বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলায় স্ত্রীর পরকীয়া, অপহরণ, লুটপাট ও মিথ্যা মামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিশানবাড়ীয়া ইউনিয়নের পশ্চিম গুলিশাখালী এলাকায় এ ঘটনায় ভুক্তভোগী স্বামী মো. রাসেল আকন (৩৫) থানায় অভিযোগ এবং পরবর্তীতে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রাসেল আকনের স্ত্রী ঝুমুর আক্তার (৩০) একজন গৃহিণী। স্থানীয় ফোরকান তালুকদার (৩৬) দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে। তিনি খোকন মুন্সি (৫০)-এর সহযোগিতায় প্রায়ই রাসেলের বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং একপর্যায়ে ঝুমুর আক্তারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী।
রাসেল আকনের অভিযোগ, বিষয়টি টের পেয়ে তিনি ফোরকানকে বাড়িতে আসতে নিষেধ করলে তাকে মারধর ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এতে নিরাপত্তাহীনতায় তিনি কিছুদিন বাড়ির বাইরে অবস্থান করেন।
তিনি আরও জানান, গত ২৯ মার্চ ২০২৬ সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে তার অনুপস্থিতিতে ফোরকান তালুকদার ও খোকন মুন্সি তার বাড়িতে প্রবেশ করেন। এ সময় তারা ভয়ভীতি ও প্রলোভন দেখিয়ে তার স্ত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যান। একই সঙ্গে ঘরে থাকা নগদ অর্থ ও আসবাবপত্র লুট করে নেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
রাসেলের দাবি, জীবিকার তাগিদে চট্টগ্রামে অবস্থানকালে তার স্ত্রীর সঙ্গে ফোরকানের অবৈধ সম্পর্ক প্রায় এক বছর ধরে চলছিল। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার পর তার স্ত্রী তার সঙ্গে খারাপ ব্যবহার শুরু করেন এবং বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে থাকেন।
তিনি অভিযোগ করেন, ফোরকানের প্ররোচনায় তার স্ত্রী ৫০ হাজার টাকার দেনমোহর জাল কাবিননামার মাধ্যমে ৩ লাখ টাকা দাবি করেন। এছাড়া তাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে ১৫ দিন কারাভোগ করানো হয় বলেও দাবি করেন তিনি।
আরও অভিযোগ করে রাসেল বলেন, সম্প্রতি তার স্ত্রী ও ফোরকান তার কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তারা তার বাড়িতে লুটপাট চালায়। বর্তমানে তিনি তাদের ভয়ে বাড়িছাড়া হয়ে আছেন।
স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি খোকন মুন্সির বিরুদ্ধে ফোরকানকে সহযোগিতা করার অভিযোগ তুলে রাসেল বলেন, তাদের প্রভাবে এলাকায় মাদক ব্যবসা, জমি দখলসহ নানা অপকর্ম চলছে।
এছাড়া তিনি অভিযোগ করেন, থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তা গ্রহণ না করে মীমাংসার পরামর্শ দেওয়া হয়। পরে বাধ্য হয়ে তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন।
তিনি আরও দাবি করেন, তার স্ত্রী বর্তমানে মাদক-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছেন এবং তাকে দিয়ে মাদক ব্যবসা করানোর চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে স্থানীয় এক পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের সহযোগিতার অভিযোগও তোলেন তিনি।
অন্যদিকে, মোরেলগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, “লুটপাটের বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে এবং দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি উঠেছে।
একুশে সংবাদ/যাবিদ



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

