গভীর শোক, শ্রদ্ধা ও ইতিহাসের দায়বদ্ধতার আবহে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে পালিত হয়েছে ২৫ মার্চ গণহত্যা দিবস। দিবসটি উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভা স্মৃতিময় এক মঞ্চে পরিণত হয়। সেখানে ফিরে দেখা হয় বাঙালির ইতিহাসের এক বিভীষিকাময় রাত এবং উচ্চারিত হয় ভবিষ্যতের প্রতি দায়বদ্ধতার প্রত্যয়।
বুধবার (২৫ মার্চ) সকাল ১১টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ আশিক কবির। সভায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, সাংবাদিক ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় বক্তারা ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের সেই ভয়াল কালরাতের নির্মমতা তুলে ধরেন। যে রাতে নিরস্ত্র বাঙালির ওপর নেমে এসেছিল ইতিহাসের এক নৃশংস হত্যাযজ্ঞ। তারা বলেন, এ দিনটি শুধু শোকের নয়, বরং প্রতিরোধ ও স্বাধীনতার চেতনায় উদ্ভাসিত হওয়ার দিন। শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়েই অর্জিত হয়েছে আমাদের স্বাধীনতা—এই উপলব্ধি নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দিতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, ইতিহাস ভুলে গেলে জাতি পথ হারায়। তাই তরুণদের কাছে মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস তুলে ধরা এবং গণহত্যার ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করা সময়ের দাবি। তারা সবাইকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের পুরো সময়জুড়ে ছিল নীরব গাম্ভীর্য। যেন প্রতিটি উচ্চারণে ভেসে উঠছিল শহীদদের আত্মত্যাগের গল্প। স্মৃতিচারণের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করা হয়।
২৫ মার্চ শুধু একটি তারিখ নয়; এটি বাঙালির শোক, সংগ্রাম ও জাগরণের প্রতীক। মুকসুদপুরের এই আয়োজন সেই ইতিহাসকেই নতুন করে মনে করিয়ে দিল—প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে বহমান থাকুক স্বাধীনতার চেতনা।
একুশে সংবাদ/এ.জে



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

