গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার সাদুল্লাপুর- নলডাঙ্গা-জনগুরুত্বপূর্ন পাকা সড়কটি সরু হওয়ায় সকল প্রকার যানবাহনসহ পথচারীদের চলাচলে সীমাহীন দূর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। এতে প্রতিনিয়তই ঘটছে ছোট বড় দূর্ঘটনা।
সড়কটির এমন দশায় বিশেষ করে স্কুল কলেজগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের চলাচলের ঝুঁকিতে অভিভাবকগণ রয়েছেন চরম আতঙ্কে। এমতবস্থায় সকল ধরনের দূর্ঘটনার কবল থেকে রক্ষা পেতে সড়কটি প্রশস্তকরনের দাবি জানিয়েছেন এ এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারন।
স্থানীয়রা জানান, ব্যস্ততম সড়কটি দিয়ে দিবারাত্রি ভারী হালকা পণ্যবাহী পিকআপ-ট্রাক ও দুরপাল্লার যাত্রীবাহী ঢাকাগামী বাস কোচ,মাইক্রোবাস, সিএনজি ও মোটর সাইকেলসহ বিভিন্ন ধরনের অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে।
এসব যানবাহন যোগে এ এলাকার হাজার হাজার মানুষজন প্রয়োজনের তাগিদে নানা কাজে এই সড়কটি দিয়ে প্রতিনিয়ত রাজধানী ঢাকা,জেলা শহর গাইবান্ধা ও উপজেলা শহর সাদুল্লাপুর সহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করে থাকেন।
কিন্তু সড়কটি সরু হওয়ায় দুরপাল্লার বাস কোচ ও ট্রাক মুখোমুখি ক্রসিংয়ের সময় কিংবা পিছন থেকে অতিক্রম করা খুবই দুস্কর হয়ে পড়ছে।
তবুও চালকেরা সাবধানতার সাথে অনেক কষ্টে মারাত্নক ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এ অবস্থায় অনেক সময় বাস, ট্রাক, পিকআপ ও মাইক্রোবাস মুখোমুখি হলে তা ধীর গতিতে পাশ কাটাতে ৫ থেকে ১০ মিনিট পর্যন্ত সময় লাগে। এ সময় গোটা সড়কটি বন্ধ হয়ে যায়। বিদ্যমান এ পরিস্থিতিতে কোন পথচারী ও অন্যকোন যানবাহন চলাচলের আর কোন উপায় থাকেনা।
এরই মধ্যে মুহুর্তেই সড়কের দুই দিকে বিভিন্ন ধরনের শত শত যানবাহন আটকা পড়ে সৃষ্টি হয় বিশাল যানযটের।
এ নিয়ে বাস ট্রাকের চালক ও হেলপারদের সাথে প্রায়ই পথচারীদের তুমুল বাগবিতন্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
বাস চালক জিয়াদুল ইসলাম বলেন,সড়কটি চিকন হওয়ায় স্বাভাবিক গতিতেও গাড়ী চালানো যায় না।
এরমধ্যে আবার কোন গাড়ী সামনাসামনি হলে ক্রসিং করার সময় সড়কের এককোণে চাপিয়ে ঝুঁকিপূর্ন ভাবে ক্রস করতে হয়।
স্থানীয় ব্যাটারীচালিত ভ্যান ও অটোবাইক চালক, জাহিদুল মিয়া ও এনামুল বলেন,সড়কটি ছোট হওয়ায় বাস-ট্রাক সামনাসামনি কাটাকাটি করার সময় আমরা আর ভ্যান নিয়ে যেতে পারি না। যাত্রী নিয়ে বেশ কিছুক্ষন দাড়িয়ে থাকতে হয়। এ সময় যাত্রীরা অনেকটা বিরক্তবোধ করেন।
এদিকে স্থানীয়দের অভিযোগ,এমনিতেই সড়কটি সরু।তার ওপর আবার বন্দর এলাকার অনেক ব্যবসায়ীরা সড়কের দুপাশে অবৈভাবে দখল করে নিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্থাপনা গড়ে তুলছেন।এছাড়া নলডাঙ্গা রেলস্টেশন এলাকার ভাঙারী ব্যবসায়ী আশরাফ আলী কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে নিজের খেয়াল খুশিমত প্রায়ই সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তার ব্যবসা ঘরের সামনে সড়কের অর্ধেকটা দখল করে ট্রাক কিংবা পিকআপ দাঁড় করে লোহা লক্কর বোঝাই করে থাকেন।
এবিষয়ে তাকে কেউ কিছু বললেই তিনি ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে ধমক দিয়ে থামিয়ে দেন।শুধু তাই নয় স্থানীয় কিছু সংখ্যক ধান, চাল, ভুট্রা ও গালামাল ব্যবসায়ীরাও সকাল সন্ধ্যা সড়কটির ওপর ঘন্টার পর ঘন্টা পিকআপ ও ট্রাক দাঁড় করিয়ে মালামাল লোড আনলোড করায় তীব্র যানযটের সৃষ্টি করছে বলে স্থানীয়দের মধ্যে অভিযোগ উঠেছে।
এলাকার আঃ ছাত্তার নামের একব্যক্তি আক্ষেপ করে বলেন,এমনিতে রাস্তা ছোট তারমধ্যে আবার এখানকার ব্যবসায়ীরা দিনরাত রাস্তার ওপর ট্রাক পিক রেখে মালামাল উঠানামা করায় মানুষের স্বাভাবিক চলাচলে চরম বিঘ্ন ঘটে। এপরিস্থিতিতে যেকোন মুহুর্তে ঘটতে পারে মারাত্নক জীবনহানিকর দুর্ঘটনা।
তাই সড়কটি বড় করা খুবই দরকার। ওই সড়কে চলাচলকারী বাইসাইকেল আরোহী জহির মিয়া জানান,ছোট এই সড়কে বড় কোন গাড়ী দেখলে ভয়ে সাইকেল থেকে লাফ দিয়ে নেমে সড়কের এক কোণে গিয়ে দাড়িয়ে থাকতে হয়। পথচারী আমিনুল, আনোয়ার হোসেন, নুরুল আমিন,রহিম উদ্দিন সহ অনেকেই বলেন, কিছু কিছু বাস ট্রাক ও মোটর সাইকেল যেভাবে বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে এতে যেকোন মুহুর্তে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে।
নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ফুল মিয়া বলেন,সরু এই সড়কটিতে পথচারী ও বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চাপ অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে যাওয়ায় বন্দরের গুরুত্বপূর্ন স্থানগুলোতে তীব্র যানযটের সৃষ্টি হয়। এ অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে সড়কটি প্রশস্তকরন একান্ত অপরিহার্য। এ ব্যাপারে ইউনিয়ন পরিষদের মিটিংয়ে প্রায়ই আলোচনা করা হয়।
নলডাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল গফুর বলেন, সড়কটি ঝুঁকিপূর্ন হলেও এটি আমাদের ইউনিয়ন পরিষদের আওতধীন নয়। এক্ষেত্রে আমাদের কিছু করার নেই। তবে এর আগে এ বিষয়ে উপজেলা পরিষদের সভায় আলোচনা হয়েছে।
একুশে সংবাদ/ওজি



একুশে সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

