্ঞানের জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে সাধারণ মানুষের অধিকার নিশ্চিত করতে চান।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানে বিএসএস (অনার্স) সম্পন্ন করা ফারজানা আক্তারের মতে, শুধু প্রতিবাদ করে সবকিছুর সমাধান হয় না, ক্ষমতার কাঠামোতে যুক্ত থেকে সমাজ ও মানুষের জন্য কাজ করতে হয়। সেই তাগিদ থেকেই তাঁর এই নির্বাচনে অংশগ্রহণ।
চার দফা মূল লক্ষ্য
চিতলমারী উপজেলার সার্বিক উন্নয়নের জন্য ফারজানা আক্তার চারটি মূল লক্ষ্যের কথা জানিয়েছেন। প্রথমত, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া। দ্বিতীয়ত, নারীর অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা বৃদ্ধি ও পুরুষদের কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি। তৃতীয়ত, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে দুর্নীতিমুক্ত অবকাঠামো উন্নয়ন। এবং চতুর্থত, কৃষিনির্ভর চিতলমারীর কৃষিকে লাভজনক ও টেকসই করতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন।
নারীর ক্ষমতায়ন ও অধিকার আদায়
তৃণমূল নারীদের দৈনন্দিন লড়াইয়ের কথা গভীরভাবে অনুভব করেন জানিয়ে এই প্রার্থী বলেন, মেয়েদের ঘরমুখী করে রাখার পুরোনো মানসিকতা তিনি ভাঙতে চান। উচ্চশিক্ষায় উৎসাহ প্রদান এবং সেলাই ও হস্তশিল্পের মতো কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নারীদের স্বাবলম্বী করা তাঁর অন্যতম লক্ষ্য। এছাড়া নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতে ‘নারী সহায়তা কেন্দ্র’ স্থাপন, আইনি ও মানসিক কাউন্সেলিং এবং যৌতুক ও পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
মাদক নির্মূল ও তরুণদের কর্মসংস্থান
চিতলমারীর প্রধান তিন সমস্যা হিসেবে বিশুদ্ধ পানির অভাব, মাদকের বিস্তার এবং কর্মসংস্থানের সংকটকে চিহ্নিত করেছেন ফারজানা আক্তার। ছাত্ররাজনীতির অভিজ্ঞতা থেকে তিনি মনে করেন, হতাশা ও বেকারত্ব থেকেই তরুণরা মাদকে ঝুঁকছে। তাই তরুণ সমাজকে মাদকমুক্ত রাখতে খেলার মাঠ বৃদ্ধি ও সংস্কার, সুস্থ বিনোদনের ব্যবস্থা এবং তরুণদের নেতৃত্বেই মাদকবিরোধী ক্লাব গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁর। আসক্তদের পুনর্বাসনে পরিবারকেন্দ্রিক কার্যক্রম হাতে নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি
দুর্নীতি রোধে জনসম্পৃক্ততার ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, নির্বাচিত হলে উপজেলা পরিষদকে একটি তথ্যকেন্দ্রে পরিণত করা হবে—যেখানে মানুষ দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সেবা পাবে। উন্নয়ন প্রকল্পের তথ্য নোটিশ বোর্ড ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হবে। এছাড়া জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রতি তিন মাস অন্তর উন্মুক্ত জনশুনানির আয়োজন করবেন তিনি।
পরিবেশ ও কৃষি রক্ষা
নদী ও খাল দূষণ রোধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন ফারজানা আক্তার। বিশেষ করে খালের পাড়ে গড়ে ওঠা ক্লিনিকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতে আইনি পদক্ষেপ এবং নদীর দুই পাড়ে বৃক্ষরোপণ তাঁর পরিকল্পনার অংশ। পাশাপাশি কৃষকদের জৈব সারের ব্যবহার বৃদ্ধিতে উৎসাহ ও সহজলভ্যে কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে চান তিনি। তাঁর মতে, উন্নয়ন মানে শুধু পাকা রাস্তা নয়, আমাদের নদী ও কৃষক বাঁচানোও উন্নয়নের অংশ।
জনগণের কাছাকাছি থাকার প্রতিশ্রুতি
সাধারণ মানুষের কাছে সহজলভ্য হতে প্রতি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে গণশুনানি, মাসে অন্তত দুটি ইউনিয়ন সরাসরি পরিদর্শন এবং অবহেলিত নারীদের জন্য আলাদা সাক্ষাতের সময় নির্ধারণ করার কথা জানিয়েছেন এই প্রার্থী। এছাড়া অভিযোগ জানানোর জন্য একটি হেল্পলাইন বা হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর চালু রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
ভোটারদের প্রতি বার্তা
নির্বাচনী মাঠে সাধারণ মানুষের, বিশেষ করে নারীদের ব্যাপক সাড়া পাচ্ছেন জানিয়ে ফারজানা আক্তার বলেন, কেউ কেউ নারী প্রার্থীকে দুর্বল মনে করেন। কিন্তু এই মানসিকতা পরিবর্তন করাটাই আমার লড়াইয়ের অংশ।
ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের ভোট শুধু একটি প্রতীকে সিল মারা নয়, এটি এলাকার ভবিষ্যতের জন্য একটি সিদ্ধান্ত। আমি আপনাদেরই একজন, আপনাদের কষ্ট বুঝি। আমাকে সুযোগ দিন, প্রমাণ করব একজন সৎ, শিক্ষিত ও নিবেদিতপ্রাণ নারী জনপ্রতিনিধি চিতলমারীর চেহারা বদলে দিতে পারে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

